আজ রবিবার, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ।   ১৬ জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কানাডার সঙ্গে দ্বন্দ্বে শঙ্কায় আছে ভারতীয় শিখরা

-Advertisement-

আরো খবর

- Advertisement -
- Advertisement -

আলোকিত ডেস্ক :

কানাডার শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যার ঘটনায় ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রকাশ্য আনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। এমনকি শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে সহযোগিতা করতে ভারতের প্রতি আহ্বানও জানায় কানাডার মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতিতে কানাডার সঙ্গে দ্বন্দ্বে উভয় কূল হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন ভারতীয় পাঞ্জাবের শিখরা। সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে হত্যা করা নিয়ে ভারত ও কানাডার মধ্যে সৃষ্ট তিক্ত বিরোধ পাঞ্জাবেও অনুভূত হচ্ছে। ভারতীয় এই রাজ্যটিতে শিখদের অনেকেই ভারতের হিন্দু-জাতীয়তাবাদী সরকারের রোষানলে পড়ার পাশাপশি উত্তর আমেরিকায় তাদের উন্নত জীবনের সম্ভাবনার বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টিরও আশঙ্কা করছে।

মূলত শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যার পেছনে ভারত সরকারের হাত থাকতে পারে বলে গত সপ্তাহে প্রথম মন্তব্য করেন কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের একটি শিখ মন্দিরের বাইরে গত ১৮ জুন গুলি করে হত্যা করা হয় ৪৫ বছর বয়সী হরদীপ সিং নিজ্জারকে। গত সোমবার কানাডার হাউস অব কমন্সের সভায় প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো জানান, কানাডার গোয়েন্দা সংস্থা শিখ নেতা নিজ্জারের হত্যার সাথে ভারত সরকারের এজেন্টদের সংশ্লিষ্টতার ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ খুঁজে পেয়েছে।

তিনি আরও যা বলেন, ‘কানাডার গভীর উদ্বেগের কথা ভারত সরকারের শীর্ষ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহে জি টুয়েন্টি সম্মেলনের মধ্যে বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছি।’ তবে ট্রুডোর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সামনে আসার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ট্রুডোর এই অভিযোগ ভারত ও কানাডার মধ্যে কুৎসিত কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে। যদিও এই দুটি দেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ভালো বাণিজ্য সম্পর্কও রয়েছে। উত্তেজনার একপর্যায়ে উভয় দেশ একে অপরের একজন করে কূটনীতিককে বহিষ্কার করে এবং গত বৃহস্পতিবার থেকে কানাডিয়ান নাগরিকদের জন্য ভিসা পরিষেবা স্থগিত করে ভারত। পরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গিয়ে ট্রুডো আবারও ভারতের বিরুদ্ধে তার অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন। হরদীপ সিং নিজ্জার ২৫ বছর আগে উত্তর ভারতীয় রাজ্য পাঞ্জাব ছেড়েছিলেন এবং পরে কানাডিয়ান নাগরিক হন।

- Advertisement -

গত জুন মাসে তাকে ভ্যাঙ্কুভার শহরতলির যে মন্দিরের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয় সেখানে বসবাসকারী অনেক শিখ মানুষের কাছে জনপ্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ছিলেন তিনি। ভারত অবশ্য ২০২০ সালে নিজ্জারকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসাবে ঘোষণা করে এবং প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর আনা এই অভিযোগটিকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। শিখ জনগোষ্ঠী ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মাত্র দুই শতাংশ হলেও পাঞ্জাবে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ৩ কোটি জনসংখ্যার উত্তর ভারতীয় এই রাজ্যেই ৫০০ বছর আগে শিখ ধর্ম জন্মলাভ করেছিল। অন্যদিকে পাঞ্জাবের বাইরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিখ বাস করেন কানাডায়। উত্তর আমেরিকার এই দেশটিতে শিখদের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে এবং সেখানে তারা নানা ইস্যুতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভও করে থাকেন। আর এটিই অনেকটা বিরক্ত করে চলেছে ভারতকে।

২৫-০৯-২০২৩ইং

- Advertisement -
- Advertisement -