11:00 pm |আজ বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৮শে অক্টোবর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সংবাদ শিরোনাম:
টেনিস এলবো : অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে সমাধানের উপায় । ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

টেনিস এলবো : অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে সমাধানের উপায় । ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

টেনিস এলবো
অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে সমাধানের উপায়

ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

টেনিস এলবো মূলত হাতে ব্যথার একটি অবস্থা। যারা হাতে ব্যথায় ভুগছেন তাদরে অনকেরেই এই সমস্যা থাকতে পারে। ‘টেনিস এলবো’ শব্দটা দিয়ে মনে হতে পারে যারা লং-টেনিস খেলে তাদরে ক্ষেত্রে হয়। কিন্তু আসলে কথাটি সঠিক নয়। বিভিন্ন কারণে টেনিস এলবো হতে পারে। টেনিস এলবো এই বিষয়টি লেখার আগে আমি আপনাদের এলবো সম্বন্ধে একটা ধারণা দিতে চাই।

এলবো বা কনুইয়ের গঠন :
এলবো মূলত আমাদের হাতের একটি জয়েন্ট এবং এটি হাতের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জয়েন্ট। হাতের সব ধরনের নাড়াচাড়া বা মুভমেন্ট এই এলবোর মাধ্যমে হয়ে থাকে। গঠনগতভাবে এলবো তিনটি হাঁড়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি জয়েন্ট। একটি বাহুর হাঁড় যাকে বলা হয় হিউমেরাস এবং দু’টি হাতের হাঁড় যাকে বলে রেডিয়াস ও আলনা। বাহুর হাঁড়ের বাহিরের দিকে একটি উঁচু অংশে থাকে। আমাদের হাতের নাড়াচাড়া বা মুভমেন্টের সঙ্গে যেই মাংসপেশিগুলো জড়িত, তারা বাহিরের দিকে উঁচু অংশে এসে সংযুক্ত হয় এবং আমাদের হাতের নাড়াচাড়ায় অংশগ্রহণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদি কোনো কারণে এই জায়গাটাতে ইনজুরি হয় বা বারবার চাপ লাগে সে ক্ষেত্রে ছোট্ট টিয়ার হতে পারে। টেনডন হচ্ছে আমাদের মাংসপেশির একটি শেষের দিকের অংশ যা আমাদের হাঁড়ের সাথে মাংসপেশীকে সংযুক্ত করতে সাহায্য করে। এই টেনডন অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যাকে বলে টেন্ডিনাইটিস। টেনিস এলবোতে মূলত এই টেনডন বা মাংসপেশিতে টিয়ার হয়।

টেনিস এলবোতে ব্যথা কেন হয় :
এবার জানাবো কীভাবে টেনিস এলবোতে ব্যথা হয়। যারা বারবার এই এলবোটাকে ব্যবহার করেন, বিশেষ করে টেনিস খেলায় আমরা দেখেছি খেলোয়াড়রা হাত শক্ত অবস্থায় বারবার মুভমেন্ট করে যেটাতে কনুইয়ের বাইরের দিকে হাতের যে মাংসপেশিগুলো সংযুক্ত থাকে সেখানে চাপের তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে বা দীর্ঘদিন এই চাপ অনুভূত হওয়ার কারণে কোনো কোনো সময় এটাতে টিয়ার হয় বা ছোট্ট ফাইবারগুলো ইনজুরি হয়।
প্রথম দিকে এই ব্যথাটা অল্প থাকে যেটা সহনীয় মাত্রায় থাকে। কিন্তু যদি এই অবস্থায় বারবার একই ধরনের মুভমেন্ট করা হয় তাহলে বড় ধরনের টিয়ার হয় এবং তা ক্রনিক ব্যথায় রূপান্তরিত হয়। শুধু টেনিস খেলায় না অন্যান্যভাবেও ব্যথা হতে পারে। যেমন- যারা রংয়ের কাজ করেন, যারা কাঠমিস্ত্রি বা যারা অধিক সময় কাপড় চিপরান বা সাংসারিক কাজ খুব বেশি করেন। কোনো রেস্ট পান না তাদের ক্ষেত্রেও এই ধরনের টেনিস এলবোর সমস্যা হতে পারে।

কারা ঝুঁকিতে থাকেন :

  •  সাধারণত সব বয়সের মানুষেরই টেনিস এলবো হতে পারে। তবে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মানুষের মধ্যেই এই টেনিস এলবো সমস্যা দেখা দেয়া।
  • যারা টেনিস ও স্কোয়াশ খেলায় সাথে সংযুক্ত থাকেন।
  • যারা কারপেন্টার বা কাঠের কাজ করেন।
  • যারা রংয়ের কাজ করেন।
  • যারা রন্ধনশালায় কাজ করেন।
  • যারা ভারী জিনিস তোলার কাজে যুক্ত থাকেন।
  • যাদের হাত খুব বেশি নাড়াচাড়া করতে হয়। তাদের ক্ষেত্রে এই টেনিস এলবো সমস্যা হতে পারে।

টেনিস এলবো সমস্যার লক্ষণগুলো কী কী :
মূল লক্ষণ হচ্ছে ব্যথা। এই ব্যথা অনেক সময় আমাদের কব্জির ডান এবং বাম পাশে নাড়াচাড়া করলে বেশি অনুভূত হয়। কোনো কোনো সময় কোনুই ভাঁজ করা বা সোজা করার সময় ব্যথা অনুভূত হয় এবং হাত মুষ্টিবদ্ধ করার সময় এই ব্যথা অনুভূত হতে পারে। যখন এই সমস্যাটি গভীর হয় তখন অল্প নড়াচড়াতেই ব্যথা অনুভূত হয়।

কীভাবে এই টেনিস এলবো সমস্যাটি শনাক্ত করা যায় :
টেনিস এলবো শনাক্তকরণের জন্য মূলত চিকিৎসকের দেখা এবং শরীরে কিছু পরীক্ষা করা জরুরি। তারপরও বেশ কিছু পরীক্ষা আমরা করাতে পারি। যেমন- অন্যান্য সমস্যা আছে কিনা সেগুলো দেখার জন্য আমরা এক্ষেত্রে এক্স-রে এলবো জয়েন্ট করতে পারি। এটাতে কোনো অস্টিওআর্থারাইটিস বা জয়েন্টে কোনো সমস্যা আছে কিনা। হাড়ভাঙা সমস্যা আছে কিনা এগুলো দেখার জন্য এক্স-রে খুবই সহায়ক। মাংসপেশির ছোট্ট টিয়ার দেখার জন্য এমআরআই পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। এছাড়াও মাস্কুলোস্কেলিটাল আল্ট্রাসনোগ্রাম এক্ষেত্রে খুব দরকারী একটি পরীক্ষা।

চিকিৎসা পদ্ধতি :
প্রথমেই বরাবরের মতো যে কথাটি বলবো সেটি হচ্ছে আক্রান্ত হওয়ার আগেই চিকিৎসা এবং ব্যথায় বা টেনিস এলবোতে আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী চিকিৎসা। আর চিকিৎসা ব্যবস্থা সঠিকভাবে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে ভুল চিকিৎসা অনেক সময় রোগীদের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই চিকিৎসা করার আগে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়টা খুবই জরুরি।

টেনিস এলবো প্রতিরোধে এক্সারসাইজ :
প্রথমেই আসি আক্রান্ত হওয়ার আগে আমাদের করণীয় কী? প্রথমে আমি বলবো- এক্সারসাইজ। এক্সারসাইজের মাধ্যমে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ এক্ষেত্রে ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। এক্সারসাইজের মাধ্যমে আমরা মাংসপেশী ও টেন্ডনের প্রসারণ ক্ষমতা বাড়াতে পারি। তাতে হঠাৎ করে যদি কোনো চাপ লাগে সেটার সহনীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এক্সারসাইজের মাধ্যমে আমাদের জয়েন্টের মুভমেন্ট বা নড়াচড়া ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। হঠাৎ কোনো চাপ পড়লে তার সহনীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আবার এক্সারসাইজের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে এন্ডোরফিন নামক একটি কেমিক্যাল রিলিজ হয় যা ন্যাচারালী আমাদের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
এছাড়াও এক্সারসাইজের মাধ্যমে এনকেফলিন নামক একটি পদার্থ রিলিজ হয় যেটা আমাদের মানসিকভাবে চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই ব্যথা কমানোর জন্য এক্সারসাইজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এক্সারসাইজের মাধ্যমে মাংসপেশিগুলোতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং মাংসপেশির রক্ত চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে টেন্ডনগুলোতে ও নিউট্রিশন উপাদানগুলো সরবরাহ করতে পারে এবং টেন্ডন ও লিগামেন্টস ভালো থাকে। তাই টেনিস এলবো প্রতিরোধে এক্সারসাইজের ভূমিকা অপরিসীম। এখন জেনে নেয়া যাক কী কী এক্সারসাইজ টেনিস এলবো করার জন্য করা যেতে পারে। খুবই সাধারণ দু’টি এক্সারসাইজ আমাদের টেনিস এলবো থেকে রক্ষা করতে পারে।

  • ১. প্রথম যে এক্সারসাইজটির কথা বলেছি, সেটি হচ্ছে- আপনার হাত, কনুই এবং কব্জি সোজা করে বুক বরাবর রাখুন। এবার কব্জি বরাবর হাতের তালু নিচের দিকে নামান এবং ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে আবার সোজা করুন এবং কব্জি বরাবর হাতের তালু উপরের দিকে উঠে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে প্রক্রিয়াটি পাঁচ থেকে দশ বার করার চেষ্টা করুন। তবে খেয়াল রাখতে হবে ব্যথা হলে এক্সারসাইজ করা যাবে না। এবার আপনার হাত মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় বুক বরাবর উঠিয়ে এখন কব্জি বরাবর হাতের মুষ্টি নিচের দিকে নামান এবং ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। একইভাবে কব্জি বরাবর মুষ্টিবদ্ধ হাত উপরের দিকে ঘুরান এবং ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এবার হাত সোজা করুন। কব্জি বরাবর ডান ও বাম দিকে ঘোরান এবং ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে প্রক্রিয়াটি পাঁচ থেকে দশ বার করার চেষ্টা করুন।
  • ২. আরেকটি এক্সারসাইজ হচ্ছে- আপনার হাতে এক কেজি পরিমাণ একটি ভার রাখুন। হাতের ভার রাখা অবস্থায় হাত সোজা করে কব্জি বরাবর হাত নিচের দিকে নামান এবং পাঁচ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এরপর উপরের দিকে উঠিয়ে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে প্রক্রিয়াটি সাবধানতার সাথে পাঁচ থেকে দশ বার করতে পারেন। এক্সারসাইজের সময় মনে রাখতে হবে ব্যথা হলে এক্সারসাইজ করা যাবে না। কারণ যদি ব্যথা অবস্থায় এক্সারসাইজ করা হয় তাহলে ব্যথার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং যে ইনজুরিটি আছে সেটিও আরও গভীর হতে পারে।

টেনিস এলবোতে আক্রান্ত হওয়ার পরে প্রথমেই আমরা যেটি করি সেটি হচ্ছে রেস্ট দেওয়া বা আপনার এই এলবোকে বিশ্রাম দেওয়া। এ কাজটি আপনি যেভাবে করতে পারেন সেটি হচ্ছে- আপনার এলবোতে নাড়াচাড়া বা মুভমেন্ট হয় এমন কাজ বন্ধ রাখা। যারা খেলাধুলা করেন বা টেনিস খেলেন তারা এ খেলা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন। যারা ঘরের কাজ করেন তারা কাপড় পরানো বা নাড়াচাড়ার কাজ বন্ধ রাখুন। যারা রংয়ের কাজ করেন সেই কাজগুলোকে বন্ধ রাখতে হবে। যারা কাঠের কাজ করেন সেই কাজগুলোকে বন্ধ রাখতে হবে।

এবার আসি এই ব্যথায় কী ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। প্রথমেই যেটা বলে নেয়া দরকার সেটি হচ্ছে, আপনি ব্যথার জন্য মূল কারণের চিকিৎসা না করে ব্যথার ওষুধ খেতে থাকেন তাহলে সাময়িক ব্যথা কমাতে পারে। কিন্তু ব্যথার মূল কারণ থেকেই যাবে। যে কারণে আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদী ব্যথার ওষুধ খেতে হবে। এছাড়াও আপনার সমস্যাটি যাবে না। আবার দীর্ঘমেয়াদি যারা ব্যথার ওষুধ খান তাদের ক্ষেত্রে প্রেশার বেড়ে যাওয়া, কিডনির সমস্যা ও আলসার জাতীয় সমস্যা হতে পারে।

