আজ , ।   

বিদায়ের মঞ্চে অশ্রুসিক্ত মেসি, বললেন—‘আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর কিছু নেই’

আরো খবর

স্পোর্টস ডেস্ক :

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এবার যেন বিদায়ের ঘণ্টা বাজিয়ে দিলেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে অসংখ্য স্মৃতি, সাফল্য আর রেকর্ডের জন্ম দেওয়া এই কিংবদন্তির বিদায়ী মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সতীর্থ, কোচ ও সমর্থকেরা। নিজেও হাসি ও কান্নায় ভেজা কণ্ঠে জানালেন জাতীয় দলের প্রতি নিজের ভালোবাসা, সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা শঙ্কার কথা।

মেসিকে ঘিরেই এস্তাদিও মনুমেন্তালে সাজানো হয়েছিল বিশেষ আয়োজন। মাঠের পারফরম্যান্সেও সেই আবেগের প্রতিফলন দেখা যায়। আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে উদযাপনকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে আর্জেন্টিনা। তিন গোলেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে ছিলেন মেসি। নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে দুটি গোল করানোর পর পেনাল্টি থেকে নিজেই করেন শেষ গোলটি।

ম্যাচ শেষে মাইক্রোফোন হাতে নেওয়ার সময় মেসির মুখে ছিল হাসি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই আবেগে ভিজে ওঠে তার চোখ। বক্তব্যের শুরুতেই প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির কথা স্মরণ করেন তিনি।

মেসি বলেন, “কী বলব, ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। মাথায় অনেক কিছু ঘুরছে। আজকের রাতে সবার আগে আমার বাবার কথাই মনে পড়ছে। আপনাদের সবাইকে শুধু ধন্যবাদ জানাতে পারি। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সির প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য ছিল বিশাল গর্বের।”

আর্জেন্টিনার হয়ে লড়াই ও আত্মত্যাগের কথাও তুলে ধরেন মেসি। তার ভাষায়, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তারা কখনো লড়াই থামাননি এবং নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

“আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর অনুভূতি আর কিছু হতে পারে না। আমরা কখনো লড়াই থামাইনি। বিশ্বকাপেও নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। এই জার্সির জন্য আমরা সবসময় সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করেছি—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”

বিদায়ের সিদ্ধান্ত যে তার জন্য সহজ নয়, সেটিও স্পষ্ট করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে ফিরতে না পারার চিন্তা তাকে কষ্ট দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

মেসি বলেন, “এখানে আর ফিরে আসতে না পারার ভাবনাটা ভীষণ কষ্টের। সত্যি বলতে, সারা জীবন আমি এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর কিছু একজন ফুটবলারের জীবনে হতে পারে না। আমি চিরকাল এখানে থাকতে চাই। কিন্তু মনে হচ্ছে, বিদায় বলার এটাই সঠিক সময়।”

সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভুল করেননি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা। তাদের ‘বীর যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে মেসি বলেন, তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বড় স্বপ্নগুলো পূরণে সতীর্থদের অবদান ছিল অসামান্য।

“তোমরা আমার সব স্বপ্ন সত্যি করেছ—বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা। আমি সবসময় বীর যোদ্ধাদের দিয়ে ঘেরা ছিলাম। এই পরিবেশটাকে আমি খুব মিস করব। আমি যেখানেই গিয়েছি, স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মনে হতো, আমরা যেখানেই খেলছি সেটাই যেন আমাদের নিজেদের ঘর।”

এরপর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উদ্দেশে শুভকামনা জানান মেসি। একই সঙ্গে জাতীয় দলের সামনে কঠিন সময় আসতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তার মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনাকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

“আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা মিস করব। এখন থেকে আমি মাঠের বাইরে থেকে এই ছেলেদের এবং যারা ভবিষ্যতে আসবে, তাদের সমর্থন দিয়ে যাব। কঠিন সময় সামনে আসছে। সেই সময় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কিছু মানুষ আছে যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায়। বড় কিছু অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে হবে।”

সবশেষে সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়ে বিদায় নেন মেসি। নিজের দেশ ও স্বপ্নপূরণের কথা বলতে গিয়ে আবারও আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি।

মেসির শেষ কথাগুলো ছিল, “আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাই না। এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি এবং খুব মিস করব। একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে আমি গর্বিত। নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পেরেছি—এ জন্য আমি সত্যিই গর্বিত।”

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

- Advertisement -
- Advertisement -