9:05 am |আজ সোমবার, ৯ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৩শে মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরি




রংপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড ৯ শতাধিক ঘরবাড়ি

রংপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড ৯ শতাধিক ঘরবাড়ি




নুরুন্নবী নুরু
কালবৈশাখী ঝড়ে রংপুরের কয়েকটি উপজেলার ৮ শতাধিক ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে বেশি ক্ষতি হয়েছে বদরগঞ্জ উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের ৬ শতাধিক ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয়েছে। এর মধ্যে   বিষ্ণুপুর ইউপির পলিপাড়া, আকন্দপাড়া, প্রামানিকপাড়া, গাছুয়াপাড়া গ্রামে  ৫ শতধিক ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয় ।
এছাড়াও কাউনিয়া, গংগাচড়া ও পীরগঞ্জের কয়েকটি গ্রামে আঘাত হানে কালবৈশাখী ঝড়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী শিলাবৃষ্টির আঘাতে ঘর-বাড়ি গাছপালা বৈদ্যুতিক খঁটি ক্ষতির পাশাপাশি উড়ে গেছে স্থাপনা। এসময় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আম, ভুট্টা, ধানসহ উঠতি ফসলের ক্ষতি হয়েছে ।  ২৬ এপ্রিল মঙ্গলবার  রাত ৯টা থেকে প্রায় ১০ টা পর্যন্ত থেমে থেমে কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭ দশমিক শূন্য মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ কম হলেও ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের বেগ বেশি ছিল। কোথাও কোথাও ভারী বজ্রপাতও হয়েছে। এ কালবৈশাখী ঝড়ে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর এবং রামনাথপুর ইউনিয়নের মধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঘরবাড়ির। এসময় গাছ-পালা উপড়ে পড়ে, মাটির বাড়িঘর ভেঙে যায়। এ দুটি ইউনিয়নের প্রায় ৬ শতাধিক ঘরবাড়ির ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।  বিষ্ণপুর ইউনিয়নের রেজাউল ইসলাম বলেন, রাত ৯ টার পরেই হঠাৎ তীব্র বাতাস শুরু হয়। প্রায় নিমিষেই চোখের সামনে ঘর বাড়ি গাছ পালা উড়ে গেল। রাতে থাকার মতো ঘর ছিলো না।  বুজরুক হাজিপুর গ্রামের মকবুল হোসেন বলেন, হঠাৎ রাতে যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি চলছিল, তখন ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। আমার নিজের ঘর-বাড়িসহ আশপাশের অনেকের বাড়ি ভেঙে তছনছ হয়েছে। বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিন্দিউল হাসান চৌধুরী শান্তু বলেন, রাতে ঘূর্ণিঝড় থেমে যাওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেছি। অত্র ইউনিয়নের ৪ ওয়ার্ডে প্রায় ৫ শতাধিক বাড়ি-ঘর ভেঙে তছনছ হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তালিকা করে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হচ্ছে।  বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনকে বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে এ উপজেলার দুটি ইউনিয়নের প্রায় ৬ শতাধিক ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। রংপুর -২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম  মোঃ আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক। এলাকায় পরিদর্শন করে ও শুকনো খাবার ,কম্বল বিতরণ করেছে ।ইতিমধ্যে তালিকা করে টিন ও নগত টাকা বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিকেলের মধ্যে মাননীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সেগুলো বিতরণ করবেন।এদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্দবে কাউনিয়া, পীরগঞ্জ, গংগাচড়ার বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময় ঝড়ে আহত শিশুসহ ১০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অনেক ঘরবাড়ি, গাছগাছালি ও উঠতি ফসল বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে ক্ষতি হয়েছে। সারারাত বিচ্ছিন্ন ছিলো বিদ্যুৎ সংযোগ।অন্যদিকে রংপুর-মীরবাগ ও কাউনিয়া ব্রীজসংলগ্ন এলাকায় ঝড়ে রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় সকালে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আটকা পরে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে গাছ অপসারণ করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করে।  রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল দৈনকি আলোকিত প্রতিিিদনকে জানান, এবারের কালবৈশাখী ঝরে ফসলের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে গাছপালার ক্ষতি হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম কামরুল হাসান জানান, মঙ্গলবার রাতে যে ঘূর্ণিঝড় এবং শিলাবৃষ্টি হয়েছে। সেই ঝড়ের স্থায়িত্ব ছিল ৫০ মিনিট। আগামী দুই একদিন রংপুর অঞ্চলে আরো ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি
আলোকিত প্রতিদিন/ ২৭ এপ্রিল ,২০২২/ মওম

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন











All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান