আজ বুধবার, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২২ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় রাজধানীতে পুড়ছে জনজীবন 

আরো খবর

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা দেখা গেছে, সকাল থেকেই রোদের প্রখরতা বাড়তে শুরু করে। দুপুরের দিকে তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়। রাস্তায় লোকজনের চলাচল ছিল তুলনামূলকভাবে কম। যারা বাইরে বেরিয়েছেন, তাদের অনেকেই মাথায় কাপড় অথবা ছাতা দিয়ে রোদের তাপ এড়ানোর চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষরা। রিকশাচালক, ভ্যানচালক এবং মজুররা জীবন ও জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদ উপেক্ষা করে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। মাথার ওপর রোদ যেন আগুনের মতো পড়ছে। গরমে একদম টিকতে পারছে না মানুষ।

একজন রিকশাচালক বলেন, সকাল থেকে শুধু পানি খাচ্ছি। খেতেও পারছি না, কাজও ছাড়তে পারছি না। রোদে বের হলেই মাথা ঘোরে।

অন্যদিকে, চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ঢাকার রাস্তার পাশের ঠান্ডা শরবতের দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে বেল, লেবু এবং তোকমা শরবতের বিক্রি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাসস্ট্যান্ডের শরবত বিক্রেতা বলেন, এই গরমে মানুষ ঠান্ডা কিছু খুঁজছে। আগের চেয়ে অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে। বেশিরভাগ মানুষই এক গ্লাসের পর আবারও নিতে চাইছে। সকালে বের হলে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্রাম নেই। তারপরও বিক্রি বেশ ভালো।

এদিকে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই তাপপ্রবাহ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। সেজন্য সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করা, হালকা খাবার খাওয়া এবং সরাসরি রোদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার কথাও বলছেন তারা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েক দিন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। বর্তমানে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, টাঙ্গাইল, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা তার ওপরে রয়েছে। ঢাকায়ও অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে। এলাকাভেদে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কাছাকাছি কিংবা ছুঁইছুঁই অবস্থা বিরাজ করছে।

আলোকিত প্রতিদিন/১১মে ২০২৫/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -