আজ , ।   

কাজী নিয়োগ ও অধিক্ষেত্র কর্তনের সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের হুশিয়ারি

আরো খবর

​বিধিমালা সংশোধনের খসড়া বাতিলের দাবি, সোমবার প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের ঘোষণা

​সৈয়দ এনামুল হুদা, ঢাকা: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা ২০২৬-এর খসড়ায় নিকাহ রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিনের কর্ম-অধিক্ষেত্র তিন ভাগে বিভক্ত করা এবং সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতদের এই পদে নিয়োগের উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ও নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ ঐক্য পরিষদ। রবিবার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ১১ টায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তৎকালীন সরকারের আমলে আলেম-ওলামা ও কাজী সমিতির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবিত খসড়ায় সেই প্রতিষ্ঠিত অধিক্ষেত্র ভেঙে ফেলার পাশাপাশি শুধু সাধারণ শিক্ষায় (বিএ/এমএ) শিক্ষিতদের কাজী পদে সুযোগ দেওয়ার যে প্রস্তাব আনা হয়েছে, তা পেশাগত অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে।
​

​বক্তারা আরও বলেন, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কেবল কোনো দাপ্তরিক বা প্রশাসনিক কাজ নয়; এটি ইসলামী শরিয়তের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পবিত্র বিধান। দেনমোহর, ইজাব-কবুল, অভিভাবকত্ব, তালাক ও তালাকে তাফওয়ীজের মতো পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে মাদরাসাভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা ও বাস্তব দক্ষতা থাকা অপরিহার্য। শরিয়াহ জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত না করে শুধুমাত্র সাধারণ ডিগ্রির ভিত্তিতে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হলে ভবিষ্যতে বিবাহ-তালাক কার্যক্রমে মারাত্মক শরিয়াহগত ভুলের আশঙ্কা তৈরি হবে।

​সংকট নিরসনে সংবাদ সম্মেলন থেকে ৫ দফা যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত দাবি পেশ করা হয়: ​বর্তমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী প্রচলিত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কর্ম-অধিক্ষেত্র ও অধিকার সম্পূর্ণভাবে বহাল রাখতে হবে এবং একজনের স্থলে একাধিক নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিধান করা যাবে না।

​বিধিমালা প্রণয়ন ও সংশোধনসংক্রান্ত কমিটিতে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের পক্ষ থেকে কমপক্ষে দুইজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রতিনিধিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

​নিয়োগের ক্ষেত্রে মাদরাসাভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামী শরিয়ত, মুসলিম পারিবারিক আইন এবং বিবাহ-তালাকসংক্রান্ত জ্ঞান বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং শুধু সাধারণ ডিগ্রির ভিত্তিতে নিয়োগের প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।

​বিতর্কিত ও একতরফা প্রস্তাবিত বিধিমালা বাতিল করে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

​দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ফি (৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাজারে ২০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি লাখে ৩০০ টাকা), তালাক ফি (২০০০ টাকা), নকল ফি (২০০ টাকা) এবং কমিশন ফি (৫০০ টাকা) নির্ধারণ করতে হবে।

​এছাড়াও বক্তারা আরও বলেন, ​সরকারের বিরুদ্ধে কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সুরাহা চান বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। তবে দাবি আদায় ও অধিক্ষেত্র সুরক্ষার দাবিতে ৯ নভেম্বর ২০২৬, রোজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একটি বিশাল মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

মানববন্ধন শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী মহোদয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে বলেও জানান।

এসময় ​সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সভাপতি মাওলানা মো. নেছারুল হক, মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং মহাসচিব মাওলানা কাজী মো. সেলিম রেজাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কাজী সমিতির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -