আজ সোমবার, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চেয়ারম্যান সাইদুরের কোনো অপরাধই যেন অপরাধ নয়-পর্ব-২

আরো খবর

 প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বি.কে নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সরদারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়ার নাম করে কোটি টাকা আত্মসাৎ ও আল-বাহিনী গঠন করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, আল বাহিনী (চৌকা) গঠন করে এলাকায় চাঁদাবাজি, রাহাজানি, মাদক, জুয়া ও নারী ব্যবসাসহ অকল্পনীয় সব রাজত্ব কায়েম করেছেন চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান। পরিষদের ১০ জন সদস্য প্রাক্তন জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েও পাননি কোনো প্রতিকার। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ঘর দেবেন বলে চেয়ারম্যান নিজে, তার ভাই আব্দুল সরদার ও আল বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। ঘরের লোভ দেখিয়ে ২০১৭ সালে যাদের থেকে টাকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ৫ নং ওয়ার্ডের নমসূদ্র কান্দির ফারুক সরদারের স্ত্রী তাছলিমা বেগম, হারুণ সরদারের স্ত্রী রোজিনা আক্তার(৩২), সোরাপ কাজীর স্ত্রী হাসি(৩৫), ৪ নং ওয়ার্ডের মৃধা কান্দির আব্দুর রশিদ মোল্লার স্ত্রী জমিলা বেগম, ১নং ওয়ার্ডের হাওলাদার কান্দির পবন হাওলাদারের দুই ছেলে মজিবর হাওলাদার, আলী হোসেন হাওলাদার, কদম আলী বেপারীর স্ত্রী হালিমা খাতুন, শাহালম বেপারীর স্ত্রী নুরজাহান, শাহজাহান শেখের ছেলে জাহাঙ্গীর শেখ, মৃত ইসমাইল হাওলাদারের ছেলে মুনছুর হাওলাদার, মৃত হাকিম আলী হাওলাদারের ছেলে এলেম হাওলাদার, মৃত কলম হাওলাদারের ছেলে রহিম হাওলাদার, মৃত মমতাজ উদ্দিন শেখের ছেলে মজিবর শেখ, মৃত শুক্কুর আলীর বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে সোহরাব মাঝিসহ প্রায় ৭০০ পরিবার থেকে ৫,১০০ শুরু করে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। ঘরের কথা বলে সবার থেকে টাকা নিলেও নিজস্ব ভোটার বা আত্মীয় স্বজন ছাড়া কাউকে ঘর দেননি। ঘর না পেয়ে টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমকি-ধামকির স্বীকার হয়েছেন এসব গরীব অসহায় সাধারণ মানুষ। কেউ কেউ কান্নাকাটি করে টাকা ফেরত নিলেও পরবর্তীতে চেয়ারম্যান নিজে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে ঘর প্রত্যাশীদের। আল বাহিনীর ভয়ে এদের কেউ মুখ খুলতে রাজি নন, তবে সাংবাদিকদের ক্যামেরার আড়ালে মুখ খুলেছেন পঁচাত্তরোর্ধ্ব ভ্যান চালক খাদেম সরদার। তিনি বলেন, ‘আমার টাকা চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ঘুরিয়ে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে আমি নাছোর বান্ধা বলে। এতে তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে বছর খানেক আগে শুক্কুর ফকিরের বাড়ির সামনে দুপুর বারোটায় (মঙ্গলবার) রোড এক্সিডেন্টকে কেন্দ্র করে অন্যায়ভাবে বিনা বিচারে আমাকে রাস্তার পাশে থাকা গাছের ডাল দিয়ে পায়ের উপর আচ্ছামত পিটিয়েছে। খাদেম সরদার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন পঁচাত্তরের উপর বয়স হয়েছে আমার, কেউ কোনোদিন গায়ে হাত দিতে পারে নাই, কিন্তু চেয়ারম্যান…., আমি কার কাছে বিচার দিবো? সে চেয়ারম্যান, তার বিচার করবে কে?’ বি.কে নগর কলেজ সংলগ্ন মৃত মজিদ হাওলাদারের প্রতিবন্দী( বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্দী) ছেলে কাশেম হাওলাদার ঘর পেয়েছেন। কাসেমের মা সুফিয়া বলেন, আমার ছেলে কাশেম তো প্রতিবন্দী, তার ইনকাম নেই তাই বড় ছেলে আবুল কালাম হাওলাদার ২৫০০০ টাকা দিয়েছে। তারপর ঘর পেয়েছি। বি.কে নগর ইউপির ভবন তৈরীর জন্য সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মজিবুর মাদবর ৯৮ নং মৌজার ৫৩০২ দাগের ৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করে পরিষদে দান করেন, কৌশলে পরিষদের সেই জমি বারেক কাজী, বাদল বেপারী, ইমরান তালুকদার, আব্দুর রশিদ বেপারীসহ অনেকের কাছে বিক্রি করে দিয়ে মার্কেট তৈরী করে প্রায় দেড় কোটি টাকার বানিজ্য করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সরদার। বি.কে নগর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্কুলের নতুন ভবনের পাইলিংয়ের মাটি টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের সভাপতি হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে নিজ বাড়ি করার জন্য সরকারি নদী ভরাট করতে নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে চৌকা বাহিনী ওরফে আল বাহিনী তৈরী করে এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেছে চেয়ারম্যান। চৌকা বাহিনীর মূল হোতা আল এরশাদ, আল নাছির, আল জসিম, আল সোবহান মাদবর, আল মাজেদ সিকদার, আল জলিল, আল মন্টু হাওলাদার, আল রাজ্জাক মাদবর, আল মাইনুল বাইন্না, আল আলী মৃধা। এদের প্রত্যেকের আল নাকি অনেক বড়, তাই নিজেরাই নামের আগে আল শব্দ ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন বলেও এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। এই আল বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় জমি ক্রয় বিক্রয়, ছেলে-মেয়ে বিয়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান করতে হলে দিতে হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। প্রতিদিন জলিল সিকদার, হাবিবের দোকানসহ বিভিন্ন জনের বাড়িতে বা মাঠের মধ্যে জুয়ার বোট বসিয়ে প্রতিরাতে ৫ হাজার টাকা নেন আল বাহিনীর সদস্যরা। ইলিয়াসের বাড়ির বাৎসরিক ওরসে গরীব পিঠা বিক্রেতা জালাল ফকির পিঠা দেওয়ায় দেরি করায় ডান চোখ নষ্ট করে দেন আল বাহিনী, আজও বিচার পাননি জালাল ফকির। বি. কে নগর বাজারের রেস্ট হাউজ এন্ড কফি হাউজ থেকে প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেছে বলেও অভিযোগ আল বাহিনীর বিরুদ্ধে। আল-বাহিনীর সদস্য আল রাজ্জাক মাদবর ১০০ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়ে উচ্চ আদালত থেকে মুক্তিও পেয়েছেন। মৃত মোতালেব ফকিরের বসতবাড়ি, লালমতিসহ একাধিক পরিবারের সমস্ত সম্পত্তি দখল করায় তারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। কামার সুমন মন্ডলের বাড়ি দখল করে ক্লাব নির্মাণ করেছে আল বাহিনী। সংখ্যালঘু সুমন মন্ডল দ্বারে দ¦ারে ঘুরে দুই বছর পর্যন্ত ঐ ক্লাবের বিদ্যুৎবিল নিজেই পরিশোধ করেছেন। সুমন মন্ডলের কান্না দেখে শেখ সেলিম(গোপালগঞ্জ) শরীয়তপুর পুলিশ সুপারকে বলায় সুমনের বাড়ি উদ্ধার হয়। সরকারি চৌকাদারি ট্যাক্সের কথা বলে ইউনিয়নের বসতবাড়ি থেকে ১০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে ঢাকার জুরাইনে তার নিজস্ব তারের কারখানা মেরামতের কাজে ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সীমা আক্তারের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক শেখ জানান, নাছির, এরশাদ, জসিম , জলিলদের কাছে আমার জেট্টিস নূরজাহান তার জমি বিক্রির জন্য ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল। বাকি ৬ বোন জমি বিক্রি করবে না, কিন্তু ওদের কথা হচ্ছে সবার জমি জোড় করে দলিল নিবে। আমি শশুড় বাড়ি থাকি, এই জমিটুকু হাতছাড়া হলে আমরা ভূমিহীন হয়ে যাব। ওদের কাজই হলো জমি বায়না করে জোর করে দলিল নেওয়া। তারা বলছে জোড় করে জমি দলিল করবে। ৭ বোনের জমি এতদিন তারা ভোগ দখলে ছিল, এখন যেমন দিনের বেলা এসে ঘুরে যায়, আগে এখানেই রান্না-বান্না করে খেত। এখন আমরা দখলে থাকলেও তারা এসে টহল দিয়ে যায়। ইমরান মাঝি জানান, তারা(আল-বাহিনী) তার রেস্টুডেন্ট থেকে চাঁদা দাবি করছিল, তার ফুটেজও আছে। তারা মাসে ৫০ হাজার টাকা প্রথমে দাবি করলেও পরে বলছে ২০ হাজার করে দিলে ব্যবসা করতে পারবি, না দিলে পারবি না। সুমন মন্ডল জানান, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ১৫ দিনের জন্য ক্লাব করবে বলে আমার ঘরটি এরশাদ মাদবর নিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বারবার ঘর ছাড়তে বললেও এরশাদ মাদবর বলছে ঘরের কাছেও আসবি না। আমি এবিষয়টি নিয়ে এমপি সা’বের কাছে গেলে তিনি তাদেরকে ঘরটি ছাড়তে বললেও তারা তার কথা শোনেনি। বিদ্যুৎবিলটি পর্যন্ত আমাকে দিতে হয়েছিল, পরবর্তীতে গোপালগঞ্জের শেখ সেলিমকে বিষয়টি জানালে তিনি নিজে এসপি স্যারকে জানান এবং তার পিএস দিয়ে ওসি স্যারকে অবগত করলে আমি ঘরটি ফেরত পেয়েছি, যাহোক আমি তার উছিলায় আমার ঘরটি ফেরত পেয়েছি। ইউছুব আলী মাদবরের ছেলে ইয়াকুব মাদবর নামে একজন জানান, পূর্ব থেকেই এরশাদ মাদবরদের সাথে আমাদের ফ্যামিলিগত ঝামেলা ছিল, সেই দন্ধকে কেন্দ্র করে ফেসবুক মেসেঞ্জারে এরশাদ মাদবর আমকে বলেন, তুই কোথায় আছোস, আমি ঢাকা আছি বললে বলে তুই আয় তোরে জবাই করুম, এই বলে তিনি আমাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে পিস্তল আর অনেকগুলো চাইনিজ কুঠারের ছবি দেখায়, আমি আতঙ্কে আছি। বি কে নগর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঐটা সম্পর্কে আমার কোনো কিছু জানা নাই। এই বলে তিনি ফোনের লাইনটি অফ করে দেন। বি কে নগর ইউপির ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য নুরুন নাহার বলেন, পরিষদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ পরিষদের নির্বাচিত ১০ জন মেম্বার প্রাক্তন জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহেরের নিকট অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেওয়ায় আমাদেরকে খাস খামরায় ডাকেন ডিসি কাজী আবু তাহের। সেখানে আমরাসহ চেয়ারম্যান ছিল, সবার কথা তিনি শুনেছেন। সেখানে কিছু হয় নাই। পরবর্তীতে পরিষদে আমাদের সবাইকে ডেকেছেন, সেখানে ডিসি সা’ব এসেছিলেন। আমাদেরকে কিছু করেন নাই, হয়ত খাম নিয়েছেন ডিসি সা’ব। ডিসি সা’ব চেয়ারম্যানের সাথে মিশে গেছেন। ডিসি সা’ব কাজ করেন নাই। ডিসি সা’বের চোখ রাঙানিতে আমরাও কিছু করতে পারি নাই। নুরুন নাহার আরও বলেন, তার এসব অপকর্মের কারণে আমি দীর্ঘদিন পরিষদে যাই না, তিনি আমার থেকে কোন স্বাক্ষর নেন না। কীভাবে কী করেন আমি জানি না। তবে মেম্বার নুরুন নাহার বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসানের নিকট গত ৮ই এপ্রিল আবারও একটি অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বি কে নগর ইউপির ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য মোবারক মাদবর বলেন, একবার আমরা অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কারণ পরিষদ থেকে যে বেতন দেওয়ার কথা তা তিনি দেননি আমাদের। তিনি ট্যাক্স উঠিয়ে নিয়েছেন ঠিকই কিন্তু আমাদের বেতন দেননি। ঘর দেওয়ার কথা বলে তিনি জনগণ থেকে টাকা নিয়েছেন শুনছি, ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন মেম্বার আমরা কেউ জানি না। তিনি যদি ফোন দিয়ে বলেন যে লোকজন নিয়ে আসেন সাহায্য করবেন, তাহলে যাই নয়ত আমি পরিষদে যাই না। ঐ জায়গাটায় মার্কেট উঠতাছে, শুনছি সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর মাদবর জায়গাটা দিয়েছিল আবার শুনছি সে নিয়ে গেছে, কার জায়গায় কে ঘর তুলতেছে জানি না।
বি.কে নগর ইউপির এক বাসিন্দা ইলিয়াস মাদবর বলেন, চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সরদারের লোকজন আমার বাড়িতে আক্রমণ করেছিল, এখানে ককটেল মেরেছিল। তারা আমার বাড়ির দিকে তিনটি শটগান দিয়ে গুলি করছে। তারা আমাকে মেরে ফেলার জন্য গুলি করলে আমাকে আমার বাড়ির লোকজন ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল। সাইদুল সরদার মূলত এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে প্রায়ই এসব করে বেড়ায়। চেয়ারম্যান হওয়ার আগে সাইদুর রহমান সরদার তার চার ভাইসহ করিম মৃধা হত্যা মামলায় আসামী হয়ে জেলও খেটেছিলেন। তিনি মাছ বিক্রেতা আফছার সরদারের পুত্র, সামান্য মাছ বিক্রেতার পুত্র হয়ে প্রথমে ইভালা কেবল কোম্পানির সেলসম্যানের চাকরি করে পরবর্তীতে বিভিন্নজনকে ধর্মের মামু-বাপ ডেকে চেয়ারম্যান হয়ে এলাকায় এমন কোনো অপকর্ম নাই, যা তিনি করেন নি। জাজিরা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ঢালী বলেন, প্রায় এক-দেড় হাজার লোক থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে, শুনছি এক দেড়শ লোককে ঘর দিয়েছে। ঘর যাদেরকে দিয়েছে, তাদের প্রত্যেক থেকে ২৫/৩০ হাজার করে নিয়ে ঘর দিয়েছে, টাকা ছাড়া কাউরে ঘর দেয়নি। বি.কে ইউপির জমির বিষয়ে বলেন জমিটা তো সরকারি ও নিজেরে সরকার মনে করে মার্কেট করতাছে। শুনছি মার্কেটের দোকানগুলো সে বিক্রি করে দিয়েছে। স্কুলের জমির বিষয়ে বলেন, স্কুলের জমিও সরকারি আর ও যেখানে স্কুলের মাটি নিয়েছে সেটাও সরকারি। ও বাড়ি করার জন্য কাদেরপুর আর বি. কে নগরের সংযোগস্থল সরকারি একটি বড় খাল ভরাট করতে ঐ মাটি নিয়েছে। বি. কে নগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মজিবর মাদবর বলেন, আমার কাছে প্রায় ৩০০ লোকের অভিযোগ আছে, আমি ডিসি স্যারকে জানালে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি আবুল কালাম ও শরবত বাইনের কাছ থেকে ক্রয় করে পরিষদে দিয়েছিলাম, জমিটা ওরা স্টাম্পের মাধ্যমে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করছে। হাই স্কুলের মাটি নিয়ে নদী ভরাট করে বাড়ি করতেছে। চৌকা বাহিনী শুধু আমি কেন, এলাকার সবাই জানে। এই বাহিনী দিয়ে একজনের ৭ শতাংশের জায়গায় ৯৭ শতাংশ জমি নিয়ে গেছে। চার দোকানদার জলিলের চোখ কানা করছে। বাহিনীর বিষয়ে প্রশাসন তৎপর নয়। এছাড়াও জন্ম নিবন্ধনের জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ টাকাসহ বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা টাকা ছাড়া হয় না এখন পরিষদে। বি. কে নগর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সরদার বলেন, আমার চৌদ্দ গুষ্ঠীর মধ্যে কেউ এসব শব্দও শুনে নাই। আমি ঢাকায় আছি, এসে আপনাদের সাথে কথা বলব। এবিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান ভূইয়া বলেন, যখন ঘরের কাজগুলো যখন প্রায় শেষ তখন আমি দায়িত্ব নিয়েছি, আমি শুনেছি। দুর্যোগ সহনীয় ঐ ঘর গুলো নিয়ে আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করেছেন, যেহেতু আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করেছেন এবং আমাকে এবিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেন নাই, সেহেতু আমি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারি না। খাল ভরাটের বিষয়টি এই প্রথম শুনলাম, এর আগে কেউ বলেনি। আমি আমার এসিল্যান্ড ও ঐ ইউনিয়নের তহশিদারের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তদন্ত রিপোর্ট এখনো আমার কাছে পৌঁছায় নাই, রিপোর্ট আসলে রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/৮আগস্ট-২১/এইচ
- Advertisement -
- Advertisement -