শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের শিবালয় সংবাদ সংগ্রহ কালে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার তেওতা ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক মো: মাহবুবুর রহমানরে বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ১ নং তেওতা ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
হেনস্তার শিকার মাইটিভি শিবালয় প্রতিনিধি লিটন আহম্মেদ ও দেশ রুন্তরের শিবালয় প্রতিনিধি ইমরান নাজির।
ভূক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, মা’ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় জেলেদের চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার হচ্ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় মাইটিভি ও দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি ওই পরিষদে সংবাদ সংগ্রহ করেত যান। এ সময় কয়েকজন সুবিধাভোগীদের সাথে সাংবাদিকদের কথা বলতে দেখে চাল দেয়া বিরত রাখেন। চাল কম দেয়ার বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ‘এক্রিডিটেশন কার্ড’ দেখতে চায়। সাংবাদিকরা পরিচয়পত্র দেখালে ও এক্রিডিটেশন কার্ড ও নেই বললে তথ্য দিতে রাজি নন বলে জানান। স্থানীয় পর্যায়ে সরকার এ কার্ড ইস্যু করে না- সাংবাদিকরা এ কথা জানালে চিহ্নিত কয়েক ইউপি মেম্বার ও লোকজন হেনস্থা করে। সাংবাদিকরা তথ্য চাইলে এক্রিডিটেশন কার্ড দেখাতে পারেননি বলে মাহবুবুর রহমান উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত মেম্বার ও কর্মচারীদের ভিডিও করার নির্দেশ দেন।
ভূক্তভোগী সাংবাদিক লিটন আহম্মেদ বলেন, উপকারভোগীদের ২৫ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও ২২ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা বিয়টি আমাদের জানালে আমরা তেওতা ইউনিয়ন পরিষদে যাই। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর একাধীক ভূক্তভোগীদের চাল মেপে দেখান। সেখানে ২২ কেজি চাল ছিল। বিষটি জানতে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানকে প্রশ্ন করলে তিনি প্রথমেই এক্রিডিটেশন কার্ড দেখতে চান। আমাদের পরিচয় পত্র দেখালে তিনি এক্রিডিটেশন কার্ড না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত সকলকে আমাদের ভিডিও করা নির্দেশ দেন এবং সেনস্তা করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন অশোভন আচরণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গির আলন বলেন, পেশাদার সাংবাদিকরা যখন তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করবে তখন তাকে সহযোগিতা করতে হবে। যদি যহযোগিতার না করে বিব্রত করে এটা স্বাভাবিক না। জেলায় পরবর্তী মিটিংয়ে এ বিষটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্মকতাদের সাথে আলোচনা করা হবে।
আলোকদিয়া গ্রামের সুবিধাভোগী মো: ইউনুছ আলী মোল্লা বলেন, তিনি জেলে কার্ডের সরকারি চাল তিন বছর ধরে পেয়ে আসছে। যেখানে ২৫ কেজি চাল পাবার কথা তিনি সেখানে ২২ কেজি চাল পেয়েছেন। চাল দেয়ার সময় ময়ে হয়েছিল চাল কল দিচ্ছি। জিজ্ঞেস কললে তারা বলেছেন চাল সঠিক পরিমাপেই আছে।
অপর গান্ধাইর গ্রামের শামিন হলদার বলেন, দেয়ার কথা ২৫ কেজি কিন্তু দিয়েছে ২২ কেজি। যখন চাল দিয়েছিল তাদের বলা হয়েছে চাল কম আছে কিন্তু তারা মেপে দেখতে বলেছে। এখন মেপেতো দেততেছি চাল ২২ কেজি হয়েছে। এ রকমন অনেকেরই চাল কম হয়েছে।
নাম-পদবী প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপি নেতা জানান, চাল কম দেয়ার বিষয়টি শুনে তিনি এখানে এসেছেন। চাল দেয়ার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের সাথে তার কথা হয়েছে এবং তাকে জানিয়েছে মেম্বারদের কথায় চাল কম দেয়া হয়েছে। এ ইউনিয়নে মাছ শিকার-ব্যবসার সাথে যুক্ত লোকের সংখ্যা ৫/৬ শতের বেশী নয়। দ্রুত যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত তালিকা তৈরি না করা হলে প্রকৃত জেলের পরিবর্তে ভূয়া তালিকার মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমান অর্থ অপচয় হবে।
মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী বলেন, উপজেলায় ৪ হাজার ৭৩ জন সুবিধাভোগী জেলে রয়েছে। এর মধ্যে তেওতা ইউনিয়নে তালিকাভূক্ত ১৬শ’ জেলের মধ্যে ১৪০০ জনকে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। জেলেদের চাল বিতরনের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চাল দেয়া হয়। আজ তেওতা ইউনিয়নে যে ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থাকার কথা তিনি বিশেষ কারণে উপস্থিত থাকতে পারেনি। যে কারণে আজ থেকে নতুন ট্যাগ অফিসার দেয়া হয়েছে। চাল কম দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা তেওতা ইউপি প্রশাসক মাহবুবুর রহমানের কাছে চাল কম দেয়ার বিষয়ে জানতে চাললে, উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান কোন জেলের চাল কম হয়েছে। যদি এরম কোন ব্যাক্তি থেকে থাকে তাকে মেম্বাদের উপস্থিতিতে ডেকে এনে বাকি চাল দিয়ে দেবো। নির্ধারিত পরিমানের চেয়ে কম চাল দেয়ার সুযোগ নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রানী কর্মকার বলেন, সুবিধাভোগীদের চাল কম দিয়ে থাকে তাহলে বিষটি খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

