আজ শুক্রবার, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৭ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বহুমুখী মাইনের চ্যালেঞ্জে দীর্ঘ হচ্ছে অপসারণ প্রক্রিয়া

আরো খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে সব মাইন অপসারণে অন্তত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। এর আগে পুরো প্রণালিকে নিরাপদ ঘোষণা করা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপথে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা স্থলভাগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। তার ওপর, ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী কোথায় কোথায় মাইন স্থাপন করেছে—তার নির্ভুল তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। ফলে প্রথমে মাইন শনাক্ত, এরপর তা ধ্বংস—এই দুই ধাপের প্রক্রিয়াই সময় বাড়াচ্ছে।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যবহৃত মাইনের বৈচিত্র্য। হরমুজে বটম মাইন, টেদার্ড মাইন, ড্রিফটিং মাইন এবং লিম্পেট মাইনসহ বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক পাতা হয়েছে। এই ভিন্নধর্মী মাইনগুলো শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে আলাদা কৌশল প্রয়োজন, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘ করছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর অপারেশন্স প্রধান অ্যাডমিরাল ডেরিল কাউডলে বলেন, সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ একটি সময়সাপেক্ষ কাজ। একই মত দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও; তাদের ধারণা, পুরো প্রণালি সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে ২–৩ সপ্তাহের বেশি সময়ও লাগতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ধারণা করা হচ্ছে, প্রণালির বিভিন্ন স্থানে অন্তত এক ডজন মাইন স্থাপন করা হয়েছিল।

৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পর মাইন অপসারণই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বহন করে। ফলে এখানে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। ১২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র হরমুজে মাইন অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সেন্টকোম।

সূত্র: রয়টার্স

আলোকিত প্রতিদিন /এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -