মোহাম্মাদ রোকনুজ্জামান
রাজধানীর মিরপুর শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও বিক্ষোভ এখন আর কেবল মজুরি বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গত কয়েকদিন ধরে মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর গোলচত্বরসহ আশপাশের এলাকায় যেভাবে রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তা স্পষ্টতই এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। সাধারণ শ্রমিকদের আবেগ ও ন্যায্য দাবিকে পুঁজি করে একটি মহল দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে যুবলীগ নেতা সাহেল জামান তার মামার রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা। আওয়ামী লীগের আমলে তিনি নিজে কঠোর হাতে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। অবশ্য আওয়ামী লীগ আমলে তার কর্মকান্ড ছিল স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং নিষিদ্ধ ঘোষণার পর তিনি ব্যতিক্রমী কৌশলে আওয়ামী লীগকে ফের এলাকায় প্রতিষ্ঠিত করতে সব সময় সক্রিয় রয়েছেন।
বিশেষ করে, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ভাগ্নে ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ঢাকা ১৪ আসনের সাবেক এমপি মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী নেতা মোঃ সাহেল জামানের নেতৃত্বে মিরপুরের এই শ্রমিক আন্দলনে রাজনৈতিক ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক এমপি মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার নির্দেশে যুবলীগ নেতা মোঃ সাহেল জামান সাধারণ শ্রমিকদের আড়ালে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলীয় ও স্থানীয় নিজস্ব নেতাকর্মীদের মাঠে নামিয়ে আন্দোলন বেগবান করতে উৎসাহ যোগাচ্ছেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা এই শাহেল জামান। উদ্দেশ্য একটাই-মিরপুর এলাকায় নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো পোশাক শিল্প। এই শিল্পখাতকে অস্থিতিশীল করার অর্থ হলো দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া। অতীতেও দেখা গেছে, যখনই সরকার বা দেশ কোনো সংকট উত্তরণের পথে থাকে, তখনই একটি মহল শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। মিরপুরে যা ঘটছে, তা সেই পুরনো রাজনীতিরই পুনরাবৃত্তি। আন্দোলন চলাকালে ট্রাফিক বক্সে অগ্নিসংযোগ বা পুলিশের গাড়িতে হামলা কোনোভাবেই সাধারণ শ্রমিকের কাজ হতে পারে না; বরং এটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত কর্মকাণ্ডের অংশ।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও সতর্ক হতে হবে। পোশাক শ্রমিকদের প্রকৃত ও যৌক্তিক দাবিগুলো যেমন দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে, তেমনি এই আন্দোলনের আড়ালে যারা ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে—সে যুবলীগ নেতা মোঃ সাহেল জামান ই হোক বা অন্য যে কেউ-তাদের কঠোরহস্ত দমন করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নেপথ্যের কুশীলবদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। অন্যথায়, উসকানিদাতাদের এমন অপতৎপরতা পুরো শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দেবে।

