জোবায়দুর রহমান জুয়েল, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ১৭৬ বছরের কালীরবাজার কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটি নিয়ে ফুঁসে উঠেছে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের একনিষ্ঠ কর্মী মিলন কুমার বর্মণ দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কালীরবাজারের কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সভাপতির পদ আঁকড়ে ধরে আছেন। ক্ষমতার দাপটে সভাপতি হিসেবে তিনি মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি প্রণামীর টাকাও হজম করেছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে চুপ করিয়ে দিতেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেন।
গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রোববার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফুলছড়ির সনাতন হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেমচন্দ্র বর্মণ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূষণ কুমার দাস, জগদীশ বর্মণ, নারায়ণী দেবী, ধীরেন্দ্র নাথ বর্মণ, গোপাল বর্মণ, খিলন রবিদাস প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০০৬ সালে ফুলছড়ি পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মিলন কুমার বর্মণকে এক বছরের জন্য সভাপতি করে কমিটি গঠিত হয়। এরপর সনাতন হিন্দু সমাজ বারবার তাগিদ দিলেও দলীয় প্রভাবে তিনি আর কমিটি করতে দেননি। তিনি একক সিদ্ধান্তে মন্দিরের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে মন্দিরের নামে আওয়ামী লীগের প্রয়াত এমপি অ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়া ও মাহমুদ হাসান রিপনের দেয়া প্রকল্পের কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া তিনি প্রতিবছর দুর্গাপূজার প্রণামী ও মন্দিরের দোকান ভাড়ার টাকাও হজম করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকল সনাতনীর উপস্থিতিতে মন্দির কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির পরিচিতি উপলক্ষে ১৬ সেপ্টেম্বর মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু একই দিনে ওই স্থানেই মিলন কুমার বর্মণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সভা আহ্বান করেন। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় পরিচিতি অনুষ্ঠান বাতিল করেন সাধারণ সনাতনীরা।
আধিপত্য বিস্তার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে হয়রানি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও আর্থিক দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে মিলন কুমার বর্মণকে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় নেওয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে একই দাবিতে ফুলছড়ির সনাতন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বরাবরে স্মারকলিপি দেয়া হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

