মিল্লাত হাসান:
রংপুরের মিঠাপুকুরে আমন চাষাবাদে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আমন চাষাবাদে আষাঢ় শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকেরা ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। কিছু এলাকায় আমন ধান রোপন শুরু হলেও প্রখর রোদে মাঠ ফেটে চৌচির নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রোপন কৃত চাঁরা।
এদিকে আমনের ভরা মৌসুমে দেখা দিয়েছে রাসায়নিক সারের সংকট, বেড়েছে দামও। দীর্ঘ খরার কারণে কৃষকদের সেচ নির্ভর হতে হচ্ছে। আবার চাহিদা অনুযায়ি ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কিছু ডিলার আগের স্টোক সারের দাম বাড়িয়ে, বর্তমান সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করছে সার। এমন পরিস্থিতিতে সার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের কঠিন নজরদারির দাবি চাষীদের।
৭ আগস্ট রবিবার উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সেচ এর উপর নির্ভর করেই রোপণ করছে আমন ধান। কিন্তু এই প্রখর রোদে সেচ দিতে না দিতেই এক দিনের মধ্যে পানি শুকিয়ে মাঠ ফেটে চৌচির। শুকিয়ে যাচ্ছে আমন ধানের রোপণ কৃত চাঁরা। প্রতিদিন জমিতে সেচ দিতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে চাষীরা।
কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বললে তারা জানান, সাধারণত মধ্য আষাঢ় থেকে শুরু করে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত আমন ধানের চারা জমিতে রোপণ করা হয়। কিন্তু এবার তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় তাঁরা আমন চাষাবাদ নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। মূলত বর্ষাকালে বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে কৃষকেরা রোপা আমন চাষ করে থাকেন। সাধারণত বীজতলায় তৈরি হওয়া চারা ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে জমিতে লাগানো হয়। কিন্তু অনেক কৃষকের চারার বয়স দেড় মাস পেরিয়ে গেছে।
লতিবপুরের কৃষক আল-আমিন বলেন, ১৪–১৫ দিন আগে জমিতে ধান রোপণ করেছি, বৃষ্টির তো দেখায় নেই খেতগুলো এখন রোদে পুড়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির অভাবে অন্য জমিগুলো চাষও করতে পারছিনা কত আর সেচ দিয়ে চাষ করবে। তার উপর ডিজেল এর দাম বৃদ্ধি। রানীপুকুরের এর কৃষক রাসেল ইসলাম বলেন, সব জমি শুকিয়ে গেছে। এক বিঘার মতো আমন চারা রোপণ করেছি। সেগুলো বাঁচাতে এখন সেচ দিতে হচ্ছে। দিনভর যে রোদ বাইরে, থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বস্তা সার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশী নেওয়া হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতিবস্তা ইউরিয়া ৮০০ টাকা, টিএসপি ১১০০ টাকা, এমওপি ৭৫০ টাকা ও ডিএপি ৮০০ টাকা হলেও কৃষকদের বেশী দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। আর বাধ্য হয়েই চাষিদের বেশী দামে সার কিনে জমিতে দিতে হচ্ছে। ফসল উৎপাদনের জন্য প্রতি বিঘা জমিতে ইউরিয়া ৭ কেজি, টিএসপি ১০ কেজি, পটাশ ২০ কেজি, ডিএপি ১৫ কেজি দেয়ার নিয়ম থাকলেও এখন পরিমাণমতো অনেক কৃষকেই তা দিতে পারছেন না। এ কারণে ফসল উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্খা দেখা দিয়েছে।
দূর্গাপুরের কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, জমিতে মেশিন লাগিয়ে পানি দিতে হচ্ছে তার উপর সারের দাম। প্রতি বছর সারের এই সংকট তৈরি হলেও কেউ কোন ব্যবস্থা নেয় না। তাই গতবারের চেয়ে এবার কম জমিতে আমনের আবাদ করেছি। বালারহাটের কৃষক শহীদুল বলেন, সারের দোকানে গেলে তারা বলে সার নেই। আবার অতিরিক্ত টাকা দিলে সার পাওয়া যায়। এভাবে আমাদের পকেট কাটা যাচ্ছে, আর লাভবান হচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ী ও ডিলাররা।
উপজলা কষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন বলেন, আমাদের নিয়মিত বরাদ্দ আছে ডিলাররাও নিয়মিত সার উত্তোলন করছেন। সার সংকট হওয়ার আপাতত কোন সুযোগ নেই। সারের বিষয়ে আমাদের মনিটরিং চলছে। আমরা এখন পর্যন্ত তেমন কোন অভিযোগ পাইনি, তবে দুই একটা অভিযোগ আমরা নিজে দের মধ্যেই সমাধান করেছি। প্রমাণসহ কেউ যদি অভিযাগ করে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে পূর্বের মূল্যে ক্রয় করা সার বর্তমান মূল্যে বিক্রি করছে ডিলার’রা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমনটা করার কথা না। পূর্বের মূল্য কেনা সার পূর্বের মূল্যেই বিক্রি করবে। তার পরেও কোনো ডিলার যদি এমন টা করে থাকে প্রমান সহ পেলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ০৭ আগস্ট ,২০২২/ মওম
- Advertisement -

