2:11 pm |আজ রবিবার, ১৭ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১লা আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জিলহজ ১৪৪২ হিজরি

সারিয়াকান্দির কড়িতলা হাট অবর্ণনীয় সমস্যায় জর্জরিত: সংস্কারের দাবি

সারিয়াকান্দির কড়িতলা হাট অবর্ণনীয় সমস্যায় জর্জরিত: সংস্কারের দাবি

প্রতিনিধি, বগুড়া:
বগুড়ার সারিয়াকান্দি কামালপুর ইউনিয়নের কড়িতলা হাট নানা সমস্যার জর্জরিত। হাটের গাছগুলো মরে যাওয়ায় মরা গাছের ডাল-পালা ভেঙ্গে পড়ে হাটুরেদের প্রাণহানীর আশঙ্খা করছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও হাটের সেডঘর দীর্ঘ দিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পরে থাকায় বর্ষাকালে হাটুরেদের দুর্ভোগের শেষ থাকছেনা। অবিলম্বে এসব সমস্যা সমাধান করে এলাকার সাধারণ জনগণের দূর্ভোগ লাঘবের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার কড়িতলা হাটটি বহুদিনের পুরানো। রোববার ও বৃহস্পতিবার ২ দিন হাট বসলেও প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বাজার বসে। যমুনা নদীর ভাঙ্গনের কারনে পার্শ্ববর্তী চন্দনবাইশা ঐতিহ্যবাহী হাটটি বিলীন হওয়ায় ওই কড়িতলা হাট দক্ষিণ সারিয়াকান্দি এলাকার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের গুরুত্বপূর্ণ হাটে পরিণত হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক দলের অফিস রয়েছে। এছাড়াও একটি ব্যাংকের শাখা অফিস, এনজিও, বীমা ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য হাটটিতে সকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত হাজার হাজার লোকের ওঠা-বসা প্রতিদিনের। কৃষিপণ্য বেচা-কেনা করার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহারের জন্য দ্রব্য সামগ্রীর কেনার জন্য এ এলাকার হাজার হাজার নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ এ হাটের এক অনন্য উদাহরণ। সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন দলীয় অফিস, সাংস্কৃতিক অফিস ও চা -এর স্টলগুলো মধ্যরাত পর্যন্ত স্থানীয়দের পদচারণায় মুখোরিত থাকে। দেখে মনে হয় যেন হাট নয়, হাজার হাজার মানুষের যেন মিলন স্থান হাটের জায়গাটি। ১ একর জায়গার উপর স্থাপিত হাটটিতে ১২টি পুরাতন আমগাছ, বটগাছ, পাকুর গাছ রয়েছে। বর্তমানে গাছগুলো মরে নষ্ট হওয়ার কারনে গাছগুলো স্থানীয়দের কাছে জীনব নাশের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। গত বৈশাখ মাসের কালবৈশাখী ঝড়ে মরা গাছের ডাল-পালা ভেঙ্গে পরে ৮ জন আহত হওয়ার কথা স্থানীয়রা জানিয়েছে। হাটে সরকারী ভাবে তৈরি করে দেওয়া ১টি সেড ঘর রয়েছে। তবে সেডটি বহুদিনের পুরোনো। টিনের ছাওনীগুলো ঝড়-বাতাস, বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ঘরের ফ্রেমগুলোও। বর্ষার সময়ে বৃষ্টি এলে মাথা গোঁজার ঠাই না পেয়ে হাটুরেদের দুর্ভোগের শেষ থাকেনা। স্থানীয় ডা: সাহাজুল ইসলাম বাচ্চু, ইকবাল কবির গামা, আবু বক্কর সিদ্দিক, বিমল কুমার সাহা বলেন, হাটটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি সংস্কারে প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই। হাটের বিভিন্ন সমস্যা নিত্ত দিনের সঙ্গী হলেও দুর্ভোগ লাঘবে কারো নজরে আসছে না। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জায়গার সমস্যা, সেড ঘরের সমস্যা, কসাইখানা, নির্ধারিত মাছ বাজার, আলোর ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে আমরা আশু দাবী করছি। এ ব্যাপারে হাটের ইজারাদার সিহাব মন্ডল বলেন, এ হাট থেকে সরকারী রাজস্ব আয় হয়ে থাকে প্রতি বছর ৭/৮ লক্ষ টাকা। কিন্তু হাটের সমস্যাতো অবর্ণনীয়। তবে প্রধান সমস্যা হলো নরবড়ে সেট ঘর ও মরা গাছগুলো। কবে, কখন যেন ভেঙ্গে পরে স্থানীয়দের প্রাণ সংহার হবে আকাশে কালো মেঘ দেখলে সে ভয়ে আমি তটস্থ থাকি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাসেল মিয়া বলেন, হাটের মরা গাছগুলো অপসারণ করার জন্য ইজারাদারের পক্ষ থেকে ১টি দরখাস্ত পাওয়া গেছে। দরখাস্তটি আমাদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে গাছগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও জনগুরুত্বপূর্ণ হাটটি সংস্কারের জন্য আমরা খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/ ৮ জুন, ২০২১/ দ ম দ

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান