আলোকিত প্রতিবেদক:
ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে নতুন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থকদের সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোতে পুনঃব্যবহারযোগ্য (রিফিলযোগ্য) পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে ১০৪ ম্যাচের এই মহাযজ্ঞ ঘিরে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে ফিফার নতুন নীতিমালা সমর্থকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিফা টিকিটধারীদের ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে যে স্টেডিয়ামে আর কোনো ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল বহন করা যাবে না। অথচ কয়েক সপ্তাহ আগেও ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে এক লিটার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার স্বচ্ছ ও খালি প্লাস্টিক বোতল বহনের অনুমতি ছিল। গত ২ জুন সেই নিয়ম পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
ফিফার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য আঘাতের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, স্টেডিয়ামের বাইরে হাইড্রেশন স্টেশন, মিস্টিং জোন, ফ্যান এরিয়া ও কুলিং টেন্ট রাখা হবে। পাশাপাশি ভেন্যুর ভেতরে পানির মূল্যও নির্ধারিত থাকবে।
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেক সমর্থক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তার অজুহাতে মূলত পানীয় বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় বাড়ানোর পথ তৈরি করা হচ্ছে। তাদের মতে, দর্শকদের স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনের চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফুটবল সমর্থক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া ও উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত পানি সহজলভ্য রাখা জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত পানির বোতল নিষিদ্ধ করা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সমালোচকরা আরও উল্লেখ করেছেন, গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপে একই ধরনের আবহাওয়া থাকলেও এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। বরং তখন দর্শকদের জন্য পানির মূল্য তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছিল।
এদিকে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম জানিয়েছে, তাদের ভেন্যুতে মাত্র দুই ডলারে পানীয় কিনে সীমাহীন রিফিল সুবিধা পাওয়া যাবে। এই উদ্যোগ সমর্থকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে ফিফার এই সিদ্ধান্ত এখন ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুক্তি এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের অভিযোগ—দুইয়ের মধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দর্শকদের মৌলিক সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রশ্ন।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

