শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মো: আমিনুল ইসলাম আলামিন, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন মাসব্যাপী ‘বইপড়া উৎসব ( ২০২৬ ) এর পুরস্কার এবং সার্টিফিকেট বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার-৪ ( শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মুজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি সহ বিশেষ অতিথিরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক দেবাশীষ দাশ।
প্রথমে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত সহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে এবং শিক্ষার্থীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী পাঠক ও শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন, প্রধান অতিথি সহ বিশেষ অতিথিরা।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত ২১ জুলাই শুরু হওয়া এ উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চায় আগ্রহ বাড়ানো এবং সৃজনশীল ও মননশীল প্রজন্ম গড়ে তোলা।
বই পড়ি, মন গড়ি’ স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় (২৫) হাজার শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উন্মুক্ত ক্যাটাগরিতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ পাঠকদের ও এ উদ্যোগে যুক্ত করা হয়। প্রথম ধাপ পেরিয়ে দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ৯৫৭ জন। সেখান থেকে চূড়ান্ত পর্বে ৭৬০ জন অংশগ্রহণ করেন । আটটি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন কারীদের, প্রধান অতিথির পক্ষ থেকে, ফাতেমা জাহান, রাজশ্রী হালদার, অদ্রিজা পাল, আসাদুজ্জামান শিহাব, উম্মে কুলসুম মীম, তাসনুভা সুহা, উম্মে নাফিসা মাইমুনাহ ও ফাতেমা সুলতানাকে ল্যাপটপ দেওয়া হয়। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে আরও নয়জন করে সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট ও বই পেয়েছে। এছাড়াও চূড়ান্ত পর্বে ৭৬০ জন অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ও সার্টিফিকেট এবং বই দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী, অভিভাবক, সাধারণ পাঠক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির মধ্য দিয়ে এ উদ্যোগ থেমে থাকবে না।বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজে বই পড়ার পরিবেশ তৈরিতে তা ভূমিকা রাখবে। তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে বাস্তব জীবনে সাফল্যের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বিকাশে বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

