লাইফস্টাইল ডেস্ক: অনেকেই মনে করেন, শুধু অ্যালকোহল পান করলেই লিভারের ক্ষতি হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবতা ভিন্ন। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ এবং কিছু জনপ্রিয় পানীয়ও লিভারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বর্তমানে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত পানীয় গ্রহণ।
প্রতিদিনের জীবনে স্বস্তি বা সতেজতা পেতে যে পানীয়গুলো অনেকেই নিয়মিত পান করেন, সেগুলোর কয়েকটিই লিভারের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সুস্থ লিভার বজায় রাখতে নিচের পানীয়গুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
চিনি মেশানো সফট ড্রিংকস: গরমে তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই কার্বনেটেড কোমল পানীয় পান করেন। কিন্তু এসব পানীয়তে থাকে অতিরিক্ত চিনি, বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ, যা শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে। নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে লিভারে চর্বি জমতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়।
প্যাকেটজাত ফলের রস: অনেকে মনে করেন প্যাকেটজাত ফলের রস স্বাস্থ্যকর। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব পানীয়তে আসল ফলের পরিমাণ কম এবং অতিরিক্ত চিনি, ফ্লেভার, রং ও সংরক্ষণকারী উপাদান বেশি থাকে। ফলে তাজা ফলের মতো প্রয়োজনীয় আঁশ বা পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় না। বরং নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে এবং লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এনার্জি ড্রিঙ্কস: ক্লান্তি দূর করতে বা কাজের গতি বাড়ানোর আশায় অনেকেই এনার্জি ড্রিঙ্কস পান করেন। কিন্তু এসব পানীয়তে সাধারণত উচ্চমাত্রার চিনি, ক্যাফিন এবং বিভিন্ন উদ্দীপক উপাদান থাকে। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে লিভারের ওপর বিপাকীয় চাপ বাড়ে, যা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভারের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
লিভার সুস্থ রাখতে কী করবেন: লিভার ভালো রাখতে শুধু অ্যালকোহল এড়িয়ে চলাই যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত পানীয় গ্রহণ কমাতে হবে। এর পরিবর্তে পর্যাপ্ত পানি পান, তাজা ফল, ঘরে তৈরি লেবুর শরবত (অতিরিক্ত চিনি ছাড়া), ডাবের পানি এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও ওজন নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
মনে রাখবেন, লিভারের ক্ষতি অনেক সময় নীরবে শুরু হয়। তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট খাদ্যাভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় ধরনের লিভার সমস্যার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

