আজ বৃহস্পতিবার, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১১ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো: নাছির উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে কলেজের ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আরো খবর

প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ  : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো: নাছির উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে অভিনব কায়দায় পনের লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন খান তার সময়ে গত ০৪/১১/২০১৪ ইং তারিখে নিজস্ব প্রয়োজন দেখিয়ে অবসরের টাকা থেকে পরিশোধের শর্তে কলেজ হতে ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। তারপর ০৫/৭/২০১৬ ইং তারিখে অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন খানের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তার আস্তাভাজন গভর্নিং বডি তাকে টাকা পরিশোধ থেকে দায়মুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যা বেসরকারী কলেজে এত বড় অঙ্কের টাকা দায়মুক্তির সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন ঘটনা এবং ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের পথকে সহজতর করে দেওয়ার প্রচেষ্টা মাত্র। পরবর্তীতে বিষয়টি যখন সকলের দৃষ্টি গোচর হয় তখন গভর্নিং বডি তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বাতিল করে কলেজ থেকে টাকা চেয়ে অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন খানকে চিঠি দেন। তিনি সেই চিঠির উত্তরে গত ১৭/১২/২০১৭ ইং তারিখে সময় চেয়ে একটি আবেদন করেন। অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন খান সেই আবেদনে উল্লেখ করেন আমি অবসর ভাতার চেক পেয়েছি কিন্তু চেকটি একাউন্ট পে বিধায় উক্ত চেক কালেকশনের জন্য সোনালী ব্যাংকে ফুলবাড়ীয়া শাখায় জমা দিয়েছি। এতদসঙ্গে চেক জমার রশিদের ফটোকপিও আবেদনের সাথে সংযুক্ত করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন আমি অবসর ভাতার টাকা পাওয়ার সাথে সাথে কলেজের সমস্ত টাকা এক সাথে পরিশোধ করে দেব। কিন্তু দুঃখের বিষয় অবসর ভাতার টাকা পাওয়ার পর তিনি কলেজের পাওনা একটি টাকাও পরিশোধ করেননি। তাকে কলেজ থেকে বার বার টাকা পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়া হলেও তিনি দেই দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করেছেন। এই সম্পর্কে চতুর অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন খানের কাছে ফোনে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে তাকে বার বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। লোক মুখে জানা যায়, একটি শক্তিশালী মহল তার এই টাকা আত্মসাতের পেছনে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। যার দরুন বিগত সাতটি বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও কলেজ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সাহস পায়নি। এত সঠিক তথ্য প্রমাণ থাকার পরও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এত বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ হয় কিভাবে এটা সর্বমহলের প্রশ্ন? উক্ত টাকা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ।

আলোকিত প্রতিদিন/সাগর

- Advertisement -
- Advertisement -