আজ , ।   

ইউরোপের দাবানলে নতুন হু*মকি ‘ফা*য়ার ক্লাউড’

আরো খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে যখন দমকলকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন, তখন বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন নতুন এক বিপজ্জনক আবহাওয়াগত ঘটনা—পাইরোকিউমুলোনিম্বাস বা ‘ফায়ার ক্লাউড’—নিয়ে। তাদের মতে, এই বিরল ঘটনা দাবানলকে আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।

বার্তাসংস্থা দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে অত্যন্ত বড় ও তীব্র দাবানল কখনও কখনও নিজেই একটি স্বতন্ত্র আবহাওয়াগত ব্যবস্থা তৈরি করে, যার সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ হলো পাইরোকিউমুলোনিম্বাস।

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দাবানল থেকে উৎপন্ন বিপুল তাপ ও ধোঁয়া দ্রুত ওপরে উঠে বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে পৌঁছায়। সেখানে তাপমাত্রা কমে গেলে বাতাসের আর্দ্রতা ঘনীভূত হয়ে বিশাল বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হয়। এই মেঘ থেকে বজ্রপাত, প্রবল দমকা হাওয়া এবং নতুন দাবানলের সূত্রপাত ঘটতে পারে।

দাবানল অত্যন্ত তীব্র হলে ধোঁয়ার স্তম্ভ ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছাতে পারে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এ ধরনের মেঘকে ‘মেঘের আগুন-উগরানো ড্রাগন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবানল গবেষক অধ্যাপক রিক ম্যাকরে বলেন, এটি মূলত আগুনের ধোঁয়ার ভেতরে গড়ে ওঠা একটি পূর্ণাঙ্গ বজ্রঝড়, যা প্রায় ১০ হাজার ঘনকিলোমিটার বায়ুমণ্ডলকে প্রভাবিত করতে পারে।

তার ভাষ্য, ফায়ার ক্লাউড থেকে সৃষ্ট প্রবল বাতাস নিচের আগুনকে আরও দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে বজ্রপাত দূরবর্তী বনাঞ্চলেও নতুন দাবানলের সৃষ্টি করতে পারে। ফলে আগুনের গতিপথ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং দমকলকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

রিক ম্যাকরে বলেন, “ফায়ার ক্লাউড তৈরি হওয়া মানেই দাবানল অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি প্রমাণ করে, ব্যাপক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।”

বিশেষজ্ঞরা জানান, অস্ট্রেলিয়ায় শতকের শুরু থেকেই নিয়মিত ফায়ার ক্লাউডের ঘটনা ঘটছে এবং সময়ের সঙ্গে এর সংখ্যা বাড়ছে। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভয়াবহ দাবানলেও এমন মেঘের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ফ্রান্সের ইতিহাসে এটি প্রথম নিশ্চিতভাবে নথিভুক্ত পাইরোকিউমুলোনিম্বাসের ঘটনা হতে পারে।

ম্যাকরে বলেন, ফ্রান্সকে এখন প্রথমবারের মতো এই বিরল আবহাওয়াগত ঝুঁকির বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি ফায়ার ক্লাউড সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশও তৈরি হচ্ছে। বায়ুমণ্ডল, আবহাওয়া ও ভূমির বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে বলে জলবায়ু মডেলগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে ইউরোপে পর্যটনের ভরা মৌসুমেই দাবানলের প্রকোপ বেড়েছে। মে মাস থেকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বনাঞ্চলগুলো অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। তার ওপর ধারাবাহিক তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -