আজ রবিবার, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লকডাউনে চরম বিপাকে সিংগাইরের সবজি চাষীরা

আরো খবর

প্রতিনিধি, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ):
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা রাজধানী শহর ঢাকার পশ্চিম পাশ ঘেষে অবস্থিথিত কৃষি নির্বর একটি অঞ্চল। এ উপজেলার প্রায়  ৬০% লোকের পেশা কৃষি। সিংগাইরের অধিকাংশ লোকের আয়ের উৎস একমাত্র কৃষি পণ্য বিক্রিত অর্থ। মহামারি (কোভিড-১৯) করোনা ভাইরাসের একনায়কতন্ত্র দাপটে সারা বিশ্বই হয়ে পরেছে অসহায়। সকল পরাশক্তিই তার কাছে আজ পরাজিত। বাংলাদেশেও এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সারা দেশের ন্যায় সিংগাইর উপজেলার খেটে খাওয়া মানুষ গুলো যেমন হয়ে পরেছে কর্মহীন এবং অসহায় তেমনি এখানকার শাক সবজি চাষিরা পড়েছে সর্বকালের সেরা বিপর্যয়ে। সিংগাইরের চাষিদের উৎপাদিত শাক সবজি বিক্রয়ের সব চাইতে বড় পাইকারী বাজার জয়মন্টপ, কিটিংচর কাঁচা -পাকা মালের আড়ৎ, সিংগাইর, সাহরাইল, মানিকনগর, বায়রা , মুসলেমাবাদসহ অন‍্যান‍্য বাজারে বিক্রয়ের জন্য নেয়া হলেও চলমান লকডাউনের কারণে যথেষ্ট পাইকার ও খুচরো ক্রেতা না থাকায় তারা সবজির ন‍্যায‍্য দাম পাচ্ছেনা। অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের ঘাম জড়ানো কষ্টের উৎপাদিত সবজি। সবজি বিক্রিত অর্থে তাদের খরচের এক-তৃতীয়াংশ ও যোগান হচ্ছে না। সিংগাইরের উল্লেখ যোগ্য শাক সবজির মধ্যে রয়েছে গাজর,আলু,পেঁয়াজ, মরিচ, পেঁপে, শশা, চিচিঙ্গা,মিষ্টি কুমড়ো,চাল কুমড়ো,পানি লাউ, ধুন্দল,বেগুন, ধনে পাতা,পুইশাক ও লাল শাক।
এ বিষয়ে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের সবজি চাষী মোঃ নূর হোসেন প্রামানিক বলেন, এ বছর পেঁপেসহ অন‍্যান‍্য সবজির প্রায় ১০ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছি। সবজির বাজার দাম স্বাভাবিক থাকলে প্রায় ১০ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করতে পারতাম। কষ্টের বিষয় আমার সবজির বাম্পার ফলন হলেও লকডাউনের কারণে সবজি বাজারে নিলে বিক্রিত অর্থ দিয়ে আমার খরচও উঠে না। তাই আমি  চরম ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি। জমি চাষাবাদ,বীজ,সার,কীটনাশক ও কামলার জন্য যে ব্যয় হয় তা আমরা এ সবজি বিক্রির টাকা দিয়ে মিটিয়ে থাকি। এ বছর আমরা এ ব্যয় কি ভাবে মিটাবো? তাই এ বিষয়ে সরকার আমাদের কোন সহযোগিতা না করলে আমরা মহাবিপদে পড়বো। তাই সরকারের কাছে আমাদের জোরালো দাবি ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদে তালিকা তৈরি করে যেন আর্থিক প্রনোদনা দেওয়া হয় যা দিয়ে আবারও আমরা চাষিরা ঘুরে দাড়াতে পারি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ টিপু সুলতান স্বপন বলেন, যে সব চাষী আমাদের সাথ যোগাযোগ করছে এবং  আমরা নিজেরাও চাষীদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বিক্রয়ের জন‍্য পাঠানোর ব‍্যাপারে সর্বাত্বক সহযোগিতা করছি। এ বছর সিংগাইরে প্রায় ২,১৫০ হেক্টর জমিতে  সবজির আবাদ হয়েছে যার উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা প্রায় ৩১,২৫০ মেট্রিক টন। এ সবজি রাজধানী ঢাকার চাহিদার প্রায় ৩০% যোগান দিয়ে থাকে। এছাড়াও পাইকারী ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে থাকে সিংগাইরের উৎপাদিত সবজি।

আলোকিত প্রতিদিন /৭ জুলাই,২০২১ / দ ম দ

- Advertisement -
- Advertisement -