2:25 pm |আজ রবিবার, ১৭ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১লা আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জিলহজ ১৪৪২ হিজরি

কল্পনা চাকমা অপহরণ নাটকীয়তার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের মুখোশ উন্মোচিত

কল্পনা চাকমা অপহরণ নাটকীয়তার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের মুখোশ উন্মোচিত

প্রতিনিধি, পার্বত্য চট্টগ্রাম:
পাহাড়, অরণ্য, ঝর্ণা ধারার নিঃস্বর্গ ভূমি পার্বত্য চট্টগ্রাম। কাপ্তাই লেক, চাকমা রাজবাড়ি, সুবলংঙের  জলপ্রপাত, আকাশ ছোঁয়া চিম্বুক পাহাড় আর ছবির চেয়েও সুন্দর বিলাইছড়ি, সাজেক, নানিয়ারচর পাহাড়ি গ্রাম। আলুটিলা বা হেতমুড়োর পাহাড়ের নৈস্বর্গিক দৃশ্য মুগ্ধ না করে ছাড়ে না মানব হৃদয়কে। দেশের প্রত্যেকেই পাহাড়ে ঘুরতে না গেলে মনে হয় কিছুই দেখা হলো না জীবনে। আর যারা পাহাড়ে ঘুরতে আসে তারা পাহাড়কে দেখে নৈস্বর্গের ছবিতে। আর যারা আরেকটু অনুসন্ধিৎসু হবেন, তারা দেখবেন অন্য এক বেদনা বিধুর পাহাড়, শুনবেন পাহাড়ে বসবাসরত মানুষের বঞ্চনার কথা। তেমনি এক ঘটনা কল্পনা চাকমার ষড়যান্ত্রিক ইতিহাস। পাহাড়ে সাধারণ নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না। রাষ্ট্রের উদারনীতি দায়ী তার জন্য। এর সুযোগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ী জনগোষ্ঠীগুলো। বিভিন্নভাবে অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মহারাজ্য গড়ে তুলেছে পাহাড়কে। গড়ে তোলা হয় সসস্ত্র বাহিনী। যা রাষ্ট্রের বিরোদ্ধে এক বড় ষড়যন্ত্র। তাদের দীর্ঘ পরিকল্পণায় যখন নজর দিয়েছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী । ঠিক তখনি বিশাল একের পর এক ষড়যন্ত্র দাড় করিয়ে প্রশ্নবৃদ্ধ করার চেষ্টা করা হয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরোদ্ধে। যাতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার ঢিলেঢালা হয়। আর তখন তাদের অবৈধ কাজ অবাধে করা যায়। কল্পনা চাকমা এ ঘটনার বাতাসি ঘুড়ি, তাকে উড়িয়ে দেওয়া হলো বাতাসে আর এর জন্য সাজানো হলো ষড়যন্ত্রমূলক এক নাটক। অবাক তখন মানব সমাজ যখন ঘরে নেই কল্পনা। পার্বত্য জেলা রাঙামাটি বাঘাইছড়িতে নিজ বাড়ি কল্পনা চাকমার। কল্পনা চাকমার সবচেয়ে বড় পরিচয় হল তিনি ছিলেন তৎকালীন শান্তিবাহিনীর অঙ্গ সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদিকা। রাজনৈতিক, আন্দোলন ও নেতৃত্বে স্বল্প সময়ের মধ্যেই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এই নেতৃত্ব কল্পনা চাকমা বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারেন নি। কারণ এক ষড়যন্ত্র রাজ্যের নায়েকা হিসাবে অভিনেত্রী হতে হয় তাকে। তা হল-
মধ্যরাতে যখন নিরবতার বাতাসে প্রকৃতি ঘুমিয়েছে। ঠিক তখন পাহাড়ী জেএসএস সন্ত্রাসীদের নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে কল্পনার রাত জাগা। কারণ ছিল, বিভিন্ন অপকর্ম ও চাঁদার বিপুল পরিমাণ টাকা, যখন তার সন্ত্রাসী দলের প্রধানরা সেগুলো তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বলে, সে তখন উল্টো আরো টাকা চায় তার দলের নির্বাচনের খরচের জন্য। কিন্তু তাদের ধরা কষাকষিতে  না বনায়, সে তার দলের প্রার্থীতার কাজ না করে আওয়ামীলীগ প্রার্থী দিপংকর তালুকদারের বিজয় নিশ্চিত দেখে, পরবর্তীতে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ ও দলের আর তার অপকর্ম থেকে নিজেকে বাঁচাতে দিপংকর তালুকদারের পক্ষে প্রচারণা কাজ শুরু করেন। যা পরবর্তীতে তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। যখন তার স্বজাতিরা তার বিরোধীতার কথা জানতে পারে তখন তাকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ও প্রাণ নাশের কথা বলা হয়। সে থেকে বাচঁতে কল্পনা চাকমা ও তার দলের লোক (যারা টাকার লোভে তার সাথে হাত মিলায়) এক গভীর ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তখন কিন্তু সে গর্বতী অবস্থায় ছিল তা শুধু তার পরিবার জানতো আর তার সে গর্বের সন্তান ছিল প্রেমিক ও সদ্য পরিবারের অবাধ্য হয়ে বিয়ে করা স্বামী অরুণ বিকাশ চাকমার। এটিও একটি কারণ ছিল অন্যতম। যখন তারা ষড়যন্ত্রমূলক চিন্তায় মগ্ন হয়। হঠাৎ মাথায় আসে আগামী কালতো নির্বাচনের দিন। সেদিন লেফটেনেন্ট ফেরদৌস সকালে নির্বাচন উপলক্ষে দায়িত্ব পালনের জন্য উগলছড়ি ক্যাম্পে আসেন, যা কল্পনা চাকমার বাড়ির নিকটবর্তী ছিল। উক্ত ক্যাম্পে একজন মেজর, একজন ক্যাপ্টেন, দুজন লেফটেনেন্ট সহ প্রায় ৯০ জন সৈনিক ছিল। তারা এবং নির্বাচন পরিচালনা কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাসহ সকলে ঐদিন উগলছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাত যাপন করে। যা দেশের প্রত্যেক স্থানে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিতরা ছিল।  নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান দেখে কল্পনা ও তার সহচরদের মাথায় শুস্ক এক পরিকল্পনা আনতে সক্ষম হয়। তার পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর উপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলে। কারণ, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর দায়ভার চাপানো হলে,পরবর্তীতে তারা বেচে যাবে অনায়েসে। এভেবে গভীর পরিকল্পীত ঘটনার জম্মদেয় কল্পনা ও তার সহচররা। অপরদিকে তৎকালীন তরুণ সেনা অফিসার লে. ফেরদৌস বেশ কিছু সফল অপারেশন পরিচালনার মাধ্যমে শান্তিবাহিনী এবং পিসিপির মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি ছিলেন উগলছড়ি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার। নির্বাচনের উদ্দেশ্যে তার ঐ ক্যাম্পে আগমন। খুব তাড়াতাড়ি তার এই সফলতা শান্তিবাহিনী এবং পিসিপির মধ্যে চিন্তার উদ্রেক করে। পরবর্তীতে তাকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে তার গাড়ির বহরের উপর বেশ কয়েকবার এম্বুশ করে শান্তিবাহিনী ও পিসিপি। কিন্তু তার কোন ক্ষতি করতে পারে নি তারা। ফলে তারা ফন্দি আটতে থাকে কীভাবে লে. ফেরদৌসকে কোন বিতর্কে জড়িয়ে তাকে এলাকা ছাড়া করা যায়। এ পরিকল্পিত চক্রান্তে ১৯৯৬ সালে ১১ জুন মধ্যরাতে নিজ বাড়ি থেকে পালিয়ে বর্ডার পার হয়ে ভারতে যায় কল্পনা চাকমা। অবশ্য তখন তার পরিবার ও সহচররা তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবী তুলে যা তাদের পরিকল্পনার ফল। আবার কেউ কেউ বলেন তিনি স্বেচ্ছায় জীবন বাচাঁতে আত্মোগোপনে চলে গেছেন। সত্যতার অনুসন্ধানে আরো কিছু রহস্য দেখা যাক: কল্পনা চাকমার প্রেমিক (পরবর্তীতে স্বামী) অরুণ বিকাশ চাকমা ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ভারতীয় রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সাথে জড়িত। অরুণ চাকমা বেশ কয়েকবার কল্পনা চাকমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। কল্পনা এবং অরুণ দুজনের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্কও গড়ে উঠেছি এবং তাদের পরিবারের অমতে বিয়ে হয় এবং সে গর্ভধারণ করে। এই সম্পর্কের কথা কল্পনার বাড়িতে জানাজানি হলে কল্পনার পরিবার সে সম্পর্ককে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তার বেড়াজাল তো তখন আছেই। কল্পনা তাদের নিজস্ব প্রার্থী বিজয় কেতন চাকমার প্রচার চালানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের প্রচার চালানো। যার কারণে তিনি অতি দ্রুত সবার নজরে চলে আসেন। তার এ রহস্য ঘিরেই ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা সাজায় আঞ্চলিক সংগঠনটির তার সহচররা। বিষয়টি টের পেয়ে তৎকালীন শান্তিবাহিনী ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)‘র কতিপয় শুভাকাঙ্ক্ষী (যারা তার থেকে বিশাল অংকের টাকা পেয়েছিলেন) তাদের সহায়তায় এবং পরিকল্পনায় প্রেমিক অরুণ বিকাশ চাকমার কাছে কল্পনা চাকমা পালিয়ে যেতে সাহয্য করে ও এ সুযোগে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর অপবাদ দিয়ে এবং সেখানে থাকা জেএসএস সদস্যরা তাদের উপরের জেএসএস লিডারদের নিকট ভালো সাজার একটি সুযোগ নেয়। এবং এর মাধ্যমে কল্পনার সহচররা সহজেই বিপুল চাঁদা ও নির্বাচনে পাওনা অর্থ নিজের করে নেয়া একটি সুযোগ হল। যা পরবর্তীতে জেএসএস দলের নেতারা জানতে পেরেছে এবং তার শাস্তি দিতে চেয়েছে। যার ফলে পালিয়ে যাওয়া কল্পনা এই পরিকল্পণার বলির পাঠা হয়ে নির্বাসিত জীবন বেঁচে প্রেমিকের সাথে এখন ভারতে পরিবার ছাড়া জীবন যাপন করছে। যাকে অনেকটা স্বেচ্ছায় অন্তর্ধান বলা যায়। বিষয়টি তার পরিবারের সকলেই জানে। এ ঘটনায় প্লট পরিবর্তন করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য শান্তিবাহিনী এবং পিসিপি সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে মিথ্যা অপহরনের নাটক মঞ্চস্থ তৈরি করে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিতর্কিত করে যাচ্ছে। যাদের চক্রান্তের সাথে দেশের একদল কুচক্রিমহল ও জড়িত রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী এ কাজে জড়িত নয় এর প্রমাণ অনেক রয়েছে। যার প্রথম ধাপ ছিল ১২ জুন ১৯৯৬ তারিখে কল্পনা চাকমার ভাই কালিন্দা কুমার চাকমা বাঘাইছড়ি থানার মামলা (মামলা নং-২/৯৬১)। পরবর্তীতে কল্পনা চাকমা নিখোঁজের ব্যাপারটিকে নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। এক পর্যায়ে তদন্ত কমিশন কল্পনা চাকমার মাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কল্পনা চাকমার মা শান্তিবাহিনী ও পিসিপির চাপে পরে উপরোক্ত ঘটনাটি আড়াল করেন এবং তদন্ত কমিটিকে জানায়, যে রাতের বেলা কিছু লোক অস্ত্র হাতে, লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় তার বাড়িতে দরজা কেটে প্রবেশ করে কল্পনাকে নিয়ে যান (যারা ছিল তার থেকে ভাগ পাওয়া টাকার লোভে তাকে ভারতে পাঠতে সাহায্য কারী সহচর দল)। সাথে কল্পনার দুই ভাইকেও নিয়ে যায়। কিছুদূর নিয়ে যাওয়ার পর তার ভাইদের পাঠিয়ে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তার মা তিনটি গুলির আওয়াজ পান। এখানে রহস্যের ব্যাপার হল যে, গুলির আওয়াজ তিনি একাই পেয়েছিলেন। তার আশেপাশের কেউ এই আওয়াজ পান নি। তিনি আরো বলেন যে, ‘যারা এসেছিল তাদের কথাবর্তা পাহাড়িদের মতই‘। যাই হোক, সময়ের সাথে চলতে থাকে তদন্তের কার্যক্রম। এলাকাবাসীর মন্তব্য এবং কল্পনার পরিবারের কথায় যখন তদন্ত কমিটি সন্দিহান হয়ে পড়ে। ঠিক তখনই ১ আগস্ট ১৯৯৬ তারিখে কল্পনা তার মার সাথে যোগাযোগ করে এবং জানায় যে, সে ভাল আছে। (বিষয়টি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রকাশিত) ৮ আগস্ট ১৯৯৬ তারিখে কল্পনা চাকমাকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের গংগাছড়া মহাকুমার ৪ মাইলের শুক্রে নামক এলাকায় দেখা যায় খবরে উঠে আসে। ৯ আগষ্ট ১৯৯৬ তারিখে বিভিন্ন পত্রিকায় কল্পনা চাকমা বেঁচে আছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ তারিখে অরুণাচল থেকে লিখিত একটি চিঠিতে কল্পনা চাকমা উল্লেখ করেন যে, প্রায় কিছুদিন আগে তিনি মা হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আত্মীয়দের স্বজনদের নিষেধ অমান্য করে বিয়ে করায় নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। ১৪ জুন ১৯৯৬ তারিখে প্রকাশিত প্রথম আলোর একটি লেখাকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে,দাবী জানান যে, ত্রিপুরার এক সেনা কর্মকর্তা সাংবাদিক আবেদ খান-কে নিশ্চিত করেছেন যে, কল্পনা চাকমাকে সেনাগোয়েন্দারা ত্রিপুরায় অক্ষত অবস্থায় দেখে এসেছে। এমনকি কল্পনা চাকমা অবশ্যই বেঁচে আছে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। আর এদিকে  তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি যখন কল্পনা চাকমার বাসায় যায় তখন তার ব্যবহৃত কোন প্রকার ব্যবহার্য দ্রব্য পাওয়া যায় নি। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, অপহরণকারীরা যদি অসৎ কোনো উদ্দেশ্যেই তাকে তুলে নিয়ে যাবে তাহলে তার ব্যবহার্য দ্রব্যাদি কেন নিয়ে যাবে?? কল্পনা চাকমার অপহরণ ঘটনায় সিআইডির দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রত্যাখ্যান করেছেন তার পরিবার। আদালতে তদন্তের ব্যাপারে কল্পনা চাকমার ভাই আবারো নারাজি আবেদন করেছেন। রাঙামাটির আদালতে কয়েকবার সিআইডির দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন কল্পনা চাকমার ভাই কালিন্দী কুমার চাকমা। কারণ এতে সব সত্যতা দেখে সে অবাক হয়েছেন এবং তাদের চক্রান্ত প্রকাশের অবস্থা জেনে তাতে তিনি আদালতে নারাজি আবেদনও করতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ তাদের জীবন মরণ এখন  রুপকুমার চাকমার মত কঠিন জীবন যাপন করে আসছে। গোপন সুত্রে জানা যায় তার মামলা চালানোর জন্য তাকে জেএসএস অনেক টাকা প্রদান করেছে এবং করে আসছে। সে সময়ের কল্পনার সহচররা অনেকেই এখন ইউপিডিএফে যোগ দিয়েছে। এবং তারা সত্য বলে দিচ্ছে। এ ঘটনার তদন্ত হয়েছে অনকেবার। এর মধ্যে বেশ কয়েবার তদন্ত করেছে সিআইডি। তাতে ততবারই নারাজি আবেদন করে কল্পনা চাকমার পরিবার। তাহলে বুঝুন এবার তাদের চাওয়া পাওয়া কি? ইতিপূর্বে যেহেতু পুলিশ তদন্ত করেছে, সিআইডি তদন্ত করেছে কিন্তু তারা অপহরণের বিষয়ে যা তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে তা মানতে নারাজ তারা। কারণ তাতে তাদের সত্য কাহিনী বের হয়ে আচ্ছে। যা নাটকের এক মঞ্চ কাহিনীরমত। বিচারের প্রক্রিয়া শুরুর আগেই পরলোকগমন করেছেন অনেক সত্য তথ্য দেয়া কল্পনা চাকমার মা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই মিথ্যা তথ্যে গুরপাক খাচ্ছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন মহল। এক পর্যায়ে তদন্ত কমিটি কল্পনা চাকমার ভারতে থাকার সুত্র পান এবং তাকে দেশে ফিরে আসার জন্য চিঠি লিখেন। ফিরতি চিঠিতে কল্পনা চাকমা লিখেন, তিনি ফিরে আসতে চান। কিন্তু ফিরে আসলে শান্তিবাহিনী তাকে হত্যা করে ফেলবে। এই ভীতি থেকেই তিনি দেশে আসেন না। উপযুক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কল্পনা চাকমা আসলে নিজে নিজেই তার সহচরদের সহয়তায় ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। আর এখন সে আসতে পারছেনা দু’টি সমস্যার কারণে, একটি হল তার ভালবাসার মানুষ ও সন্তান হারানো এবং আরেকটি হলো তার স্বাভাবিক বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নেই। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও শান্তিবাহিনীর নীতি পরিপন্থি হওয়ায় তারাই তাকে অপহরণ বা হত্যা যা ইচ্ছেমত তা করেছে। শান্তিবাহিনী নির্বাচনে তাদের ভরাডুবির কথা আঁচ করতে পেরেই উদ্দেশ্য প্রোনোদীতভাবে এই নাটক রচনা করেছিল। শুধু কল্পনা চাকমা নয়, সেই সময়ে তারা আরও ৩৫ জন আওয়ালীগ পন্থী উপজাতিকে অপহরণ করে চরম নির্যাতন এবং মুক্তিপন আদায় করেছিল। সুতরাং আজও তারা কল্পনা চাকমাকে ঘিরে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ক্রমাগত চালিয়ে আসছে। শুধু এইটুকু বলা যায় পাহাড়ে এতো সাধারণ সুন্দরী যুবতী থাকতে কল্পনা চাকমার মতো নারী নেত্রীকে অপহরণ করার কোন প্রশ্নই থাকে না। এটা পাহাড়ের একজন মূর্খ দিনমজুরও বোঝে কিন্তু আমাদের দেশের সুশীলরা তা বোঝেন না।
আলোকিত প্রতিদিন/ ৯ জুন, ২০২১/ দ ম দ

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান