আলোকিত প্রতিবেদক:
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের বিষয়টি নজরে আনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, লতিফ সিদ্দিকীকে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে।
একই তথ্য জানিয়েছেন ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদেশে ৩১ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। লতিফ সিদ্দিকীও ওই পলাতক আসামিদের একজন ছিলেন। এছাড়া আগে থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওইদিন আদেশের পর চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, ৪১ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হবে।
২০১৩ সালের ৫ মে ইসলাম অবমাননাকারীদের বিচারের দাবিতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। ওইদিন সমাবেশকে কেন্দ্র করে মতিঝিল, পল্টনসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ও তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। পরে রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে হেফাজতের নেতাকর্মীদের শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে শাপলা চত্বরের ঘটনায় ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্তে আসামিদের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র, সরাসরি অংশগ্রহণ এবং কিছু ক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূত স্বীকারোক্তির তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
এ মামলায় আগে থেকেই ১০ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—ড. আব্দুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, শামসুল হক টুকু, শাহরিয়ার কবির, জিয়াউল আহসান, এ কে এম শহীদুল হক, আবদুল জলিল মণ্ডল, মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রুপা।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, সাবেক পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা।
আলোকিত প্র্রতিদিন / এম আর এম

