আজ , ।   

৩৮ বছরেও কোহলি দুর্দান্ত: বয়স যেন কেবলই সংখ্যা, টার্গেট ১০০ সেঞ্চুরি

আরো খবর

অনলাইন ডেস্ক: ৩৮ বছর বয়সে এসেও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রান তাড়ায় বিরাট কোহলি এখনও সেই আগের মতোই অনন্য, পরাক্রমশালী ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ জয় নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, কিন্তু সেই পথচলায় তিনি কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শততম শতকের সেই ঐতিহাসিক অনন্য চূড়ায় পৌঁছাতে পারবেন?

কোহলির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায় মাইলফলক আর রেকর্ডের এক দীর্ঘ তালিকা। ভারতকে তিনি জিতিয়েছেন অসংখ্য ম্যাচ। ইতোমধ্যেই ওডিআই বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের মাধ্যমে সাদা বলের ক্রিকেটে অর্জনের খাতা পুরোপুরি পূর্ণ করেছেন তিনি। এমনকি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ট্রফিটাও সম্প্রতি তুলে নিয়েছেন নিজের ঝুলিতে।

ক্রিকেটের চূড়ায় বসে থাকার পরও কোহলির গতি কমার কোনো লক্ষণ নেই। যে বয়সে বেশিরভাগ ক্রিকেটার ধারাভাষ্যকার, ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ কিংবা ইউটিউবার হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন, সেই বয়সেও কোহলি মাঠে নেমে আগের মতোই ইতিহাস পুনর্লিখনে ব্যস্ত এবং ভারতের হয়ে ম্যাচ জিতে চলছেন। খুব কম ক্রিকেটারই ৩৮ বছর বয়সেও তাদের সেরা ফর্মে থাকার দাবি করতে পারেন, কিন্তু কোহলি তাদের মধ্যে স্পষ্টভাবেই ব্যতিক্রম। বয়স যে সত্যিই কেবল একটি সংখ্যা, তা তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন তার অদম্য ক্ষুধা আর কঠোর শৃঙ্খলার মাধ্যমে। মাঠে তার অসাধারণ শক্তি, উইকেটের মাঝে চটপটে দৌড় এবং প্রতিপক্ষকে নিয়ে ছেলেমানুষি ভঙ্গিতে ছলাকলা করার সেই চিরচেনা ভঙ্গি আজও সমান সংক্রামক।

৩৮ বছর পেরিয়ে ৩৯-এ গিয়ে যদি তিনি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেন, তবে তা হবে তার ক্যারিয়ারের সেরা প্রাপ্তি। তবে এর পাশাপাশি একশো আন্তর্জাতিক শতকের যে মাইলফলক, সেটিও তাকে সমানভাবে চালিত করছে, যদিও তার ক্রিকেট দর্শন ব্যক্তিগত রেকর্ডের পেছনে দৌড়ানোকে সমর্থন করে না। তার আদর্শ শচীন টেন্ডুলকারই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটার। বর্তমানে কোহলি শুধু ওডিআই ক্রিকেটেই সক্রিয় থাকলেও তার সেই সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি ছোঁয়ার দৌড় এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

বর্তমানে কোহলির আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির সংখ্যা ৮৬টি। মহানায়ক শচীন টেন্ডুলকারের ১০০টি সেঞ্চুরির রেকর্ড স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ১৪টি শতক। টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর তার এই মাইলফলক স্পর্শের সম্ভাবনা কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে ২০২৫ সালে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর এই টপ-অর্ডার ব্যাটার একদিনের ক্রিকেটে আরও চারটি চমৎকার সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সেই আশাকে নতুন করে বাঁচিয়ে তুলেছেন।

এই চারটির মধ্যে ৮৩তম সেঞ্চুরিটি আসে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর রাঁচির জেএসসিএ স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে রাজকীয় ১৩৫ রানের ইনিংসের মাধ্যমে। এরপর ৮৪তম সেঞ্চুরিটি করেন একই বছরের ৩ ডিসেম্বর রায়পুরের এসভিএনএস স্টেডিয়ামে, সেখানে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে খেলেন ১০২ রানের ইনিংস। ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০২ রান করে তিনি পৌঁছে যান ৮৫তম সেঞ্চুরিতে। আর তার সর্বশেষ ৮৬তম সেঞ্চুরিটি আসে ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর থিরুভানান্থাপুরমের গ্রিনফিল্ড স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, যেখানে তিনি খেলেছিলেন অনবদ্য অপরাজিত ১৩৯ রানের ইনিংস।

অবসরপরবর্তী সময়ে খেলা ১৬টি ওডিআই ম্যাচে কোহলি এই ৪টি সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন, যার অর্থ প্রতি ৪টি ম্যাচে তিনি গড়ে একটি করে সেঞ্চুরি করছেন। আগামী দিনগুলোর ম্যাচের হিসেব করলে দেখা যায়, ভারতের সামনে এখনো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪টি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩টি এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩টি ওডিআই বাকি রয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালের এশিয়া কাপে সম্ভাব্য ৭টি ওডিআই সহ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের আগে বিসিসিআইয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন অপেক্ষায় থাকা আরও কয়েকটি ম্যাচ মিলিয়ে তিনি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আরও বেশ কিছু ওডিআই খেলার সুযোগ পাবেন। আর ভারত যদি ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে সেখানে আরও অন্তত ১৩টি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে।

১০০ সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছাতে কোহলির দরকার আর ১৪টি শতক। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত তাকে প্রায় প্রতি আড়াই ম্যাচে একটি করে সেঞ্চুরি করতে হবে। কাজটা মোটেও সহজ নয়, কিন্তু বিরাট কোহলি নামের ব্যাটার অতীতে যে মানদণ্ড তৈরি করে রেখেছেন, তাতে এটি করা একদম অসম্ভবও নয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -