টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিনচালিত একটি কাঠের নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া উপকূল থেকে প্রায় ১ থেকে ১.৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। নৌকাডুবির ঘটনা দেখতে পেয়ে স্থানীয় জেলেরা দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌঘাটে এনে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নৌকাটিতে মোট ২৭ জন রোহিঙ্গা ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন মাঝিমাল্লাও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পরিচয় যাচাই করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিজিবির হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের আরসা (ARSA)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বিকেলে বিজিবি ১৮ জনকে হাসপাতালে নিয়ে এলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাদের আবার বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। চিকিৎসক আরও জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুকান্ত জানান, বিজিবি ১৬ জনকে থানায় হস্তান্তর করেছে। বাকি দুজনকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

