এমএইচ চৌধুরীঃ
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাথরুম ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কাজ সম্পূর্ণ না করেই উপজেলা উপ সহকারী প্রকৌশলীর সহযোগিতায় প্রায় ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিল উত্তোলন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাম্মেল এন্টারপ্রাইজ। এ ঘটনায় শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকায়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে লৌহজং উপজেলা প্রকৌশলী শান্তনু ঘোষ সাগরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, PEDP-4 প্রকল্পের আওতায় এলজিইডির বাস্তবায়নে দিঘলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটিগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বনস্যান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা প্রাক্কলন করা হয়। পরে মেসার্স মোজাম্মেল এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকায় চুক্তি সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, কাজ সম্পূর্ণ না হলেও ২০২৬ সালের ২৩ মে প্রকল্পের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয় এলজিইডি থেকে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে রঙের কাজসহ একাধিক কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। অথচ কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আটিগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা পারভীন বলেন, “এলজিইডি অফিস থেকে আমাকে একাধিক বার কল দিয়ে বিলে স্বাক্ষর দিতে বলা হয়, কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় আমি তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি কাজ সম্পূর্ণ করে দেওয়ার কথা বলে কাগজে স্বাক্ষর দেওয়া হয়। এরপর ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছে কিন্তু এখনো কাজ গুলো সম্পূর্ণ করে দেয়নি। এখনও রঙের কাজ বাকি রয়েছে। বাথরুমের চাবি দেয়নি, আমার কক্ষও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। কাজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও আমি নিশ্চিত নই। ঠিকাদারকে বারবার ফোন করলেও তিনি সময়ক্ষেপণ করছেন। বিষয়টি ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকেও জানিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।”
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাম্মেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা উপ সহকারী প্রকৌশলী ও তদারকি কর্মকর্তা কাজী ফারুক হোসেন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হয়েছে, যারা অভিযোগ করেছে এটা মিথ্যা। স্কুলের কাজ কতটুকু হয়েছে সরেজমিনে সাংবাদিকদের সাথে ভিজিট করার কথা বললে তিনি বলেন, কাজ কি হয়েছে না হয়েছে তা আমার প্রতিষ্ঠান এলজিইডি দেখবে সাংবাদিকের সাথে গিয়ে কাজ দেখতে হবে কেন..?? বিল ভাউচারে সাক্ষর আছে মানে কাজ হয়েছে এতে আপনাদের এতো মাথা ব্যাথা করার প্রয়োজন নেই বলে জানান। তিনি বলেন কাজ যা-ই করেছি সব প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র আমাদের কাছে রয়েছে।” আপনারা পারলে প্রধান প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, “কোন কোন প্রতিষ্ঠানের বিষয়, তা আমাকে লিখিত ভাবে জানালে পরিদর্শন করে দেখার কথা জানান। এটি চলতি অর্থবছরের জাক নাকি আগের অর্থবছরের প্রকল্প, তা আগে দেখতে হবে। বিষয়টি না জেনে এ মুহূর্তে কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”
মুন্সিগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম-এর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন বন্ধ রাখায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

