আজ রবিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৪ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্তে পার*মাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দিতে প্রস্তুত ই*রান

আরো খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন সমঝোতায় যেতে এবং কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ তেহরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফোয়াদ ইজাদি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অতীতেও ইরান এ ধরনের সমঝোতায় সম্মত হয়েছিল এবং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি তার বড় উদাহরণ। ইজাদি বলেন, “ইরান ২০১৫ সালেও একই ধরনের সমঝোতায় গিয়েছিল।”

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তির আওতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে রাজি হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এ মাত্রায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, চুক্তির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-কে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বিস্তৃত পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যাতে দেশটির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।

ফোয়াদ ইজাদি বলেন, পারমাণবিক ইস্যু এখনও আলোচনার জন্য উন্মুক্ত এবং এ বিষয়ে ইরান নমনীয় অবস্থান নিতে প্রস্তুত। তার মতে, “পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা সম্ভব এবং ইরান সেখানে ছাড় দিতেও প্রস্তুত।”

তিনি বলেন, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল উদ্বেগ হয় ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা, তাহলে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো আগেই তৈরি হয়েছিল।

তবে ইজাদি স্পষ্টভাবে জানান, যেকোনও নতুন সমঝোতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে এবং জব্দ বা স্থগিত থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে হবে।

তার ভাষায়, “তেহরান এটাই প্রত্যাশা করছে।” তিনি মনে করেন, এসব বিষয় ইরানের কাছে গৌণ নয়; বরং সম্ভাব্য যেকোনও চুক্তির মূল ভিত্তি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, তেহরান এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত না হলে নতুন কোনও চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি— জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)— থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সরে দাঁড়ায়। এরপর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং ইরান ধাপে ধাপে চুক্তির সীমাবদ্ধতা থেকে সরে আসতে শুরু করে। বর্তমানে নতুন কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু না হলেও উভয় পক্ষের বক্তব্যে কূটনৈতিক দরকষাকষির ইঙ্গিত ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -