মাসুদ পারভেজ(রুবেল):
মামলায় হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা খালিশা চাপানি ইউনিয়নের মোসলেম মিয়া(৩০) নামে এক যুবক ও তার পরিবারেক যৌন হয়রানির মামলা ও বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।প্রতিবেশী শাকিল(১৬) ও তার বাবা লালমিয়া নালুর(৪০) কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় প্রথমে হামলা ও পরে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।বুধবার (১০ নভেম্বর) সরেজমিনে জানা যায়, কয়েকদিন পূর্বে যৌন হয়রানি মামলার বাদী মোছাঃ শাহানা বেগমের(৩৫) ছেলে শাকিল মোসলেমের ভাগিনা আঃ রহিম বাদশার(১৫) নিকট থেকে কিছু টাকা ধার নেয়। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২ অক্টোবর সকাল ৯ টা উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি সংঘটিত হয়। এক পর্যায়ে শাহানা ও তার স্বামী লাল মিয়াসহ তাদের আত্মীয়স্বজন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। বাঁধা দিতে গেলে হামলাকারীদের আঘাতে মোসলেমের বৃদ্ধামা মোছাঃ রিনা বেগম (৬০), বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী বাবা জবের আলী (৭৩)সহ তার বড় ভাই রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত হন।অবস্থা বেগতিক দেখে জীবন বাঁচানোর তাগিদে আহত রবিউল ইসলাম ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে সাহায্য চান।পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরন করে। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসা র জন্য আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এ ঘটনায় গত ১৬ই অক্টোবর মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে মোছাঃ শাহানা বেগম সহ ৮ জনকে আসামি করে ডিমলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হেরে যাওয়ার আশংকা ও বাদী পক্ষকে হয়রানি করতে ঘটনার ২৩ দিন পর ২৫ শে অক্টোবর নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে বাদী মোসলেমের বিরুদ্ধে পাল্টা যৌন হয়রানি চেষ্টার মামলা দায়ের করেন মারপিট মামলার ১নং আসামী লালমিয়ার স্ত্রী মোছাঃ শাহানা বেগম(২নং আসামি)। ঘটনার এখানেই শেষ নয়, গত ৯ই নভেম্বর ভোর রাত ৩টার সময় নিজেই নিজের ঘরে আগুন দিয়ে মো. মোসলেম উদ্দিন সহ ৪ জনকে আসামি করে ডিমলা থানায় আরও একটি ঘড় জ্বালানোর অভিযোগ দায়ের করেন অভিযুক্ত লালমিয়া ও তার স্ত্রী বলে এই প্রতিবেদককে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা বলেন , মামলায় হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে প্রথমে যৌন হয়রানির অভিযোগ ও পরে নিজের বাড়িতে ধানের খড়ের এক কোনায় আগুন লাগিয়ে দেন লালমিয়া।ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে করা হয়রানির মামলা প্রত্যাহার ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করছেন এলাকাবাসী।এ বিষয়ে, মামলার বাদী মোছাঃ শাহানা বেগম বলেন, মোসলেমরা মামালা করেছে তাই আমরাও মামলা করেছি। প্রতিবেশী আনিছুর রহমান বলেন, সামান্য টাকা নিয়ে মারামারি হয়েছে দেখেছি, কিন্তু ধর্ষণ চেষ্টার মত কোন ঘটনার কথাই শুনিনি। আরেক প্রতিবেশী মাখন বলেন, সামান্য ২০০ টাকার জন্য মারামারি হয়েছে উভয়ের মধ্যে।ধর্ষণ চেষ্টার কথা এই প্রথম শুনলাম। খালিশা চাপানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, আতাউর রহমান বলেন, সামান্য টাকার জন্য উভয়ের মধ্যে মারামারি হয়েছে কিন্তু ধর্ষণ চেষ্টার মত কোন ঘটনাই আমার জানামতে ঘটে নাই।ডিমলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, উভয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।থানায় মামলা হয়েছে তদন্ত চলছে, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
আলোকিত প্রতিদিন/১১ নভেম্বর,২০২১/আর এম
- Advertisement -

