মিজানুর রহমান খান কুদরত, ক্রাইম রিপোর্টার : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গর্জনা কুম পুনঃখননের মাধ্যমে দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে যুগান্তকারী পদক্ষেপে নতুন দিগন্তের সৃষ্টি করেছে। এ কারনে মানিকগঞ্জ ১ আসনের এমপি জিন্নাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল- ইসলাম ও অধ্যক্ষ ফারুককে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে যাওয়া প্রায় সাড়ে ১৩ একর আয়তনের এই জলাশয় পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য পর্যটন কেন্দ্র করে তোলার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ঘিওর সরকারি কলেজ ও স্থানীয় চারটি মসজিদের মালিকানাধীন গর্জনা কুম থেকে প্রতিবছর মাছ বিক্রির মাধ্যমে আয় হয়। সেই আয়ের একটি অংশ চারটি মসজিদের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করা হয়ে থাকে। কিন্তু বছরের পর বছর পলি জমে কুমটির গভীরতা ও পানিধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় মাছ উৎপাদনও হ্রাস পায়। এ অবস্থায় কুমটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেয় ঘিওর সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে খনন ও সংস্কারকাজের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। গত ২৪ মে কলেজের অধ্যক্ষ ফকির ফারুক আহম্মেদ স্বাক্ষরিত কার্যাদেশে মো. আহাম্মদ হোসাইন খান রাফিনকে এক বছরের জন্য কুম পুনঃখনন ও সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, খনন শেষে কুমের চারপাশে টেকসই পাড় নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ এবং স্থানীয় জনগণের সুবিধার্থে দুটি ঘাটলা নির্মাণ করা হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারও সহজ ও নিরাপদ হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুনঃখননের ফলে কুমে সারা বছর পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের জন্য একটি প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য গড়ে উঠবে। বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই প্রকল্প।
মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে নিলামের মাধ্যমে অধিক রাজস্ব আয় হবে, যা ঘিওর সরকারি কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট চারটি মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে ইতিবাচক অবদান রাখবে।
এলাকাবাসীর মতে, গর্জনা কুম শুধু একটি জলাশয় নয়; এটি ঘিওর অঞ্চলের একটি ঐতিহ্য, পরিবেশগত সম্পদ এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উৎস। সঠিকভাবে খনন ও সংরক্ষণ করা গেলে এটি ভবিষ্যতে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদে পরিণত হবে।
এ মহৎ উদ্যোগের জন্য মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ কবির জিন্নাহ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল- ইসলাম ও ঘিওর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ফকির ফারুক আহম্মেদকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন এবং জনকল্যাণে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