তাই আমাদের পরামর্শ- ব্যথার জন্য দীর্ঘমেয়াদি NSAID জাতীয় ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি না খাওয়া। ব্যথার চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ হচ্ছে প্যারাসিটামল। তবে প্যারাসিটামল একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর কিছু নির্দিষ্ট দিনের জন্য আপনাকে খেতে হবে। তা না হলে সাময়িক প্যারাসিটামল খেলে বা অনিয়মিতভাবে প্যারাসিটামল খেলে ব্যথার কোনো কাজ হবে না। কারণ আমরা ব্যথার চিকিৎসার জন্য ব্যথার যে চক্র সেটিকে ভেঙে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর কিছু দিনের জন্য ব্যথার ওষুধ প্যারাসিটামল দিয়ে থাকি, যা খেলে কার্যকরী হয়। তবে সঠিক কারণ নির্ণয় করার জন্য চিকিৎসকের নিকট যাওয়া খুবই জরুরি।

টেনিস এলবো চিকিৎসায় ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা :
এবার বলবো টেনিস এলবোর ব্যথার সর্বাধুনিক চিকিৎসার কথা। টেনিস এলবোর ব্যথার জন্য বর্তমান সময়ে ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা খুবই জনপ্রিয় ও কার্যকরী। বেশ কয়েকভাবে এই টেনিস এলবো চিকিৎসা করা সম্ভব। প্রাথমিকভাবে একজন চিকিৎসক সেখানে ট্রিগার পয়েন্ট ইঞ্জেকশন নামে একটি পদ্ধতিতে আক্রান্ত জায়গায় ইনজেকশন দিতে পারেন এবং সেখানে ব্যথা নিরাময় হয় এবং কিছু দিনের বিশ্রামে আরো উন্নতি লাভ হতে পারে ।

টেনিস এলবো চিকিৎসায় পিআরপি :
এবার আলোচনা করবো- টেনিস এলবোর ব্যথার চিকিৎসায় পিআরপি বা প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা বা এর ভূমিকা। শুরুতেই বলে নেই, প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা বা পিআরপি হচ্ছে আমাদের শরীরের থেকেই নেয়া রক্তের একটি অংশ। এই পদ্ধতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকেই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রক্ত নেয়া হয় এবং সেটাকে একটি মেশিনের মধ্যে দিয়ে রক্ত কণিকাগুলোকে আলাদা করা হয় এবং প্লাজমাকে আলাদা করা হয়। এই প্লাজমার ভিতরে প্লাটিলেট ও অন্যান্য অনেক গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে। যেগুলো আমরা আক্রান্ত জায়গায় ইনজেকশনের মাধ্যমে দেই। খুবই ছোট্ট সুইয়ের মাধ্যমে আমরা ব্যথামুক্তভাবে দিতে পারি। এই পিআরপি আক্রান্ত জায়গায় গ্রোথ ফ্যাক্টর রিলিজ করে এবং সেখানে ক্ষত পূরণে সাহায্য করে। পিআরপি চিকিৎসায় কোনো ধরনের সাইড ইফেক্ট বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। এ জন্য এটি নিরাপদভাবে যে কেউ নিতে পারেন। পিআরপির বিভিন্ন চিকিৎসা আছে। তার মধ্যে আমরা টেনিস এলবোতে টিআরপির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং স্থায়ী চিকিৎসা হয়।

টেনিস এলবো চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি :
ফিজিওথেরাপির বিভিন্ন চিকিৎসা টেনিস এলব’র ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং এটি আপনার ব্যথা নিরাময়ে এবং টেনডনের ক্ষত পূরণে সাহায্য করতে পারে। ফিজিওথেরাপির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আল্ট্রাসাউন্ড, আইস মেসেজ, মাসেল হিটিং এই বিষয়গুলো অন্যতম। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইঞ্জুরি গভীর হওয়ার কারণে ফিজিওথেরাপি দীর্ঘমেয়াদি বা কখনো কখনো ব্যর্থ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পিআরপি খুবই ভালো একটি অপশন হিসেবে কাজ করে।

শেষ কথা :
ব্যথা আমাদের সুন্দর ও হাসিখুশি জীবন যাপনকে ব্যহত করে। হাত আমাদের সার্বক্ষণিক কাজের একটি অঙ্গ। এই হাত যদি ব্যথায় আক্রান্ত হয় তবে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। তাই বলবো সতর্ক হোন ও সুস্থ থাকুন। অসুস্থ হওয়ার আগেই সুস্থতার গুরুত্ব বুঝুন।

সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। ব্যথামুক্ত জীবন যাপন করুন এই প্রত্যাশায় শেষ করছি।

(লেখক : কনসালটেন্ট ও পেইন ফিজিশিয়ান
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা)

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৭ সেপ্টেম্বর-২০২০/জেডএন

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান