আজ রবিবার, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভাঙ্গায় আ*ধিপত্য বি*স্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সং*ঘর্ষ, পুলিশসহ আ*হত ৬০

আরো খবর

প্রতিনিধি,ফরিদপুর:

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্য, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিকসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন।

২৮ জুন রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১টি গ্রাম এবং মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া মৌজার ৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে মহেশ্বরদী গ্রামের আব্দুল কালাম নামের এক ব্যক্তিকে মারপিট করা হয়।

এই ঘটনার রেশ ধরে রবিবার সকাল ৭টার দিকে মহেশ্বরদী এলাকার লোকজন পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে চড়াও হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। দেশীয় অস্ত্র এবং ইট-পাটকেল নিয়ে উভয় পক্ষের হাজারো মানুষ মহাসড়কে অবস্থান নিলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষকারীরা পাশের রেললাইন থেকে পাথর এনে একে অপরের দিকে নিক্ষেপ করে এবং বাসস্ট্যান্ডের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষের কারণে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মহাসড়কের উভয় পাশে যাত্রীবাহী বাসসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়লে যাত্রীরা চরম আতঙ্কে সময় কাটান। দীর্ঘ সময় পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের বলেন, বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আহতদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাঙ্গা সার্কেল রেজোয়ান দিপু ও ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানও রয়েছেন।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের মধ্যে পুলিশের তিন এসআই শাহ আলম (৪৫), মিজানুর রহমান (৪৬) ও মো. আসাদ (৪৩) এবং চার কনস্টেবল সালাউদ্দিন (৩৯), রাজীব (২৮), নাসিব (২৭) এবং মো. কামরুল (২৮) চিকিৎসাধীন।

সংঘর্ষে ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাকের ভাঙ্গা প্রতিনিধি মো. রমজান সিকদার, সমকাল পত্রিকার ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম এবং দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল মান্নান আহত হয়েছেন।

ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন বলেন, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ সাতটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয়। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব এবং আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঠানো হয়েছে। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ২৮ জুন ২০২৬/মওম  

- Advertisement -
- Advertisement -