আজ , ।   

বিশ্বকাপ ফাইনালে কি শেষ হচ্ছে মেসির পথচলা?

আরো খবর

স্পোর্টস ডেস্ক: চলমান বিশ্বকাপ বারবারই প্রমাণ করে দিচ্ছে, লিওনেল মেসিকে নিয়ে আগে থেকে কোনো সীমা টেনে দেওয়া ঠিক নয়। তবু একটি সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে— রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালই হয়তো হতে পারে ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হবে।

২০০৫ সালে কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আমেরিকার অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়নশিপে যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা আজও সেই দৃশ্য ভুলতে পারেননি।

তখন মাত্র ১৭ বছরের এক বাঁ-পায়ের কিশোরকে নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। এলোমেলো চুলের সেই ছেলেটিকে দেখে কোনোভাবেই বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ মনে হতো না। কিন্তু বল পায়ে নেওয়ার পরই সবাই বুঝে গিয়েছিলেন, তিনি সাধারণ কেউ নন।

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে থেকেই মেসি নিজের অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেছিলেন। বল যেন তার বাঁ-পায়ের সঙ্গে লেগেই থাকত। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল খেলার জায়গা বোঝার ক্ষমতা। কোথায়, কখন এবং কীভাবে প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে হবে, তা যেন জন্মগতভাবেই জানতেন তিনি।

সেই সময় মেসিকে খুব কম মানুষই চিনতেন। ১৩ বছর বয়সে রোজারিও ছেড়ে স্পেনে গেলেও তখন পর্যন্ত ক্লাবের হয়ে হাতে গোনা কয়েকটি ম্যাচই খেলেছিলেন। এমনকি আর্জেন্টিনাও তাকে খুব ভালোভাবে চিনত না। তবে স্পেন তাকে নিজেদের হয়ে খেলানোর চেষ্টা করছে— এই খবর জানার পরই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় আর্জেন্টিনা।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলেন মেসি। যদিও অভিষেক ম্যাচে মাঠে নামার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে লাল কার্ড দেখে বিদায় নিতে হয় তাকে।

একসময় এই সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচনাও শুনতে হয়েছিল মেসিকে। কারণ, স্পেন ২০০৮ ও ২০১২ সালে ইউরোপের শিরোপা এবং ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জিতলেও আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি তারা।

প্রায় এক দশক আগে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে আরেকটি হতাশাজনক হারের পর জাতীয় দল থেকেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। কাকতালীয়ভাবে সেই ম্যাচটিও হয়েছিল একই স্টেডিয়ামে, যেখানে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।পরে অবশ্য নিজের সিদ্ধান্ত বদলান তিনি। এরপর গত কয়েক বছরে আর্জেন্টিনা দুটি কোপা আমেরিকা এবং কাতার বিশ্বকাপ জিতে দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটায়। এবার লক্ষ্য টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়।

ফাইনালটি দুই কোচের জন্যও বিশেষ একটি পুনর্মিলনী। প্রায় এক দশক আগে আর্জেন্টিনার বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পেনে কোচিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। তখন তার প্রশিক্ষকদের একজন ছিলেন স্পেনের বর্তমান প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

এই ফাইনালকে ঘিরে নানা মিলও রয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে দে লা ফুয়েন্তেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি যদি অন্য কোনো দেশের একজন খেলোয়াড়কে নিজের দলে নিতে পারতেন, তাহলে কাকে নিতেন। কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি জবাব দিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেসকে। এবার অবশ্য সেই আলভারেস ও মেসিকে থামানোর পরিকল্পনাই করতে হবে স্পেনের কোচকে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ডের মতো অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল স্পেন নেবে না। বরং তারা বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করবে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে যেভাবে তারা প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল, ফাইনালেও সেই কৌশল দেখা যেতে পারে।

এই দুই দলের লড়াই অবশ্য এর আগেই হওয়ার কথা ছিল। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার বিশেষ ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার সূচি থাকলেও ব্যস্ত আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

আর্জেন্টিনা গত বছর ম্যাচটি খেলতে চাইলেও সময় মেলেনি। পরে চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যে ম্যাচটি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হলেও ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায় তখন।

স্পেন বিকল্প হিসেবে ইউরোপের কয়েকটি ভেন্যুর প্রস্তাব দিলেও আর্জেন্টিনা বুয়েনস আইরেসের নাম প্রস্তাব করে। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের সমঝোতা না হওয়ায় ম্যাচটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -