আজ , ।   

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় আমিনুল ইসলাম

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সংগঠনটির সম্ভাব্য নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনায় উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলামের নাম। ছাত্রদল থেকে যুবদল পর্যন্ত দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ।

রাজনীতির মাঠে আমিনুল ইসলামের পথচলা শুরু ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তার নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে একই প্রতিষ্ঠানের আহ্বায়ক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এ সময়ে ক্যাম্পাসে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা ও সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন আমিনুল ইসলাম। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। স্থানীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এই রাজনৈতিক পথচলা তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত করে। ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচি, মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন ও আন্দোলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরে অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়ন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তার জীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন আমিনুল ইসলাম। সরকারবিরোধী কর্মসূচি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকায় তার ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার মধ্য দিয়ে তিনি সাংগঠনিকভাবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে যুবদলে আসার পরও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন আমিনুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৭ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর তাকে ওই কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কমিটিতে পরিবর্তন এলেও তিনি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা সামনে আসায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার সক্ষমতাকে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব বিষয় ঘিরেই আমিনুল ইসলামের নাম আলোচনায় আসছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের অভিমত।

সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকা, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন এবং যুবদলের সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা আমিনুল ইসলামকে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা হিসেবে পরিচিত করেছে। তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে তিনি নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন বলেও তাদের দাবি।

এদিকে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি পুনর্বিন্যাসের আলোচনা চলছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন কমিটিতে কারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে ছাত্রদল থেকে যুবদল পর্যন্ত দুই দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার দাবির কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় আমিনুল ইসলাম এখন পরিচিত একটি নাম। সংগঠনটির আগামী দিনের নেতৃত্বে তার অবস্থান কোথায় দাঁড়ায়, তা নির্ভর করছে দলের সাংগঠনিক মূল্যায়ন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

- Advertisement -
- Advertisement -