আজ , ।   

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: আইনমন্ত্রী

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেভাবে দেখা হচ্ছে, বাংলাদেশও বিষয়টিকে সেভাবেই দেখছে। এটি মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী ও নাগরিক। তাই তাদের মানবাধিকার রক্ষায় দেশটির সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে রোহিঙ্গারা তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরেছিল, পরবর্তী সরকারগুলো সেভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করেনি বা করতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর তাগিদ

আসাদুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাওয়ার আগে দেশের জনগণের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা জরুরি।

তার মতে, দল-মত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। দেশের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে কোনো উদ্যোগকে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদেও নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কীভাবে বিভিন্ন বিষয় মোকাবিলা করা হবে, সে বিষয়ে সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদেও নির্দেশনা রয়েছে।

মানবিক দৃষ্টিকোণেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয়

আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট হলেও বাংলাদেশ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের কারণে বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিরোধে পরিণত হয়েছে—এমনটা মনে করার কারণ নেই। “এটি মানবাধিকারের বিষয়। মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকেই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে,” বলেন তিনি।

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে জাতীয় ঐকমত্যের জায়গায় নিয়ে আসা গেলে তা কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। এ লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছেন।

নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবাধিকারে গুরুত্ব

বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এ কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে কূটনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলোও সমানভাবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার যাতে কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সেদিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান খুন-জখম ও অপরাধের প্রবণতাও মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন ও ওয়াচডগ হিসেবে তাদের সুপারিশ জাতীয় কমিটির কাছে তুলে ধরতে হবে।

রোহিঙ্গারা মানুষ, তাদের মানবাধিকার রয়েছে

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাংলাদেশ হস্তক্ষেপ করতে চায় না উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি কোনো হস্তক্ষেপ নয়। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নয়, এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠীও নয়। কিন্তু তারা মানুষ এবং তাদের মানবাধিকার রয়েছে।”

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সংস্কৃতিগত ও নৃতাত্ত্বিকভাবে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ওই ভূখণ্ডের অধিবাসী। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনেও তাদের কিছু সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য প্রফেসর এস কে তৌফিক এম হক, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. শাকিল আহম্মেদ, রোহিঙ্গা নারী অধিকারকর্মী রাজিয়া সুলতানাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -