রাজনগর ও কুলাউড়ায় বাঁধ ভেঙে ৩৫ গ্রাম প্লাবিত, পানির স্রোতে বৃদ্ধের মৃত্যু
এস. এম. জালাল উদ্দীন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় মৌলভীবাজারের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। জেলার মনু, ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যা মোকাবিলায় এ পর্যন্ত ৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও বন্যার সময় ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।
গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও একামধু এলাকায় এবং কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে রাজনগর ও কুলাউড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
বন্যায় অন্তত ৩৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তলিয়ে যায় অসংখ্য বসতঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামে। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে আশরাফ আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ হন। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা মনু নদীর রিং বাঁধসংলগ্ন এলাকায় তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে উজিরপুর ও হরিপাশা এলাকায় বাঁধ ভেঙে টেংরা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। পরে একামধু এলাকায় দ্বিতীয় দফায় ভাঙন দেখা দিলে টেংরা, মনসুরনগর ও রাজনগর সদর ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। একই সময়ে কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দেন।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়। নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। তবে বর্তমানে উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদীর পানি কমছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, ধলাই নদীর একটি ভাঙনপ্রবণ স্থান মেরামতের বিষয়ে ভারতের আপত্তি থাকায় সেখানে জটিলতা রয়েছে। তারপরও জেলার বিভিন্ন নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পানি কমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

