আজ , ।   

চট্টগ্রামের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দিন-রাত ঘাম ঝরাচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশ

আরো খবর

মো: জহির উদ্দিন বাবর: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবং নগরীর সড়কগুলোতে যানজটমুক্ত স্বাভাবিক চলাচলা নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।

মোড়ে মোড়ে সিএমপি ট্রাফিক পুলিশের প্রহর। নগরীর জেএম সেন হল, আন্দরকিল্লা, জামালখান, দেওয়ানজী পুকুর পার, প্রবর্তক মোড়, পাথরঘাটা, চকবাজার এবং আগ্রাবাদের মতো ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কড়া নজরদারি রাখছেন ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক ইনস্পেক্টর (টিআই), সার্জেন্ট এবং পুলিশ সদস্যরা। তীব্র গরম ও যানবাহনের চাপ উপেক্ষা করে

সড়কের মোড়ে মোড়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরবিচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন তারা। পূজা উপলক্ষে নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ সংলগ্ন সড়কগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মূল সড়কগুলোতে সাময়িক রুট ডাইভারশন দেওয়া হচ্ছে, যাতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে হেঁটে ও নিরাপদে মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারেন।

সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার দুর্ভোগ এড়াতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামবাসী। নগরীর এক দর্শনার্থী জানান, “পূজার সময় সাধারণত শহরের কেন্দ্রস্থলগুলোতে প্রচণ্ড যানজট থাকে। কিন্তু এবার মোড়ে মোড়ে পুলিশ সার্জেন্ট ও টিআই সাহেবদের সরাসরি দাঁড়িয়ে থেকে ট্রাফিক সামলাতে দেখা যাচ্ছে। এতে করে পরিবার নিয়ে পুজো দেখতে বেশ সুবিধা হচ্ছে।”

চট্টগ্রামে এবার প্রায় ৪০০টি নতুন পূজামণ্ডপ যুক্ত হয়েছে এবং নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া পুরো জেলায় প্রায় ২ হাজার ২৮৭টি পূজামণ্ডপ রয়েছে, যার বড় অংশে প্রতিমা বিসর্জন হবে—ফলে বিসর্জনের দিনগুলোতে সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট ও ইন্সপেক্টরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যই তাদের মূল অগ্রাধিকার। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সড়কে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত যানজট যাতে তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে ট্রাফিক বিভাগের প্রতিটি সদস্য ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থায় নিয়োজিত রয়েছেন।

ট্রাফিক পুলিশের এই দায়িত্বশীল ভূমিকা ও আত্মত্যাগের ফলে চট্টগ্রামে দুর্গাপূজা এবার শুধু আনন্দময়ই নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল ও স্বস্তিদায়ক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -