আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার শিক্ষাঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা।
একই স্থানে রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপজেলা অডিটোরিয়াম এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যাতায়াতে ব্যস্ত থাকে এলাকাটি।
তবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাটির বর্তমান চিত্রে দেখা দিয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা। উপজেলা অডিটোরিয়ামের সামনের মূল সড়ক ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনায় নোংরা হয়ে পড়েছে পরিবেশ। কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য, আবার কোথাও জমে থাকা ময়লা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ পথচারীরা।
বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীদের এই নোংরা পরিবেশের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
এই এলাকাতেই রয়েছে নিকলী অডিটোরিয়াম, নিকলী জিসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নিকলী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি ডিগ্রি কলেজ।
ফলে প্রতিদিন শত শত মানুষের চলাচল রয়েছে এই সড়ক দিয়ে। পাশাপাশি সরকারি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও ব্যবহার করা হয় উপজেলা অডিটোরিয়াম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অডিটোরিয়ামে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্টরা অনেক সময় স্থানটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সৃষ্ট বর্জ্যের একটি অংশ যথাযথভাবে অপসারণ না করে আশপাশেই পড়ে থাকে। এভাবে একের পর এক বর্জ্য জমতে থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকাটি আবারও আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু কোনো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর ব্যবস্থা।
তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও সৃজনশীল বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। একই সঙ্গে উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ এই স্থানের অপরিচ্ছন্নতা নিকলীর সামগ্রিক সৌন্দর্য ও ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি শিক্ষাবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধে প্রয়োজন জনসচেতনতা এবং কার্যকর নজরদারি।
তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অডিটোরিয়ামকেন্দ্রিক এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকাটিকে একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কারণ, যে স্থানটি হওয়ার কথা ছিল শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের একটি সুন্দর পরিবেশ—সেই স্থানেই যদি জমে থাকে আবর্জনার স্তূপ, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

