নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিলে ইটভাটা ব্যবসায়ী জাবেদ হোসেনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিক গোলজার হানিফকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নিহতের স্ত্রী ও সন্তানদেরও অজ্ঞাত নম্বর থেকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারটি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ মার্চ ২০২৫ নাহারখিল এলাকার ইটভাটা ব্যবসায়ী জাবেদ হোসেনকে অপহরণ করা হয়। পরে স্থানীয় সন্ত্রাসী রাশেদ ও আশরাফ বাহিনী তাকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ইটভাটায় পুড়িয়ে ফেলে। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করলেও এখনো মূল অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সম্প্রতি নিহতের পরিবার বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করলে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র সোনাইমুড়ীতে কর্মরত সাংবাদিক গোলজার হানিফকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দিতে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে সংবাদটি সরিয়ে নিতে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন না করতে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাংবাদিক গোলজার হানিফ সোনাইমুড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া মো. রুবেল, যিনি নিজেকে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি দাবি করেন, সাংবাদিক গোলজার হানিফকে ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও কল রেকর্ড ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যপক আলোচনা চলছে।
গত ২২ এপ্রিল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার রূপা বিভিন্ন অজ্ঞাত নম্বর থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, মামলা তুলে না নিলে তাকে এবং তার তিন সন্তানকেও জাবেদের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে শাসানো হচ্ছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,আমরা শুধু আমার স্বামীর লাশের সন্ধান আর বিচার চেয়েছি। কিন্তু সন্ত্রাসীরা এখন আমাদের বেঁচে থাকাই কঠিন করে দিচ্ছে। আমি সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
এদিকে এখনো মূল অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। এলাকাবাসী দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
কথিত ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি দাবি করে ২৪ঘন্টার মধ্যে সংবাদ প্রত্যাহার না করলে সাংবাদিককে হত্যার হুমকির বিষয়ে নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজীম সুমন বলেন,মো: রুবেল নামে ইউনিয়ন যুবদলের কোনো প্রেসিডেন্ট নেই। আপনারা সাংবাদিকেরা আইনগত পদক্ষেপে নেন, জেলা যুবদল পাশে থাকবে।চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই।
এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন,জাবেদের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের মাধ্যমে একটি মামলা হয়েছে, যা পিবিআই তদন্ত করছে। অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিককে হত্যার হুমকির সাধারণ ডায়েরি প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে সোনাইমুড়ী থানার ওসি ( ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)মো: কবির হোসেন বলেন,হুমকিদাতাকে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।যে মোবাইল থেকে হুমকি দেয়া হয়েছে সেটা বাহিরের বলে জানান ওসি।
আলোকিত প্রতিদিন /২৭ এপ্রিল ২০২৬ /মওম
- Advertisement -

