প্রতিনিধি, দিনাজপুর:
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ উদযাপন উপলক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তর দিনাজপুর এর আয়োজনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
“নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ,বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ”এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ২৩জুলাই সপ্তাহব্যাপি জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২২ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতার শুভ উদ্ভোধন করেন মৎস্য অধিদপ্তর দিনাজপুর জেলার সহকারি পরিচালক পূরবী রানী রায়।জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন শেষে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সকাল ১০টায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ গ্রহন করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মুক্তাদির খান।সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে মৎস্য বিষয়ক বিভিন্ন আইন,মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক বিভিন্ন প্রযুক্তির সম্প্রসারনে, জনগনকে সচেতন এবং অংশগ্রহনমুলক করার ক্ষেত্রে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভুমিকা ও সহোযোগিতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্পের মতোই মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে আসছে।তাছাড়া গ্রামীন জনগোষ্টির আমিষের ৬০শতাংশ যোগান দেয় এই মাছ।বাংলাদেশ এখন মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ন।১৯৮৩-৮৪অর্থ বছরে মাছের মোট উৎপাদন ছিল ৭.৫৪লাখ মেট্রিক টন।৩৭বছরের ব্যবধানে ২০২০-২১অর্থবছরে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪৬.২১লাখ মেট্রিক টন।সময়ের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে ৬গুন। বর্তমান সরকারের বাস্তবমুখী কার্যক্রমের ফলে দেশ আজ মাছ ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন করেছে।মৎস্য খাতের এ সফলতা ধরে রাখার জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহনের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো জাটকা সংরক্ষন, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন,অভ্যন্তরীন জলাশয়ের আবাসস্থল উন্নয়ন,প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষন,প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষন,পরিবেশ বান্ধব চিংড়ী চাষ সম্প্রসারন,সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সহনশীল আহরন,উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ মাছ সরবরাহ এবং মৎস্য ও মৎস্যজাত পন্য রপ্তানী।এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন যে ইলিশ মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ১।মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী মাছের অন্যতম ভূমিকা পালন করে ইলিশ।গত ২০১৬-১৭অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদনের পরিমান ছিল ৪লাখ ৯৬হাজার মে.টন।সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থ বছরে এই উৎপাদন দাড়িয়েছে ৫.৫৬লাখ মে.টন। গত অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২শতাংশ।উল্লেখ্য যে মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তিনি পন্য।বর্তমানে এ সেক্টরে প্রায় ১৪লক্ষাধি নারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে।এছাড়া দেশের মোট কৃষি আয়ের ২৬.৫০শতাংশ আসে মৎস্য থেকে এবং দেশের উৎপাদনের প্রায় ৩.৫৭শতাংশ মৎস্য খাতের অবদান রয়েছ।মৎস্য সপ্তাহের উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আন্না রানী দাস,পুলহাট খামার ব্যবস্থাপক মোঃ খায়রুল আলমসহ আমন্ত্রিত অনেকেই।এসময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উওর দেন এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে মৎস্য উৎপাদন ও প্রসারনে সাংবাদিকদের সহোযোগিতা কামনা করেন।
আলোকিত প্রতিদিন/ ২৩ জুলাই ,২০২২/ মওম
- Advertisement -

