নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করা হবে। এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে ইতোমধ্যে একাধিক সংলাপ ও পরামর্শ হয়েছে। কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা হবে। অফলাইন ও অনলাইন—দুই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা অর্জন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এ কাজে বেসরকারি খাতকেও সরাসরি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, উদ্যোগটি প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারা থেকে পিছিয়ে না পড়েন, সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিতদের জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক ভাগ্য পরিবর্তন এবং নাগরিক সমস্যার টেকসই সমাধানের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রশাসনিক জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা আরও জোরালো হয়েছে। প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সরকারের প্রথম বাজেটের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটাসহ সাতটির বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সরকার কঠোর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে জানান তিনি। সম্প্রতি একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) কারিগরিভাবে বিকল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা পাঁচ-ছয় মাসে শতভাগ সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের দিকনির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীদাররা কাজ করছেন, যাতে জ্বালানি খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ে।
পাশাপাশি দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের কথা জানান মাহদী আমিন।
তিনি জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা ও সামাজিক মূল্যবোধে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মী ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ চালু এবং অভিন্ন পোশাকের ব্যবস্থা করা হবে। শহরের বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সুবিধা গ্রামের শিক্ষার্থীদের কাছেও পৌঁছে দিতে শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল সাম্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মর্যাদা বৃদ্ধিতেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় খাল খননের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে শহর ও গ্রামের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমাসহ অন্যরা।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

