আজ বৃহস্পতিবার, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডায়াবেটিস ও কোলেস্টের*ল থাকলেও ডাব খাওয়া যাবে!

আরো খবর

আলোকিত ডেস্ক: গ্রীষ্মের তীব্র গরমে এক গ্লাস ঠান্ডা ডাবের পানির কোনো তুলনা নেই। শরীরকে দ্রুত সতেজ করা, পানিশূন্যতা দূর করা এবং প্রাকৃতিকভাবে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে ডাবের পানি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে যাদের ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে- ডাব খাওয়া কি আসলেই নিরাপদ? ডাবের পানি বা শাঁস খেলে কি রক্তে শর্করা বা কোলেস্টেরল হুট করে বেড়ে যেতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলেও পরিমিত পরিমাণে ডাব খাওয়া যায়। তবে এর জন্য জানতে হবে ডাবের কোন অংশ কতটুকু খাওয়া নিরাপদ এবং কার ক্ষেত্রে কী ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন।

ডায়াবেটিস থাকলে কি ডাবের পানি খাওয়া যাবে: ডাবের পানিতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, তবে বাজারে প্রচলিত সফট ড্রিংক বা মিষ্টি শরবতের তুলনায় এর পরিমাণ অনেক কম। এ ছাড়া এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে, যা শরীরের জন্য ভীষণ উপকারীও।

ডায়াবেটিস রোগীরা সাধারণত দিনে একটি মাঝারি আকারের ডাবের পানি খেতে পারেন। তবে একসঙ্গে একাধিক ডাব খাওয়া একদমই উচিত নয়। বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করা (ব্লাড সুগার) নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের পরিমাণের ব্যাপারে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

খাওয়ার উপযুক্ত সময়: ডাবের পানি খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো দুপুরের আগে বা বিকেলে। খালি পেটে বা বিকালের হালকা খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে এটি খাওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখবেন, ডাবের পানির সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা অন্য কোনো মিষ্টি উপাদান মেশানো যাবে না।

ডাবের শাঁস কি ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নিরাপদ: অনেকেই শুধু পানি খেয়ে শাঁস ফেলে দেন। অথচ কচি ডাবের নরম শাঁসে স্বাস্থ্যকর চর্বি, অল্প পরিমাণ ফাইবার এবং কিছু পুষ্টি উপাদান থাকে। ডায়াবেটিস রোগীরা অল্প পরিমাণে এই নরম শাঁস খেতে পারেন। তবে খুব বেশি পরিমাণে বা শক্ত ও পরিপক্ব নারকেলের শাঁস নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়,

কোলেস্টেরল থাকলে ডাব খাওয়া যাবে: ডাবের পানিতে কোনো কোলেস্টেরল নেই। তাই উচ্চ কোলেস্টেরলে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য ডাবের পানি সাধারণত সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। বরং ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সরাসরি সহায়তা করে। তবে যাদের হৃদরোগ বা কিডনির জটিলতা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডাবের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

কিডনি রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা: ডাবের পানিতে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশ ভালো থাকে। তাই যাদের কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেছে বা কিডনি রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডাবের পানি হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ধরনের রোগীদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডাব খেতে হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -