আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজব প্রথা! এক নারী-ই হোন পরিবারের সব ভাইয়ের স্ত্রী

আরো খবর

ফিচার ডেস্ক: শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলামি বিধি অনুসারে একজন পুরুষ একসঙ্গে ৪জন নারী ( স্ত্রী ) রাখতে পারবেন।কিন্তু একজন নারী এক সঙ্গে একাধিক স্বামী রাখতে পারবেন না।বিশ্বমুসলিমরা এই বিধান পালন করলেও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী  পুরুষেরা  এটা মানতে নারাজ। তারা একসঙ্গে চারের অধিক স্ত্রী রাখেন।এটা তাদের জন্য খুব স্বাভাবিক বিষয়।তবে মহিলাদেরকে একসঙ্গে একাধিক স্বামী রাখতে দেখা যায় নি।ভিন্নধর্মাবলম্বী নারীরা একাধিক পুরুষের সঙ্গে সহবাস করেন।তবে একসঙ্গে একাধিক পুরুষকে স্বামী হিসেবে স্বীকার করেন না তারা।কিন্তু আজব এক প্রথা মানেন পাঞ্জাবারে মানসার বোহা গ্রামের আদিবাসীরা। সেখানকার মহিলারা একসঙ্গে একাধিক স্বামী গ্রহণ করতে পারেন। সেখানে এক স্ত্রী নিয়েই সংসার পাতেন পরিবারের সব ভাইয়েরা। শত শত বছরের এই প্রথা মেনেই ওই গ্রামের কোনো কোনো নারীরা ৫-৭ স্বামী নিয়ে সংসার করছেন।বংশপরম্পরায় চাষযোগ্য জমির সংকট, দারিদ্র্যের কষাঘাত এবং নারী-পুরুষ জনসংখ্যার আনুপাতিক হ্রাসের কারণেই এই প্রথা মানতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

jagonews24

সাম্প্রতিক সময়ে পাঞ্জাবে নারী-পুরুষের আনুপাতিক হার হলো, ৭৯৩ জন নারীর বিপরীতে ১০০০ পুরুষ। এ অবস্থায় গড়ে প্রতিটি পরিবারের অর্ধডজন ভাই মিলে বিয়ে করেন এক নারীকে।সেখানকার নারীরা বেশ ক্ষমতাশীল। ৫ স্বামী নিয়ে সংসার করছেন রজ্জো ভার্মা নামের এক নারী। দুই সন্তানের এই জননী প্রতি রাতে পরিবারের একেক ভাইয়ের সঙ্গে শুয়ে থাকেন। তবে প্রতি রাতে তিনি  কার সঙ্গে থাকবেন, সেটি সম্পূর্ণ তার সিদ্ধান্ত। এটাই সেখানকার রীতিনীতি। ৫ স্বামী আর দুই সন্তান নিয়ে সুখেই সংসার করছেন রজ্জো। তাদের মধ্যে নেই কোনো অশান্তি।

jagonews24

একইভাবে সুখে সংসার করছেন সুনীতা দেবী নামের আরেক নারী। তার অবশ্য ২ স্বামী। কারণ তার শ্বশুরের মাত্র ২টি ছেলে সন্তান। তাই এই ঘরে দুই ভাইয়ের বউ হয়ে এসেছেন সুনীতা। সুনীতার ভাষায় তিনি খুবই ভাগ্যবতী। কারণ তিনি দুজন স্বামীর স্ত্রী।একজন তাকে রান্নাতে সাহায্য করে এবং অন্যজন বাচ্চা মানুষ করতে। এমনইভাবে দুই ভাইকে বিয়ে করেছিলেন বুদ্ধি দেবীও। তার বয়স এখন প্রায় ৮০ বছর। তার এক স্বামী মারা গেছে। অন্যজন এখনও বেঁচে আছেন।

এক নারীর একাধিক ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ের এই রীতি গত শতাব্দী ধরে চলে আসছে। এক পরিবারে যতটুকু জমি আছে তা ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়। পরবর্তীকালে তারা যখন বিয়ে করেন; তখন সেই জমি তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে দেওয়া হয়।

jagonews24

যেহেতু প্রতিটি ভাইয়ের একজনই স্ত্রী থাকে; তাই আলাদা করে জমি প্রত্যেকের নামে ভাগ করার প্রয়োজন হয় না। তবে এ রীতির কারণে বাল্যবিবাহের প্রকোপ এবং একই সঙ্গে অকাল মাতৃত্বের আশঙ্কাজনক হার বেড়ে চলেছে।তবে এ পরিস্থিতি ঠেকাতে বর্তমানে ওই এলাকার পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহার, উত্তর প্রদেশের ধর্মগুরু ও সমাজপতিরা বাঁধ সাধছেন। অন্যদিকে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, একজনের বিয়ে করা বউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামীর অন্য ভাইদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে।ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং ন্যাশনাল কমিশন ফর ওমেনের নজরদারিতেও এসেছে বিষয়টি। তারাও মনে করছেন, এসব অঞ্চলের নারীরা মোটেই স্বেচ্ছায় এ দুর্ভোগ মেনে নিচ্ছেন না। প্রবল সামাজিক চাপ আর পারিবারিক দারিদ্র্যের অলঙ্ঘনীয় বাধ্যবাধকতার কারণে তারা মেনে নিচ্ছেন এই প্রথা।

সূত্র: ডেইলি মেইল/টাইমস অব ইন্ডিয়া

আলোকিত প্রতিদিন // আতারা

- Advertisement -
- Advertisement -