বিশেষ প্রতিনিধি: দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে উত্তরা তৃতীয় ফেজে সাংবাদিক কোটায় পাঁচ কাঠা প্লটের জন্য করা একটি আবেদন চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৩ সালে হাইকোর্ট আবেদনটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিবেচনা ও নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও প্রায় ১৩ বছর পরও বিষয়টির চূড়ান্ত প্রশাসনিক নিষ্পত্তি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারি সাংবাদিক সৈয়দ এল. আলী বাহরাম। তবে এ মামলার উল্লেখযোগ্য দিক হলো—বিষয়টি শুধু আবেদনকারির দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজউকের নিজস্ব Note Sheet, Loose File No. 004/2025 এবং ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের আইন শাখার মতামতে হাইকোর্টের রায়, পরবর্তী আদালত অবমাননার পিটিশন এবং আবেদনটির আইনগত অবস্থান পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে।
রাজউকের নথি অনুযায়ী দেখা যায়, ১১ ডিসেম্বর ২০০৮ সালে সাংবাদিক কোটায় উত্তরা তৃতীয় ফেজে পাঁচ কাঠা প্লটের জন্য আবেদন করেন সৈয়দ এল. আলী বাহরাম। এ সময় অগ্রিম হিসেবে ১ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে তিনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। রিট পিটিশন নং ১৫৬৮৮/২০১২-এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মে ২০১৩ হাইকোর্ট রায় দেন। রাজউকের বর্তমান নথিতে উদ্ধৃত রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তারিখের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের চিঠির Serial No. 4-এর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আবেদনকারীর আবেদনটি রায়ের কপি পাওয়ার তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিবেচনা ও নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
তারপরও রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবেদনকারি ২০১৭ সালে কনটেম্পট অব কোরট মামলা করেন। ২০২৫ সালের রাজউক Note Sheet-এও এ আদালত অবমাননার কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টির আইনগত অবস্থান যাচাই করতে নথি রাজউকের আইন শাখায় পাঠানো হয়। পরে ২৪ এপ্রিল ২০২৫ আইন শাখা নিজস্ব আইনগত মতামত প্রদান করে। তারপরও তিনি বরাদ্দ পাননি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দীর্ঘ ১৭ বছর পরও হাইকোর্টের নির্দেশ এবং ২০২৫ সালের রাজউকের নিজস্ব আইনগত মতামতের আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কবে আবেদনটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন? অতিসম্প্রতি আবেদনকারি রাজউকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি বিষয়টির ওপর মতামত দেওয়ার জন্য সদস্য (সম্পত্তি)-িএর কাছে পাঠান।রাজউকের সদস্য (সম্পত্তি) মতিউর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলি তিনি বলেন, অমি ফাইলটির ওপর আইন বিভাগের মতামত নিয়ে চেয়াম্যানের দফতরে জমা দেব। এরপর প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

