আজ রবিবার, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ।   ৫ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মিঠাপুকুরে অপরাধ দমনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রাণীপুকুর বিট পুলিশ

আরো খবর

মিল্লাত হাসানঃ
সাধারণ মানুষের হাতের কাছেই পুলিশের সেবা।  প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতিনিয়ত যাচ্ছেন একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং দু’জন কনস্টেবল।
অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় এলাকায় অপরাধ প্রবণতা অনেকটাই কমে গেছে এরই ধারাবাহিকতায় মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্য জনাব মোস্তাফিজুর রহমানের কঠোর মনিটরিং এর মাধ্যমে ১৭ টি ইউনিয়নে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। সুনাম রয়েছে প্রতিটি এসআই ও এএসআই এর।এরই মধ্যে অসাধু সুবিধাভোগী কিছু চক্র বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিট অফিসারের সম্পর্কে ভিন্ন মত প্রকাশ করে থাকে।এই রকম মিথ্যে অভিযোগের বলি হলেন মিঠাপুকুর উপজেলার ২নং ইউনিয়নের বিট পুলিশ এস আই মোঃ ইমরান হোসেন ও এ এস আই মোঃমামুন আলী।
২নং রাণীপুকুরের বিট পুলিশ এসআই মোঃ ইমরান হোসেন ও এএসআই মোঃ মামুন আলীর  মাধ্যমে প্রায় গত ১ বছরে প্রায় ২০ টির বেশী মাদক মামলায় ৩৩ জনের বেশী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে, ধর্ষণ, যৌতুক ও ইফটিজিং সহ যৌন হয়রানীর এজাহারনামীয় প্রধান আসামীসহ সকল আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন। আর কিছু দিন এমন অভিযান চললে,দুষকৃতকারীরা তাদের নিজেদের অস্থিত্ব হারাবে বিধায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলেছে।
বিভিন্ন সময় মদ গাজা হিরোইনসহ বিভিন্ন জুয়ার আড্ডা ভেঙ্গে দেওয়াসহ ইউনিয়নের অপরাধ দমনে কঠোর ভূমিকা পালন করছেন তারা বিরোধ নিষ্পত্তি ও অপরাধী গ্রেফতার-উভয় দিকেই ব্যাপক সাফল্য অর্জন করছে বিট পুলিশ। ইভটিজিং, যৌতুক, বাল্যবিবাহ, খুন, মাদক, চোরাচালান, চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় বিরোধ নিষ্পত্তি ও এই ধরনের অপরাধের ঘটনায় অপরাধী গ্রেফতার করে বিট পুলিশিং সেবার উন্নত মান নিশ্চিত করেছে ২ নং রাণীপুকুরের বিট পুলিশ এসআই ইমরান হোসেন ও এএসআই মামুন আলী।তাছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান জনাব মোঃশফিকুল ইসলাম রাঙ্গা জানান,২নং রানীপুকুরের বিট পুলিশ তারা তাদের দায়িত্ব ন‍্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছে।
স্থানীয় রাজু নামে এক ব‍্যাক্তি জানান,আমাদের ইউনিয়নের বিট পুলিশেরা অপরাধ দমনে গুরুত্বর ভুমিকা পালন করে আসছে।আমরা কখনো তাদের অন‍্যায় দেখি নাই।বরং আমাদের সাধারণ জনগনকে সব সময় পুলিশের সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে আসছে।আরো কয়েকজন গন‍্যমান‍্য ব‍্যাক্তি জানান,বিট পুলিশ আমাদের দীর্ঘ দিন ধরে নানা সেবা দিয়ে আসতেছে।আমাদের জানা মতে তারা কোনো অন‍্যায় মুলক কাজে জড়িত ছিলো না।বিভিন্ন ভাবে খবর নিয়ে জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার ২ নং রাণীপুকুর ইউনিয়নে অপরাধের হার সবচেয়ে বেশী।বিশেষ করে এই ইউনিয়নে আদিবাসীদের সংখ্যা  বেশী
হওয়ায় অনেক মাদক বিরোধী অভিযানে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। তবুও বিট পুলিশ এসআই ইমরান হোসেন  ও এএসআই মামুন আলী মাদক বিরোধী অভিযান অব্যহত রেখেছেন। হিরোইন, ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রেতা প্রায় ৩০ জনের অধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছেন বলে জানা যায়।
২ নং রাণীপুকুরের বিট পুলিশ এসআই ইমরান হোসেন  ও এএসআই মামুন আলীর সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা সৎ ও নিষ্ঠার সাথে এই ইউনিয়নে কাজ করছি। মাদক নির্মূল ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে সব বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। আর এই অব্যাহত থাকবে।তবে দেখা যাচ্ছে একটি চক্র তাদের স্বার্থ সুবিধাভোগ করতে না পারায় আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম পায়তারা চালাচ্ছে।
অন‍্যদিকে থানা সুত্রে জানা যায়, বিট পুলিশ এসআই ইমরান হোসেন বেশ কয়েকবার সেরা বিট পুলিশের উপাধি পেয়েছেন এবং ১৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে ২নং রানীপুকুরে সবচেয়ে বেশী ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীকে গ্রেফতার করেছেন তারা।
জানা যায় রাণীপুকুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে একটি ইভটিজিং মামলাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিট পুলিশের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র।২নং রাণীপুকুর ইউনিয়নের জনসাধারণরা বলেন, একসময় রাণীপুকুর এলাকা ছিল মাদকের মুল স্থান। সন্ধ্যা নামলেই এই ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বসত মাদকের রমরমা ব্যবসা।যার কারনে যুব সমাজ মাদকাসক্তে হয়ে যাচ্ছে বিলীন। মাদকাসক্ত ও মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে নিত্য-নতুন ঝগড়া তো লেগেই থাকত। প্রায় প্রতিরাতে ঘটতো ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, চুরি, ছিনতাই ইত্যাদি। তবে বর্তমানে ২ নং রাণীপুকুর বিট পুলিশের সৌজন্য মূলক কার্যক্রম দেখে অনেকটা জনসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। যার ফলে এই ইউনিয়নে বাল্যবিবাহ, মাদক নির্মূল, চুরি-ছিনতাইসহ সাধারণ অপরাধ কমে এসেছে অনেকটা। তাছাড়া অপরাধ দিমনে তারা প্রতিনিয়ত এই বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ২৩ জুলাই ,২০২২/ মওম
- Advertisement -
- Advertisement -