সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় একটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দ্রুত হস্তক্ষেপে তা বন্ধ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় নিম্নমানের ইটগুলো বাতিল করে নতুন করে গুণগত মান বজায় রেখে রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে নাগরপুর উপজেলার চামটা থেকে চামটা মির্জাপুর রোড ভায়া মান্নান
ভূইয়ার বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তা বিসি (বিটুমিনাস কার্পেটিং) দ্বারা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ লাখ ৯৬ হাজার ৯০১ টাকা। সড়কটি নির্মাণে ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পায় গোপালপুর উপজেলার মেসার্স কবির ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সেখানে এক ট্রাক অত্যন্ত নিম্নমানের ইট নিয়ে আসে। এই নিম্নমানের ইট দিয়েই রাস্তার সাব-বেস বা খোয়ার কাজ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
বিষয়টি টের পেয়ে ফুসে ওঠে এলাকাবাসী। সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি টেকসই হবে না আশঙ্কায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে দ্রুত চামটা এলাকার ওই প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তদন্তে তিনি এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা পান এবং ব্যবহৃত হতে যাওয়া ইটগুলো রাস্তার কাজের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এরপর নির্বাহী প্রকৌশলী তাৎক্ষণিকভাবে ওই নিম্নমানের ইট বাতিল ঘোষণা করেন এবং সেগুলো রাস্তা থেকে অনতিবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ গুণগত মান ও সিডিউল বজায় রেখে নতুন ভালো মানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশনা দেন।
নির্বাহী প্রকৌশলীর এই কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভুল স্বীকার করে রাস্তা থেকে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে সরকারি সিডিউল অনুযায়ী ইটের গুণগত মান ঠিক রেখে সড়কের নির্মাণকাজ পুনারায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা করা হলে প্রথম বর্ষাতেই তা ধসে যেত। তাদের অভিযোগের পর নির্বাহী প্রকৌশলী কাজ বন্ধ করে ভালো ইটের ব্যবস্থা করায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এখন রাস্তার কাজ ভালো হচ্ছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, সরকারের উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। নাগরপুরের এই সড়কটির কাজ এখন নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত করা যায়।
আলোকিত প্রতিদিন/১২জুলাই ২০২৬/মওম

