নিজস্ব প্রতিবেদক
কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, নির্যাতন, ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা এবং প্রশাসনের এক কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ঢাকার ধামরাইয়ে অবস্থিত আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের লোডিং-আনলোডিং শ্রমিকেরা। ধামরাই কারখানার প্রশাসনের এক ব্যবস্থাপকের (ম্যানেজার) পদত্যাগ ও তাদের বকেয়া বোনাসসহ ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন তারা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কারখানা প্রাঙ্গণে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানান এবং পরে তাদের দাবির সপক্ষে মিছিল করেন।
আন্দোলনরত শ্রমিক ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কারখানার প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার দীর্ঘ দিন ধরে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে নানামুখী তালবাহানা করে আসছেন। শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক চাইলে উল্টো ছাঁটাইয়ের হুমকি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। সম্প্রতি সাধারণ শ্রমিকদের দাবিকে উসকে দিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ একটি চক্রের মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছে। চাঁদাবাজি ও অস্থিতিশীলতা তৈরির যেসব অভিযোগ শ্রমিকের ওপর চাপানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
শ্রমিকদের পক্ষে সরদার আব্দুল কাদের ও সাধারণ শ্রমিকরা জানান, পণ্য লোড-আনলোডের কাজে ব্যবহৃত পুরনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এম. এম. এন্টারপ্রাইজ’-এর অধীনে কর্মরত শ্রমিকদের অনেক মাসের ন্যায্য পাওনা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি না মেনে উল্টো প্রশাসনের পছন্দের নতুন ভেন্ডর এনে তাদের রুজি-রুজিতে হাত দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলেই শ্রমিকদের ওপর বহিরাগতদের দিয়ে হামলা চালানো হয় এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো হয়।
তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত সত্য গোপন করে কারখানা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় নিরীহ শ্রমিক, ইউপি সদস্য এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে থানায় কাল্পনিক ও মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে চাঁদাবাজির তকমা দিয়ে কারখানা প্রশাসন মূলত তাদের নিজস্ব অপকর্ম ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শ্রমিকরা বলেন, “আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুর চাই না। দীর্ঘদিন ধরে রক্ত পানি করে আমরা এই কারখানায় কাজ করছি। কিন্তু ম্যানেজারের অন্যায্য সিদ্ধান্ত ও শ্রমিক নির্যাতনের কারণে আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের ন্যায্য পাওনা না দেওয়া পর্যন্ত এবং উক্ত অত্যাচারী ম্যানেজারের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের পর কারখানা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে সমাধানের আশ্বাস দিলে মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবি, কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে না দিয়ে ভুয়া অভিযোগ এনে পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, যাতে প্রকৃত সমস্যা আড়াল করা যায়। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করার জন্য তারা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

