আজ সোমবার, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ধামরাইয়ে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিনিধি:
ধামরাইয়ে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে অমানবিক ভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। উপজেলার আমতা ইউনিয়নের বড় জেঠাইল গ্রামে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত স্বামী এমরান মিয়া (২০) নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার লাখপুর গ্রামের আমান উল্লাহ’র ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই গৃহবধূ এমরানের ১ম স্ত্রী। ভালোবেসে বিয়ে এই তরুণ তরুণীদের। তবে বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নানান ভাবে নির্যাতন করতো এমরান নাজির (স্বামী)। গত তিন মাস পূর্বে এক গার্মেন্ট শ্রমিককে বিয়ে করে সে। ১ম স্ত্রীকে মারধর করে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুট করে ২য় স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই গৃহবধূ জানান, বিয়ের কিছুদিন যাবার পর আমার স্বামী ব্যবসার জন্য টাকা চায়। আমি কিস্তি উঠিয়ে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দেই। কয়েক মাস যাবার পর আমার স্বামী ও শশুড় পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক চায়। তাদের চাহিদা পূরণ করতে আমি অপারগতা প্রকাশ করায় সবাই মিলে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে আমার স্বামী, শশুর, শাশুড়ি ও ননদ মিলে আমাকে যৌতুকের দাবিতে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমি নিরুপায় হয়ে পিত্রালয়ে আশ্রয় নেই। বাবার বাড়ি আসার কয়েকমাস পরে আমার স্বামী আমাদের বাড়িতে চলে আসে। এমরান (স্বামী) বলে আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। একথা শুনে আমি ও আমার পরিবারের সবাই ওকে (এমরান) আশ্রয় দেয়। এখানে থেকে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। কিছুদিন যাবার পর আবার আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। পরে শুনতে পারি শাহনাজ নামের এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক করে বিয়ে করে। আমাকে ডিভোর্স দেয়ার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। যৌতুকের দাবিতে এমরান আমাকে পিঠ, পশ্চাদ্দেশ ও দুই উরুতে ভয়াবহভাবে মারধর করে কালসিটে দাগ ফেলেছে। পুরো শরীরজুড়েই এমন ক্ষতচিহ্ন ও মারধরের আঘাত রয়েছে। আমাকে মারধর করে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে শাহানাজকে (২য় স্ত্রী) পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে এমরানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আলোকিত প্রতিদিন/ ৬ জুন, ২০২১/ দ ম দ

- Advertisement -
- Advertisement -