আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালানো আবহাওয়া সংক্রান্ত বিপর্যয় এল নিনোর ক্ষয়ক্ষতি সামাল এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ দ্রুত সরবরাহের লক্ষ্যে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। শনিবার দেশজুড়ে এই জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ বলেছেন, জরুরি অবস্থা জারির এই আদেশে এল নিনোর প্রভাবে তীব্র খরা এবং আকস্মিক বন্যায় নাকাল বলিভিয়ার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধারকারী দলগুলোর তৎপরতা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘‘এল নিনোর কারণে খরা ও বন্যায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশ। যে কারণে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।’’
দেশের সরকারের চলতি সপ্তাহের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলিভিয়ার ৯টি প্রদেশের মধ্যে ছয়টিতে চরম খরা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৭৮ হাজার পরিবার চরম সঙ্কটে পড়েছে এবং মারা গেছে ৭৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু।
এল নিনোর প্রভাবে মধ্য এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জলভাগের ওপরের স্তরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ এবং বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক নিয়ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
চলতি সপ্তাহে সতর্কবার্তা জারি করে জাতিসংঘ বলেছে, বর্তমান এল নিনো ‘নজিরবিহীন’ রূপ ধারণ করতে পারে। এর ফলে লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে চরম ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যেতে পারে।
বলিভিয়ার প্রতিবেশী দেশ পেরুতে তাপমাত্রা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে চরম দাবানল। এতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, দেশটির আরেক প্রতিবেশী চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়া অক্টোবর মাস দেখেছে সান্তিয়াগো।
সূত্র: এএফপি।
আলোকিত প্রতিদিন /০১ নভেম্বর /২০২৬/মওম

