আজ রবিবার, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৫ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মানিকগঞ্জে রুমি ফিলিং স্টেশন থেকে ৬০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ডাকাতি 

আরো খবর

মো. মিজানুর রহমান খান কুদরত, মানিকগঞ্জ 

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুরে অবস্থিত অগ্রণী ট্রেডিং কোম্পানি ও রুমি ফিলিং স্টেশন থেকে ৬০ লাখ টাকার সিগারেট ও নগদ টাকা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মরত কর্মচারীগণ। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) ভোর পৌনে ৪টার দিকে মহাদেবপুর রুমি ফিলিং স্টেশনের পূর্ব পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অগ্রণী ট্রেডিং কোম্পানিতে ১৫-২০ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাতদল দুটি খোলা পিকআপযোগে এ ঘটনা ঘটায়। ডাকাতরা এসে প্রথমেই তেলের পাম্প ও টোব্যাকো কোম্পানির কয়েকজন কর্মচারীকে রশি দিয়ে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করে।

এরপর তারা সিগারেটের গোডাউনে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে সিগারেটের কার্টুনগুলো ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে নিয়ে যায়, যার মোট বাজার মূল্য ৬৭ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে অগ্রণী ট্রেডিং কোম্পানির কর্মকর্তারা। রুমি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ফারুক হোসেন জানান, ডাকাতরা তার পাম্পের নজেলম্যান সেতু ও রুবেলকে বেঁধে ফেলে এবং নিরাপত্তারক্ষী আইনুদ্দিনকে বেধম প্রহার করে। এ সময় ডাকাতরা তেল বিক্রির ১৮ হাজার ৩শ ৬২ টাকা নিয়ে যায়। আহত নিরাপত্তারক্ষী আইনুদ্দিনকে উথলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর শিবালয় থানা ও বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।  অগ্রণী ট্রেডিং কোম্পানির বরংগাইল শাখার ম্যানেজার মো. সাফিন আহমেদ জানান, ভোরেই তিনি সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তিনি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন।

সকালের দিকে ডিএসবির এডিশনাল এসপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় স্টোরকিপার কৃষ্ণ সূত্রধরও ইনজুরিতে পড়েছেন। অগ্রণী ট্রেডিং কোম্পানির প্রধান নিরাপত্তা ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন মামুন, বাণিজ্যিক ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান এবং কোম্পানির সিইও মো. রায়হান জানিয়েছেন, অগ্রণী ট্রেডিং কোম্পানির মালিক এমডি মোস্তাফিজুর রহমান সাকিব। কোম্পানির বিভিন্ন জেলায় কয়েকটি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে মানিকগঞ্জ সদর, মহাদেবপুর, ঝিটকা ও সিংগাইর রয়েছে চারটি শাখা। আব্দুর রহিম খানের এ বিল্ডিংয়ে কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে অফিস চালাচ্ছে। কিন্তু এর আগে কখনো এরকম ঘটনা ঘটেনি। তবে, সম্প্রতি টাংগাইলের একটি শাখায়ও একই ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা সম্ভবত এই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ এ আর এম আল মামুন  জানান, ডাকাতরা ডাকাতি শেষে যখন হাইওয়ে দিয়ে মানিকগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল, তখন বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। তবে তারা আটক করতে পারেনি। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ডাকাতদের অবস্থান মোটামুটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ডাকাতদের আটক করতে পুলিশের একটি টিম কুমিল্লার দিকে এবং অপর একটি টিম কালিয়াকুরের দিকে কাজ করছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -