2:13 pm |আজ বৃহস্পতিবার, ১২ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ২৬শে মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরি

সংবাদ শিরোনাম:
সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দিতে সরকারকে ৬ দিনের সময় দিলেন ইমরান খান না ফেরার দেশে চলে গেলেন সত্যাশ্রয়ী মুক্তবুদ্ধি চর্চার অগ্রপথিক সেলিম বাগেরহাটে ট্রলির ধাক্কায় ২ জন নিহত লক্ষ্মীপুরে চাঁদাবাজির মামলা করায় প্রবাসীর বাড়ির  প্রাচীর ও ঘর ভাঙচুর, হুমকির অভিযোগ ক্রেতার অভাবে বিপুল পরিমাণ তেল নিয়ে সাগরে ভাসছে রাশিয়ার জাহাজ ফটিকছড়িতে ৭৮টি চোরাই মোবাইল ও কার সহ দুই যুবক গ্রেপ্তার  কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মা ও শিশুকে হত্যার ঘটনায় ২ আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব সাভারে জন্মদিনের কথা বলে বন্ধুদের নিয়ে প্রেমিকাকে গণধর্ষণ ঘিওরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সমুদ্রে ট্রলার ডুবি, ১০ ঘণ্টা পর ১৫ জেলে জীবিত উদ্ধার




বর্ষ বরণে চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

বর্ষ বরণে চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি




নিজস্ব প্রতিবেদক

বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘বাংলা বর্ষবরণ’ বা ‘পহেলা বৈশাখ’। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবাই এ দিনটির অপেক্ষায় থাকে। বর্ণিল সাজ আর আয়োজনের উৎসবে মেতে ওঠেন সবাই। বর্ষ বরণের আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা চত্বরে চলছে মঙ্গল শোভাযাত্রার শেষ সময়ের প্রস্তুতি। করোনার প্রকোপের কারণে ২০২০ সালে এই অয়োজন হয়নি। ২০২১ সালে স্বল্প পরিসরে হয় চারুকলার ভেতরে। তবে জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল অনুপস্থিত। সুস্থ পরিবেশে ফিরে সেই মঙ্গল শোভাযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। থাকবে জনসাধারণের  অংশগ্রহণ।প্রতি বছর চরুকলা অনুষদের দায়িত্ব পড়ে এই আয়োজনের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ,চারুকলার জয়নুল গ্যালারির সামনে শিক্ষার্থীরা আঁকছেন বিভিন্ন ধরনের ছবি। মাটির সরায় প্রস্তুত করা হচ্ছে নকশা। প্রস্তুত করা হচ্ছে বাহারি রঙের মুখোশ। নববর্ষের জন্য বিক্রি করা হচ্ছে প্রস্তুতকৃত এই শিল্পকর্মগুলো। দর্শনার্থীরা আসছেন, দেখছেন, অনেকে কিনছেনও বটে। এছাড়াও লিচুতলায় বানানো হচ্ছে বিশাল ঘোড়া ও টেপাপুতুলের স্ট্রাকচার। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর স্ট্রাকচার থাকবে মোট চারটি। পাশাপাশি পুতুল, মুখোশ ও অন্যান্য শিল্পকর্মও কোনও ডোনেশন ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান তারা। শিক্ষকদের দিক-নির্দেশনায় এসব কাজ করছেন চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। বুধবার চৈত্রের শেষ দিন। রাত গড়ালেই পহেলা বৈশাখ। সংগীত পরিচালক রজনীকান্ত সেনের লেখা গানের ‘নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে’ এই অংশটুকু নেওয়া হয়েছে এবারের বর্ষবরণের প্রতিপাদ্য হিসেবে। এর তাৎপর্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গল শোভাযাত্রা বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক এবং চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নিসার হোসেন বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। আমাদের মন মলিন হয়ে গেছে। করোনার পর আমাদের যে আশা, সেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এবারের প্রতিপাদ্য।’ কথা হয় আয়োজক ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। তারা জানান, এ রকম আয়োজনের অংশ হতে পেরে আনন্দিত এবং গর্বিত তারা। এবারের আয়োজনকেও তারা বলছেন সীমিত। এর কারণ হিসেবে বলছেন, প্রতি বছর ১০ থেকে ১২টি ভাস্কর্য থাকলেও এবার রাখা হচ্ছে চারটি।

চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিশিল্পকলা ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জারিন তাসনীম অনীষা বলেন, ‘শিল্প বা এই মঙ্গল শোভাযাত্রা সম্পর্কে আমরা সারাবছর থিওরি পড়ি। বছরে দুটি সময়ে আমরা এই ব্যবহারিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি। যার একটি এই পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, আরেকটি জয়নুল উৎসব। এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে আমাদের অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। প্রতিবছর এই আয়োজন হয়। কিন্তু মহামারির কারণে গত দুই বছর হয়নি। আমরা আশা করছি, এবারের আয়োজনের মাধ্যমে আবার আগের জায়গায় ফিরে যাবো।’

চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

দায়িত্বরত চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের ২২তম ব্যচের শিক্ষার্থী নিলয় দাস বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতির কাজ একদম শেষ পর্যায়ে। গত দুই বছরের মলিন পরিস্থিতি কাটিয়ে এ বছর আমরা একই পরিবেশে ফিরে আসতে পেরেছি। এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। এছাড়া একসঙ্গে দুইটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা নতুন করে মঙ্গল শোভাযাত্রায় যুক্ত হতে পারবে। এতে তারাও নতুন করে আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। অথচ গত দুই বছরে তারা এই অনুষ্ঠান আয়োজন দেখতে পায়নি।’প্রতি বছর শোভাযাত্রাটি চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ ও টিএসটি মোড় ঘুরে ফের চারুকলার সামনে গিয়ে শেষ হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবার ১৪ এপ্রিল ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে শুরু হয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা ভিসি চত্বর সংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন হয়ে আবার টিএসসিতে গিয়ে শেষ হবে। ওইদিন ৫টার ভেতর সব অনুষ্ঠান সমাপ্ত করার নির্দেশন দেওয়া হয়। ৫টার পর বের হওয়া গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করা যাবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসরত কোনও ব্যক্তি নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের জন্য শুধু নীলক্ষেত মোড় সংলগ্ন গেট এবং পলাশি মোড় সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন। মেট্রোরেল প্রকল্প চলমান থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে নববর্ষের কর্মসূচি পরিচালনার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এই আয়োজনে নেওয়া হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নববর্ষের দিন নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা এবং আর্চওয়ে স্থাপন করে তা মনিটরিং করার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অনুরো জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যেকোনও ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে নিরাপত্তা বাহিনী তৈরি রয়েছে বলে জানিয়েছেন শৃঙ্খলা উপকমিটির আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রক্টরিয়াল টিম, মোবাইল টিম, শিক্ষক কর্মকর্তাদের টিম, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা টিম এবং রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি রেখেছে শৃঙ্খলা বিভাগ। কেউ যদি কোনও অনাকাঙ্ক্ষি ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। আর এসব কিছু সমন্বয় করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।’

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৩ এপ্রিল ,২০২২/ মওম

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন











All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান