আজ , ।   

রোহিঙ্গা সংকটের দায় বাংলাদেশের একার নয়: আইনমন্ত্রী

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মানবিক বিবেচনায় প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষের দায়িত্ব একা বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তুরস্কের ইস্তান্বুলে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিট-ইস্তান্বুল, ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানের দায়িত্বও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের মর্যাদা, নাগরিকত্ব ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর চাপ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় শুধু বাংলাদেশের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আসাদুজ্জামান বলেন, সংকটের শুরু থেকেই দেশটি বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। কক্সবাজারে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ানের সফর এবং সংকট সমাধানে দেশটির কূটনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করে। তবে সংহতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়েও বক্তব্য

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে বাংলাদেশে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ। চাকরি ও সরকারি সেবায় বৈষম্যের প্রতিবাদে তাঁরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনেও এসব ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানদণ্ড অনুসরণ করে গুম এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ, সীমান্ত নির্ধারণ, জ্বালানি বাজার, মেধাস্বত্ব ও চুক্তি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তঃসীমান্ত বিরোধ বাড়ছে। এসব বিরোধ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানে আন্তর্জাতিক সালিশি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা বাড়াতে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা যেন শুধু ক্ষমতাবান ও আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা সাশ্রয়ী, স্বচ্ছ ও সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া প্রয়োজন।
ঘোষণার চেয়ে বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য ও বড় বড় ঘোষণা দিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ কমানো বা নিপীড়নের অবসান ঘটানো সম্ভব নয়। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এমন একটি বৈশ্বিক দায়িত্ববণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো একটি দেশের পক্ষে সমাধান করা কঠিন—এমন সংকটগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা যায়।

আইনমন্ত্রীর মতে, আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিটের মতো আয়োজন বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিচারক, আইনজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে আরও ন্যায়সংগত ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

৮ ও ৯ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তান্বুলে ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিট-ইস্তান্বুল, ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিশ্বের ৭৫টি দেশের বিচারমন্ত্রী, বিচারক, আইনবিদ ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নিচ্ছেন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -