আজ , ।   

বিকাশ ম্যাজিকে চিকিৎসকের হোমলোনের ৩৪ লক্ষ টাকা ইউসিবি ব্যাংক থেকে লোপাট

আরো খবর

আবু সায়েম, কক্সবাজারঃ

কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাসস্টেশন এলাকায় অবস্থিত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি) শাখার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: মুজিবুল হকের সঞ্চয়ী ব্যাংক হিসাব থেকে হোমলোনের ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা দুই দিনে বিকাশের মাধ্যমে স্থানান্তর হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ইউসিবি চট্টগ্রামের গহিরা শাখা থেকে ডা: মুজিব হোমলোনের ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা লোন বরাদ্দ পান। সেখান থেকে তাঁর ব্যক্তিগত সঞ্চয়ী হিসাব ইউসিবির ঈদগাঁও শাখায় প্রায় ৩৪ লাখ টাকা ট্রান্সফার করেন। ট্রান্সফারকৃত টাকাগুলো কর্মচারীর মাধ্যমে চেক নিয়ে তুলতে গিয়ে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ নেই বলে জানতে পারেন তিনি।
এব্যাপারে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে টাকা স্থানান্তরের প্রতিকার পেতে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর বরাবর অভিযোগপত্র দাখিল করেন ডা: মুজিব।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২৫ অক্টোবর সকালে নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য এক অধস্তন কর্মচারীকে চেক দিয়ে ইউসিবি ব্যাংকের ঈদগাঁও শাখায় পাঠান প্রিন্সিপ্যাল ডা. মুজিবুল হক। তবে ব্যাংকে গিয়ে ওই কর্মচারী জানতে পারেন, হিসাবে উত্তোলনযোগ্য পর্যাপ্ত টাকা নেই। পরে তিনি নিজে ব্যাংকে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁর অজান্তেই হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক ঈদগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)ও করেছেন। জিডি নম্বর ৯৭৪ এবং ট্র্যাকিং নম্বর DEL665।

ডা. মুজিবুল হকের অভিযোগ, তাঁর অজান্তেই ব্যাংক হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিষয়ে তিনি কোনো ওটিপি বা এসএমএস পাননি। এমনকি তিনি নিজে কোনো অনুমোদনও দেননি বলে জানিয়েছেন। কীভাবে এবং কার মাধ্যমে এই বিপুল অঙ্কের টাকা হিসাব থেকে স্থানান্তরিত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি জানার পর শাখা ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ সহায়তা না পেয়ে তাঁকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এদিকে একজন গ্রাহকের হিসাব থেকে এত বড় অঙ্কের অর্থ কীভাবে স্থানান্তরিত হলো, লেনদেনটি কোন মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে কোনো অননুমোদিত প্রবেশ বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে ব্যাংকের লেনদেনের নথি ও ডিজিটাল তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: মুজিবুল হক বলেন, গত ২৪ থেকে ২৫ অক্টোবরের দুই দিনে অনলাইন ব্যাংকিং মাধ্যম বিকাশে ৭০ বারে ৩৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়।
ব্যাংকের স্টেটমেন্টে লক্ষ করি, ৫০ হাজার টাকা করে ৬৬ বার , ৪৫ হাজার টাকা করে ১ বার, ৩৬ হাজার টাকা করে ১ বার, ৪ হাজার টাকা করে ১ বার এবং ৫ হাজার টাকা করে ১ বার সর্বমোট ৩৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা বিকাশে এ্যাড মানির মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, আমি অনলাইন ব্যাংকিং মাধ্যম মোবাইল অ্যাপসও ব্যবহার করি না। তাহলে কিভাবে আমার একাউন্টের টাকা অত্যন্ত সুকৌশলে উধাও হলো এখনো বোধগম্য নয়।
তিনি আরো বলেন, প্রতিকার পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর বরাবর অভিযোগপত্র দাখিল করেছি এবং এর সাথে ঈদগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি ( জিডি) লিপিবদ্ধ করেছি।
এ বিষয়ে ইউসিবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এখন সেটি দেখার বিষয়।

আলোকিত প্রতিদিন /২৭ অক্টোবর /২০২৬/মওম

 

- Advertisement -
- Advertisement -