আজ , ।   

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের হাতধরে জালিয়াতির মহা-উৎসবে এনএলআই

আরো খবর

এমএইচ চৌধুরী: স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে জনস্বার্থে গড়ে উঠা অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান (IDRA) ২০১১ সালের ২৬শে জানুয়ারী বীমা কোম্পানি নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতির বাহিরে প্রতিষ্ঠানটিতে চলছে এখন দূর্নীতির মহোৎসব। স্বৈরচারী আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে বিগত দিনে আইডিআরএ-(IDRA) কে ব্যবহার করলেও এখন তা চলছে টাকার বিনিময়ে প্রকাশ্য জালিয়াতিতে। ধারাবাহিকতার একই পথে ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নির্বিঘ্নে তিন বছর কাটিয়ে দিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড মোঃ কাজিম উদ্দিন। আইডিআরএ সার্বিক সহযোগিতায় নিরাপদ রাস্তা পার করে পুনরায় নিয়োগপত্র নবায়ন করতে সকল প্রকার সহযোগিতা করছেন স্বয়ং বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র কর্তাবাবু। রক্ষক যখন ভক্ষক হয় তখন জালিয়াতি দেখবে কে..??। সারা বিশ্বে যখন বীমা কোম্পানি গুলো সর্ব সাধারণের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সহজ বিনিয়োগে নিরাপদ জীবন গড়ে তোলার জন্য মরিয়া বাংলাদেশের বিমা খাতে তখন চলছে অবাধে লুটপাট অনিয়ম দূর্নীতি। সরকার আসে সরকার যায় ক্ষমতার অপব্যবহারে বীমা খাতে সংকটের শেষ নাই। নিরাপদ জীবনের আশায় জনগণ রাখছে টাকা, কোম্পানি গুলোর আঙ্গুল ফুলিয়ে কলাগাছ হয়ে জনগণকে দিচ্ছে ধোঁকা। যথাসময়ে পলিসি বোনাস, মেয়াদ পূর্তি শেষে জমানো টাকা না পেয়ে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে মাঠপর্যায়ে গ্রাহকদের, কর্মীদের এখনো মার খেয়ে এলাকা ছেড়ে পালাতে হচ্ছে শুধু কোম্পানি গুলোর অনিয়মের জন্য। তারপরও ঘুম ভাঙাতে পারেনি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের। উল্টো আইডিআরএ কর্মরত বড় পদ ধারীদের অনিয়ম ও দূর্নীতির কারণে বিতর্কিত হচ্ছে পুরো বীমাখাত। কে শোনে কার কথা, চোরে শোনেনা ধর্মের কথা, এ-যেন উল্টো পথে চলছে দেশ।

কোন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা যদি জালিয়াতি করে পদে বসেন, সেখানে সাধারণ গ্রাহকদের শঙ্কা থেকে যায় দূর্নীতির। কারণ দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই খাতে অনিয়ম দূর্নীতি লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহার, বিমা খাতে বড় সংকট এখন গ্রাহকের জমানো টাকা ফেরত পাওয়া। তারমধ্যে সিও বা মূর্খ্য নির্বাহী কর্মকর্তার সনদ জালিয়াতি করে চাকুরীতে বহাল তবিয়ে রাখা মানে পুরো প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার সামিল।

বিগত দিনে ন্যাশনাল লাইফের সিও কাজিম উদ্দিনের শিক্ষাসনদ নিয়ে জোড়ালো প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও তার নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। আইডিআরএ’র নিয়োগ অনুমোদনপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কাজিম উদ্দিনকে নিয়োগ প্রদানের জন্য প্রথমবার ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে আইডিআরএ আবেদন করে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ। তাদের এ আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১ নভেম্বর থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে তাকে নিয়োগ প্রদান করে আইডিআরএ।

আইডিআরএ’র দেওয়া নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফের ভূয়া সার্টিফিকেট দিয়ে নিয়োগ নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়। টাকার বিনিময়ে বিতর্কিত ভুয়া সার্টিফিকেট যাছাই-বাছাই ছাড়াই পূনরায় তাকে অনুমোদন দেওয়ার জন্য আইডিআরএ সিনিয়র দুই কর্তা তড়িগড়ি শুরু করে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ফাইল নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। অথচ এই অনুমোদন নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্বয়ং বীমাখাত সংশ্লিষ্টদের। ছোট কোম্পানির সিইওদের অনুমোদন পেতে নাকানিচুবানি খেলেও বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র বলে মনে করছেন অনেকে।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সহায়তায় অবৈধ নিয়োগ (অনুমোদনপত্র) অনুযায়ী, কাজিম উদ্দিন নিয়োগ পরবর্তী প্রতিমাসে ছয় লাখ টাকা করে মাসিক সম্মানি, চিকিৎসাভাতা, টিআইডিএ, ব্যক্তিগত গাড়ি, ড্রাইভার এবং জ্বালানিসহ অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করে আসছেন প্রতিনিয়ত। যা আইডিআরএ নীতিমালা অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ, কথায় আছে যিনি আইন তৈরী করেন তিনিই আইন ভাঙেন, এমন নীতির মত।

অতি সম্প্রতি ন্যাশনাল লাইফের সিও কর্তৃক আইডিআরএ’র কাছে নিয়োগ পূর্ণনবায়ন করার জন্য দাখিল করা জীবন বৃত্তান্তসহ সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৮৪ সালে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কাকৈরতলা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ পেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় (SSC)তে উর্ত্তীণ হন তিনি।

এরপর জেলা শহরের নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় বিভাগ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক (HSC)তে উর্ত্তীন হন। কাজিম উদ্দিন ১৯৮৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার দীর্ঘ ৩২ বছর পর সরকার অনুমোদন পরবর্তী অনিয়মের জন্য বন্ধ থাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদিনের চেরাগের মত ২০১৮ সালে বিবিএ এবং ২০১৯ সালে এমবিএ পাসের সার্টিফিকেট আবিষ্কার করেন। যা বাংলাদেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে হার মানিয়েছেন কাজিম উদ্দিন। কোম্পানির সিইও পদে নিয়োগ লাভের সময় আইডিআরএ’কে উচ্চশিক্ষার সনদপত্র হিসেবেও তিনি দাখিল করেছেন অনুমোদনহীন কথিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রয় করে নেওয়া বিবিএ ও এমবিএর সনদ।

দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের অনুসন্ধানী টিমের হাতে আসা কাজিম উদ্দিনের সনদ অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা থেকে ২০১৮ সালে সিজিপিএ ৩.৩৫ পেয়ে চার বছর মেয়াদি বিবিএ সম্পন্ন করেন, এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরের বছর ২০১৯ সালে সিজিপিএ ৩.৪৩ পেয়ে একবছর মেয়াদি এমবিএ সম্পন্ন করেন যা কখনোই সম্ভব নয়। সবকটি সনদ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর কথিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সনদ প্রাপ্তির মধ্যে সময়ের ব্যবধান দীর্ঘ ৩২ বছর।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে জানা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অমান্য, প্রাশসনিক অব্যস্থাপনা, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা এবং মানহীন শিক্ষাব্যবস্থার কারণে ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে ইউজিসি। পরবর্তীতে সরকারের সময় বন্ধের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যার রিট পিটিশন নং- ১৬৭১/২০১৪। প্রায় একদশক পর আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পেলেও নানান জটিলতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমের অনুমতি মেলেনি ইউজিসির। যা অদ্যাবধি স্থগিত রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, দ্যা ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা (ইউএনআইসি) সরকারের অনুমোদন লাভ করে ১৯৯৫ সালে, কিন্তু নানা অনিয়মের কারণে ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করার পর কাজিম উদ্দিনের বিবিএ ও এমবিএ সনদের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ এর ড. মোঃ মহিবুল হাসান বলেন, ২০০৬ সালে ২২ অক্টোবর থেকে বন্ধ থাকা ইউনিভার্সিটি ২০১৮/১৯ সালে বিবিএ, এমবিএ একাডেমিক সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রশ্নেই আসেনা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মামুন আহমেদ বলেন, ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার শিক্ষা কার্যক্রমের অনুমোদনই নেই, সুতরাং সেখান থেকে যে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে সেটা ভুয়া। এই সনদপত্র ব্যবহার করে কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ নেই।

বীমা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ন্যাশনাল লাইফ দেশের শীর্ষস্থানীয় জীবন বীমা কোম্পানির তালিকায় থাকলেও তাদের দূর্নীতি বন্ধ হয়নি। দেশের লাখ লাখ মানুষের আমানত রক্ষিত কিন্তু সেই রক্ষই এখন ভক্ষকের অবস্থানে। কোম্পানিতে মুখ্য নির্বাহীর পদে ভুয়া সনদ দিয়ে নিয়োগ কোনভাবেই কাম্য নয়। এ ধরণের কর্মকান্ডে সরকারের উচিত বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বীমাখাতে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিমালা বাস্তবায়ন করা কখনো সম্ভব নয়।

অর্থনীতিবিদের মতে, ঘুষ দূর্নীতির কারণে দেশের প্রতিটা সেক্টর শেষ হয়ে যাচ্ছে, সরকার একার পক্ষে দূর্নীতি বন্ধ করা কঠিন। দেশের জনগণ সচেতন হলে দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারবে। আইডিআরএ’ একটি ছোট প্রতিষ্ঠান ঘুষ দূর্নীতি করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে সরকার’কে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ বন্ধ করে ক্যাডার ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলে এই সেক্টরে দায়িত্ব পালনে অবহেলা দূরীকরণ এবং সঠিক তদারকি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন। এখন ভুক্তভোগীরা আইডিআরএ অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগের বিষয়ে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সিইও কাজিম উদ্দিনকে মুটোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার ব্যবহারিত মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠালে তিনি পিআর সেকশনে কথা বলার জন্য বলেন। পরবর্তী ন্যাশনাল লাইফের মুখ্য পাত্রের সাথে ভুয়া সনদ দিয়ে সিইও পদে অনুমোদনের বিষয়ে জানাতে চাইলে তিনি নিউজ প্রকাশ না করতে বলেন।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন”কে একাধিক বার কল করলেও ফোন রিসিভ না করায় মেসেজ দিলে তিনি পিআর এর সাথে কথা বলার জন্য জানান। জাল সনদে সিও কাজিম উদ্দিনের চাকুরী নবায়নের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আইডিআরএ লাইফ সদস্য আপেল মাহমুদের মুঠোফোনে কল দিলে তিনিও পিআর এর সাথে কথা বলতে বলেন, পরবর্তী তার হোয়াটঅ্যাপে সিও কাজিম উদ্দিনের জাল সার্টিফিকেটের কপি পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

আইডিআরএ’র মুখপাত্র সাদিক আল ইমরানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ম্যাডাম কোন বক্তব্য দিতে পারবেনা, আপনার যদি কোন বক্তব্যের প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে বলতে পারেন। চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী ১ মাসের মধ্যে চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করার কোন সুযোগ নাই। ন্যাশনাল লাইফের সিও কাজিম উদ্দিনের জাল সার্টিফিকেটে নিয়োগ ও প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন এগুলো এখন সব জায়গায় চলে। এতে কোন সমস্যা নেই, সাধারণত পূর্বে একবার অনুমোদন পেয়ে গেলে পরবর্তীতে নিয়োগ নবায়নের ক্ষেত্রে তা যাছাই-বাছাই করা হয় না। তবে কউ যদি লিখিতভাবে আইডিআরএ অভিযোগ করে অবশ্যই কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করার চিন্তা করা হয়। আপনার প্রয়োজন হলে আবেদন করে দেখতে পারেন বলে মন্তব্য করেন আইডিআরএ মুখপাত্র।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -